Menu

প্রবাস বাংলা ভয়েস ডেস্ক ::‌ করোনাকালে পর্যটনবন্ধ থাকলেও পুঁজিবাজারের তালিকাভুক্ত ভ্রমণ ও পর্যটন খাতের কোম্পানি সি-পার্ল বিচ রিসোর্ট অ্যান্ড স্পা লিমিটেড ব্যবসা ভালো করেছে। কোম্পানিটির সর্বশেষ ইপিএসও বেশ ভালো হয়েছে। কোম্পানিটির আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানা গেছে।

২০২০-২০২১ চলতি অর্থবছরের নয় মাসে (জুলাই’২০-মার্চ’২১) কোম্পানিটির টার্নওভার ছিলো ৬৩ কোটি ১৪ লাখ ১০ হাজার টাকা। আলোচ্য সময়ে তাদের মুনাফা হয়েছে ১৪ কোটি ৫১ লাখ ৫০ হাজার টাকা। একই সময়ে কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ১.২০ টাকা। একই সময়ে শেয়ার প্রতি সম্পদ মূল্য (এনএভি) ছিলো ১১.২১ টাকা।

কোম্পানিটি ব্যবসার এমন খারাপ দিনেও ভালো আয় করে যাচ্ছে। তবুও কোম্পানিটির মেয়ারের প্রতি আগ্রহ কমেছে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের। আর সে সুযোগকে কাজে লাগিয়ে শেয়ারগুলো লুপে নিচ্ছে প্রতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা।

২০১৯ সালে পুঁজিবাজারের তালিকাভুক্ত এই কোম্পানিটি করোনাকালে পর্যটন খাতের এমন খারাপ অবস্থায়ও ব্যবসা কীভাবে ভালো করছে? কোম্পানিটির ব্যবসার পলিসি কি? এ বিষয়ে জানতে কোম্পানিটির সচিব আজহারুল মামুননের সঙ্গে ঢাকা টাইমস প্রতিবেদক একাধিকবার ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

শাহরিয়ার আলম নামে প্রাতিষ্ঠানিক একজন বিনিয়োগকারী বলেন, সি-পার্ল নিঃসন্ধেহে একটি ভালো কোম্পানি। করোনায় পর্যটন খাতে ধস নামায় এর প্রভাব কোম্পানিটির ওপরেও পড়েছে। তবে কিছুদিন পযটন কেন্দ্র খুলে দেওয়ায় কোম্পানিটি এই অল্প সময়ে ভালো ব্যবসা করেছে। কোম্পানিটির গ্রোথ ভালো। কোম্পানিটি বিনিয়োগকারীদের ভালো রিটার্ন দেবে বলে আশা করছি।

তিনি বলেন, ভালো রিটার্ন দেয়া কোম্পানিতে বিনিয়োগ করতে পারলে সেখান থেকে ভালো কিছু আশা করা যায়। ঠিক তেমনই সি-পার্লে সাময়িক সমস্যা হলেও কোম্পানিটির ভালো করার সম্ভাবনা অনেক বেশি। তাই কোম্পানিটিতে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ করছি।

বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, করোনার প্রভাব কিছাটা কমলে বা টিকা দেওয়া শুরু হলেই খুলে দেওয়া হতে পারে পর্যটন খাত। তখন কোম্পানিটি ভালো করবে। সে আশায়ই তারা এই কোম্পানিটিতে বিনিয়োগ বাড়াচ্ছেন। আবার কোম্পানিটির শেয়ারের দর ক্রমাগত কমার কারণে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কেউ কেউ বেরিয়েও আসছেন। আর সেই শেয়ারগুলোই প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা লুপে নিচ্ছে।

২০২০ সালে মার্চ মাসে বাংলাদেশে করোনা শনাক্ত হওয়ার পর দেশের পুঁজিবাজারে এর পভাব পরে। তখন থেকে পর্যটন খাতের এই কোম্পানিরি শেয়ারের দর কমাগত কমতে থাকে। কিন্তু বিএসইসির বেঁধে দেয়া ফ্লোর প্রাইজের কারণে কোম্পানিটির শেয়ার একটি নিদিষ্ট স্থানে আটকে ছিলো। ফ্লোর প্রাইজ আবার উঠিয়ে দিলে কোম্পানিটির শেযারের দর আবারও ক্রমাগতভাবে কমছে।

২০২০ সারে করোনার প্রথম দিকে কোম্পানিটির মেয়ার দর ছিলো ৮১.৮০ টাকা। যা বর্তমানে কমে অবস্থান করছে ৪১.৫০ টাকা। অর্থাৎ করোনার কারণে কোম্পানিটির শেযার দর কেমছে ৪০ টাকারও বেশি। এরই মধ্যে সবশেষ বছরে কোম্পানিটি শেয়ারহোল্ডারদের জন্য এক শতাংশ নগদ লভ্যাংশ ঘোষনা করে। এবারও আর্থিক প্রতিবেদন ভালো দেখা যাচ্ছে। আর্থিক প্রতিবেদন থেকে এমনটাই দেখা যাচ্ছে।

উল্লেখ্য, ২০২০ সালে জুন শেষে সি-পার্লের মালিকানায় সাধারণ বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ ছিল ২৩.৬৮ শতাংশ। চলতি বছরের মে শেষে তা গিয়ে দাঁড়ায় ২৩.৫৮ শতাংশে। সি-পার্ল স্পন্সরদের মালিকানায় রয়েছে কোম্পানিটির ৪৬.৮৩ শতাংশ। আর প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কাছে রয়েছে ২৯.৫৯ শতাংশ। যা ২০২০ সালে ছিলো ২৯.৪৯ শতাংশ।

২০০ কোটি টাকা অনুমোদিত মূলধনের এই কোম্পানির পরিশোধিত মূলধন ১২০ কোটি ৭৫ লাখ টাকা। বর্তমানে কোম্পানিটির দীর্ঘমেয়াদি ঋণ না থাকলেও রয়েছে স্বল্প মেয়াদি ঋণ। স্বল্পমেয়াদি ঋণের পরিমাণ পাঁচ কোটি ১১ লাখ টাকা। বর্তমানে কোম্পানিটির মোট শেয়ারসংখ্যা ১২ কোটি সাত লাখ ৫০ হাজারটি। ওআইসি ব্যতীত তাদের রিজার্ভ এবং উদ্বৃত্ত রয়েছে ৭০ লাখ টাকা।

নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) সি-পার্ল বিচ রিসোর্ট অ্যান্ড স্পা লিমিটেডকে ৬৭৬তম কমিশন সভায় প্রাথমিক গণপ্রস্তাব (আইপিও) অনুমোদন দেয়। কোম্পানিটি আইপিওতে এক কোটি ৫০ লাখ সাধারণ শেয়ার ছাড়ে। প্রতিটি শেয়ারের অভিহিত মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১০ টাকা। আইপিওর মাধ্যমে কোম্পানিটি পুঁজিবাজার থেকে ১৫ কোটি টাকা পুঁজি উত্তোলন করে।

পুঁজিবাজার থেকে উত্তোলন করা টাকা কোম্পানিটি রিসোর্টের বিভিন্ন কক্ষের ইনটেরিয়র, ফিনিশিং ও আসবাবপত্র ক্রয়, জমি ক্রয় এবং প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের খরচ খাতে ব্যয় করে। কোম্পানিটিকে পুঁজিবাজারে আনতে ইস্যু ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে ছিলেন বানকো ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড এবং প্রাইম ব্যাংক ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড।

প্রবাস বাংলা ভয়েস/ঢাকা/ ২৮ জুন ২০২১ /এমএম


Array