Menu

প্রবাস বাংলা ভয়েস ডেস্ক ::‌ চলছে আমের মৌসুম। দামে সস্তা তাই সবার ঘরে ঘরে এখন আম। সস্তায় পেয়ে অনেকে বস্তায় ভরে বেশি পরিমাণে আম খেয়ে ফেলছেন। সমস্যাটা সেখানেই, অতিরিক্ত আম খেলে শরীর তো পুষ্টি পাবেই না, উল্টো অসুস্থ হয়ে পড়তে পারেন, এমনটাই বলেছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। অতিরিক্ত আম খাওয়ার ফলে ডায়াবেটিসসহ ওজন বেড়ে যাওয়া, বদহজম, পেটে ব্যথা ইত্যাদি নানান ধরনের সমস্যার সৃষ্টি হতে পারে। এছাড়া বেশি আম খাওয়ার আরো কিছু পার্শ্ব প্রতিক্রিয়াও আছে। চলুন জেনে নেওয়া যাক সেগুলো কী কী-

১.আমে প্রাকৃতিক ভাবেই চিনির পরিমাণ বেশি, তাই এটি ডায়াবেটিস আক্রান্তদের জন্য ক্ষতিকারক হতে পারে। আপনি যদি ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হন, তবে আপনাকে অবশ্যই আম খাওয়ার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। ফলের রাজা আমে ক্যালরির পরিমাণও বেশি। যা দ্রুত ওজন বাড়িয়ে দিতে পারে। একটি মাঝারি আকারের আমের মধ্যে থাকে ১৫০ ক্যালরি। সুতরাং আপনি যদি ওজন কমাতে চান, তাহলে আম খাওয়া থেকে দূরে থাকুন।

২. অতিরিক্ত কোনো কিছুই ভালো না। আর সেটা যদি হয় স্বাস্থ্যের বিপরীতে, তা হলে তো আরো খারাপ। অতিরিক্ত আম খেলে বদহজম হতে পারে। আরো জেনে রাখা ভলো, অতিরিক্ত আম খাওয়া ডায়ারিয়ার কারণ হতে পারে। আম প্রচুর পরিমাণে আঁশসমৃদ্ধ, যা অতিরিক্ত খেলে ডায়ারিয়ার সমস্যা হতে পারে। অনেকে আম ও দুধ এক সাথে খেয়ে থাকেন, আয়ুর্বেদ চিকিৎসা মতে, এটি উচিত নয়।

৩.আমের মধ্যে ইউরিশিয়াল নামক একটি রাসায়নিক থাকে। এই রাসায়নিক অনেকের শরীরেই অ্যালার্জির কারণ হতে পারে। এর ফলে বিভিন্ন রকমের চর্মরোগ দেখা দেয়। এই রাসায়নিকের ফলে ত্বকের সমস্যা যেমন- ত্বক ফুলে ওঠা, ফোস্কা এবং চুলকানি হতে পারে।

৪.আম অনেকের জন্য অ্যালার্জির কারণ হতে পারে। এর ফলে চোখ ও নাক দিয়ে পানি পড়া, শ্বাসকষ্ট, হাঁচি, পেটে ব্যথা ইত্যাদি সমস্যা হতে পারে। আম খাওয়ার পরে এসব লক্ষণ দেখা দিলে দেরি না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। অন্যদিকে, আম খাওয়ার পর অনেকেই ‘ম্যাংগো মাউথ’ সমস্যার সম্মুখীন হন। এর ফলে মুখের মধ্যে চুলকানি, ফোলাভাব এবং মুখের চারপাশে ফোস্কা, ঠোঁট এবং জিহ্বায় জ্বালা-পোড়াভাব হতে পারে।

৫.আম এতোই মজার যে এর স্বাদে-গন্ধে মুগ্ধ হয়ে অনেকেই একের পর এক আম খাওয়া শুরু করে দেন। কিন্তু আমে থাকা ছত্রাক কারো কারো শরীরে প্রবেশ করলে জ্বরের কারণ হতে পারে। আমবাত বা ছত্রাকজনিত একটি ত্বকের রোগ, যা ত্বকের ফুসকুড়ি, চুলকানি এবং ত্বকের লালচে ভাব সৃষ্টি করে। এই সমস্যাটি নির্দিষ্ট খাবার, স্ট্রেস বা ওষুধের কারণেও হয়ে থাকে।

৬.একাধিক গবেষণা দেখা গেছে, আম শরীরের উত্তাপ অনেক বাড়িয়ে তোলে। তাই গরমে অত্যাধিক আম খাওয়া এড়িয়ে চলুন। এছাড়া, বাতজনিত সমস্যায় যারা ভুগছেন, সেসব রোগীরা পরিমাণে অল্প আম খেতে পারবেন। অতিরিক্ত খেলে সমস্যা আরো বেড়ে যাওয়ার শঙ্কা আছে।

প্রবাস বাংলা ভয়েস/ঢাকা/ ০১ জুলাই ২০২১ /এমএম


Array