Menu

বাংলানিউজসিএ ডেস্ক :: শিক্ষা বোর্ডের নির্দেশনা উপেক্ষা করে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন বেসরকারি, বিশেষ করে নামিদামি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কর্তৃক ছাত্রছাত্রীদের বকেয়া টিউশন ফি পরিশোধের জন্য অভিভাবকদের ওপর ক্রমাগত চাপ সৃষ্টি করা কতটা যৌক্তিক, তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ভেবে দেখা উচিত।

করোনার কারণে সরকারি বিধিবিধান অনুসারে তিন মাসেরও বেশি সময় ধরে দেশে সব ধরনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। সবচেয়ে বড় কথা, উল্লিখিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোয় অধ্যয়নরত ছাত্রছাত্রীদের অভিভাবকদের অনেকেরই বর্তমানে চাকরি নেই। অনেকের চাকরি থাকলেও বেতন-ভাতা ঠিকমতো পাচ্ছেন না। এছাড়া ব্যবসা-বাণিজ্যের ওপর নির্ভরশীল অভিভাবকদের আয়ের খাত প্রায় শূন্যের কোঠায় পৌঁছেছে।

এ দুঃসময়ে কোনো চাপ নয়; বরং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে টিউশন ফি’র ব্যাপারে বিবেচনাবোধের পরিচয় দিলে সেটাই হবে শোভনীয়। অবশ্য কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ইতোমধ্যে শিক্ষার্থীদের টিউশন ফি ৫০ শতাংশ পর্যন্ত মওকুফ করেছে। এ পদক্ষেপ নিঃসন্দেহে মানবিক ও অনুকরণীয়। তবে আমাদের এ কথাও মনে রাখতে হবে, ছাত্রছাত্রীদের প্রদত্ত টিউশন ফি দিয়েই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা প্রদান করা হয়। এ অবস্থায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও অভিভাবক উভয় পক্ষেরই সহনীয় ও গ্রহণযোগ্য আচরণ করা উচিত এবং এমন এক পন্থা অবলম্বন করা উচিত যেখানে সমষ্টির মঙ্গল ও কল্যাণ নিহিত রয়েছে।

শিক্ষাগুরু সক্রেটিস থেকে শুরু করে নিকট-অতীতের টোল পণ্ডিতরা জ্ঞান বিতরণের কাজকে ঐশ্বরিক দায়িত্ব হিসেবে বিবেচনা করতেন। কিন্তু যুগ-পরিবর্তনের হাওয়ায় দৃশ্যপট আমূল পাল্টে গেছে। জ্ঞান বিতরণের কাজটি এখন পরিণত হয়েছে বাণিজ্যের প্রধান উপকরণে। দেশে ব্যাপক হারে প্রাইভেট টিউশনি ও কোচিং সেন্টারের আধিপত্যের পাশাপাশি শিক্ষা-বাণিজ্যে যুক্ত হয়েছে দেশের নামকরা বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর নাম।

জ্ঞানার্জনের উপায়, পদ্ধতি ও পরিবেশগত দিক থেকে এসব প্রতিষ্ঠান ব্যতিক্রমী বটে; তবে এ কথাও সত্য, ‘কড়ির জোর’ না থাকলে এখানকার ‘ছাত্রত্ব’ অর্জন করা সম্ভব নয়। বর্তমানে দেশের অর্থনীতির ওপর করোনাভাইরাস পরিস্থিতির বিরূপ প্রভাব পড়েছে, যার ভুক্তভোগী প্রায় সবাই। এ অবস্থায় আমাদের অবশ্যই সংবেদনশীল ও মানবিক হতে হবে।

পরিবর্তিত অবস্থার প্রেক্ষাপটে প্রধানমন্ত্রী নিজেও এ বিষয়টির প্রতি দেশবাসীর মনোযোগ আকর্ষণ করেছেন। কাজেই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও অভিভাবকদের মধ্যপন্থা অবলম্বনের মধ্য দিয়ে এ সমস্যা উত্তরণের পথ খোঁজা উচিত বলে আমরা মনে করি।

বাংলানিউজসিএ/ঢাকা/ ২৫ জুন ২০২০ /এমএম


Array