বাংলানিউজসিএ ডেস্ক :: আজ নতুন বছরের প্রথম দিন। গত বছরের পাওয়া না-পাওয়ার স্মৃতিকে ঝেড়ে ফেলে নতুন আশায় বুক বেঁধেছে বিশ্ববাসী। সেই ভাবনায় পিছিয়ে নেই আমাদের তরুণেরাও। মাদক ও দুর্নীতিমুক্ত সমাজ, তরুণবান্ধব পরিবেশ, যথেষ্ট কর্মসংস্থান, শিক্ষার মানের উন্নয়ন তথা দেশকে উন্নতির পথে এগিয়ে নেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় সব বিষয়ই আছে তাদের চাহিদার তালিকায়। নতুন বছরে তাই সড়কে নিরাপত্তা, যোগ্যতা অনুযায়ী কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি কিংবা সমাজের দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন, তথা তরুণবান্ধব সমাজ বা দেশ চায় এই তরুণেরা। আর তাদের এই সকল চাওয়ার পিছে কাজ করছে একটাই ভাবনা, দেশের মাটিতে নিরাপদ ভবিষ্যত্।
নতুন বছরে তারুণ্য জেগে উঠুক
—এম এম মুজাহিদ উদ্দীন
শিক্ষার্থী, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়
যেকোনো মূল্যে সুন্দর একটা আগামী চাই। সুন্দর আগামী মানেই আমাদের ভালোভাবে বাঁচা। আর ভালোভাবে বাঁচতে পারব তখন, যখন দেশের রাজনীতিক পরিস্থিতি স্থিতিশীল থাকবে। কৃষকেরা পাবে ফসলের ন্যায্যমূল্য। সরকারি বিভিন্ন প্রকল্প থেকে শত শত কোটি টাকা উধাও হয়ে যাবে না। ব্যাংকে হরিলুট হবে না। নারীরা নির্বিঘ্নে পথ চলতে পারবে। তরুণেরা পড়াশোনা শেষ করে বেকার থাকবে না। তাদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হবে। আর এসবের জন্য দেশের সরকারকে ক্যারিশমাটিক হতে হবে। পাশাপাশি দেশের সর্বস্তরের মানুষকে এগিয়ে আসতে হবে। আমরা সবাই ভালো হলে, তখন এমনিতেই আমাদের দেশ এগিয়ে যাবে। নতুন করে পথ চলতে পারব। নতুন স্বপ্নের কথা বলতে পারব। নেতিবাচক বিষয়গুলো দূরে রেখে ইতিবাচক বিষয় খুঁজে বের করবে তরুণেরা। বাস্তবতা কঠিন জেনেও তরুণ প্রজন্মকে ধৈর্য ধরে তা মোকাবিলা করতে হবে। শিক্ষাঙ্গনে সন্ত্রাসী কার্যকলাপ, চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, মাদকতা প্রভৃতি থেকে শিক্ষার্থীরা যেন দূরে থাকতে পারে এজন্য দেশের প্রশাসন ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রশাসনকে সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে। শিক্ষার্থীদেরও সচেতন থাকতে হবে। কোনো ধরনের রাজনৈতিক কর্মসূচি যেন শিক্ষাব্যবস্থার ক্ষতি না করে সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। অনেক তরুণই মাদকের ছোবলে নিজেদের জীবন শেষ করে দিচ্ছে। তরুণদের মাদকের হাত থেকে বাঁচাতে না পারলে অপূরণীয় ক্ষতি হয়ে যাবে। এ ব্যাপারে সচেতন হতে হবে। তরুণেরা শুভ কাজে অগ্রগামী হোক। নতুন বছরে তারুণ্য জেগে উঠুক।
বেকারমুক্ত তারুণ্য হোক ২০২০-এর শক্তি
—মো. রকিবুল হাসান
শিক্ষার্থী, চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়
সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পৃথিবীর অন্যান্য দেশ ও জাতির উন্নতির মতো আমরাও নানাবিধ সুযোগ-সুবিধাসহ এগিয়ে যাচ্ছি। সেই সঙ্গে আমাদের তরুণ প্রজন্মও তাল মিলিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে। তারপরও দেখা যায়, আমাদের মতো তরুণদের মধ্যে অনেকেই এই আধুনিক তথ্য ও প্রযুক্তির যুগে এসেও মাদকের সঙ্গে জড়িয়ে যাচ্ছে। এই মাদক শেষ করে দিচ্ছে মেধাবী শিক্ষার্থীদের। যে-ই মাদকের নেশায় পড়েছে, সে শেষ হয়ে যাচ্ছে। এর পেছনে রয়েছে অনুকূল পরিবেশের অভাব। স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে আরো আধুনিক ও ডিজিটাল হতে হবে। তরুণদের পড়াশোনার জন্য সুন্দর পরিবেশ প্রয়োজন। যদি তা পাওয়া যায়, তাহলে ভালো কিছু আশা করা যাবে। এতে করে মাদকের পরিচিতি কমে মাদকমুক্ত সমাজ ও তরুণ প্রজন্ম গঠিত হবে। আমি মনে করি, বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে আরো বেশি গবেষণামূলক পরিবেশ তৈরি করে দেওয়া উচিত। যদি সুযোগ-সুবিধা আরো বাড়ানো হয়, তাহলে তরুণেরা সৃজনশীল চিন্তা, আবিষ্কার ও উদ্ভাবনে আরো বেশি মনোযোগ দেবে। উচ্চপর্যায়ে শিক্ষার্জনের জন্যও গবেষণামূলক কাজ অনেক এগিয়ে রাখে। বিদেশে উচ্চ শিক্ষা অর্জনের জন্য আরো বেশি সুযোগ করে দেওয়া উচিত। বেকার সমস্যাও দিন দিন বেড়েই চলছে। গ্র্যাজুয়েটদের চাহিদার তুলনায় কর্মসংস্থানের সুযোগ খুবই অপ্রতুল। যা অর্থনৈতিক ও সামাজিক অবক্ষয়ের চালক। বেকারমুক্ত বাংলাদেশই হতে পারে ২০২০ সালের চালিকাশক্তি, যা দেশকে অনেকদূর এগিয়ে নিয়ে যাবে।
তারুণ্যের নেতৃত্বেই এগিয়ে যাবে বাংলাদেশ
—জারিন তাসনিম অর্নি
শিক্ষার্থী, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়
হে তরুণ তুমি প্রস্তুত হও, কারণ তুমিই বাংলাদেশ। তারুণ্য একটি প্রবল প্রাণশক্তি, যা অফুরন্ত সম্ভাবনা ও বর্ণিল স্বপ্ন দ্বারা উজ্জীবিত থাকে। একটি স্ফুলিঙ্গ তারুণ্যকে উদ্দীপ্ত শিখায় পরিণত করতে পারে, যা হয়ে ওঠতে পারে নক্ষত্রের মতো উজ্জ্বল। ‘সোনার বাংলা’ খ্যাত দেশটি যখন ২০৪১ সালের মধ্যে ‘উন্নত বাংলাদেশ’ হওয়ার স্বপ্ন দেখছে; ২০৩০ সালের মধ্যে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের মাধ্যমে একটি উদ্ভাবনী দেশ হিসেবে বিশ্বমণ্ডলে পরিচিত হতে চাচ্ছে; তখন সময় এসেছে দেশের সব গুরুত্বপূর্ণ অংশীদারদের নিজেদের দায়িত্ব, কর্তব্য ও করণীয় সম্পর্কে জানার এবং সে অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া। প্রত্যেকটি তরুণেরই এ রূপ একটি স্বপ্ন থাকা চাই—উন্নত জীবন ও সমৃদ্ধ দেশ গড়ার স্বপ্ন। ভারতের সাবেক রাষ্ট্রপতি ড. এ পি জে আব্দুল কালাম এদেশে এসে বলেছেন, ‘তোমাদের স্বপ্নগুলো হবে বাংলাদেশের স্বপ্ন, তোমাদের ভাবনাগুলো হবে বাংলাদেশের ভাবনা এবং তোমাদের কাজগুলো হবে বাংলাদেশের কাজ।’ বিজ্ঞানের ক্রমাগত উন্নতির ফলে পরিবর্তনের হাওয়া বইছে সর্বত্র। এ পরিবর্তন একদিকে কল্যাণ বয়ে আনছে, অন্যদিকে বিপর্যয়ও ডেকে আনছে। মানুষের ভোগবাদী প্রবণতা প্রাকৃতিক পরিবেশ ও সম্পদকে উজাড় করে দিচ্ছে। পুঁজিবাদী অর্থনীতির দৌরাত্ম্যে ধনী-দরিদ্রের বৈষম্য পাহাড়সম রূপ ধারণ করছে। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে এগিয়ে যেতে হবে তরুণসমাজকে। পরিবর্তিত পরিস্থিতি ও নতুন ধ্যান-ধারণার সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিজ নিজ কর্মক্ষেত্রে পরিবর্তনের রেখা তৈরি করবে তরুণেরা। নিজেদের বুদ্ধি-বিবেচনাকে কাজে লাগিয়ে সিদ্ধান্ত নেবে, নেতৃত্ব দেবে এবং এগিয়ে নেবে বাংলাদেশকে।
ভুল শোধরানোর সুযোগ দিক ২০২০
—সমাপনী রায়
শিক্ষার্থী, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়
নতুন স্বপ্ন আর উদ্যমে শুরু হবে সবার পথচলা। যেখানে ব্যক্তিজীবনের সঙ্গে দেশ, জাতি ওতপ্রোতভাবে জড়িত। সেখানে আমাদের সামনে ভেসে ওঠে এমন একটি দেশের চিত্রপট, যে কিনা ধর্ষণ, বেকারত্ব, সন্ত্রাসবাদ, মাদক, দুর্নীতি, যানজট, অস্থিতিশীল মূল্য ইত্যাদি সমস্যায় জর্জড়িত। প্রতিদিন খবরের কাগজে বা সোশ্যাল মিডিয়ায় ধর্ষণের খবর যেন অনেকটাই ডাল-ভাত হয়ে গেছে। প্রতিনিয়ত শিক্ষিত তরুণদের বেকারত্বের হার বেড়ে চলছে বিপজ্জনক হারে। শিক্ষাক্ষেত্রে দুর্নীতি, প্রশ্নফাঁসের খবর শুনে আঁতকে উঠি। অস্থিতিশীল শিক্ষাঙ্গন শিক্ষার্থীদের করে তুলেছে বিপদাপন্ন। তেমনি অস্থিতিশীল বাজার মূল্য ব্যাহত করছে স্বাভাবিক জীবন। দেশের বর্তমান অবস্থা সর্বদাই আমাদের অন্তর পীড়া দেয়। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে অতীতের গ্লানি, ব্যর্থতা ঢাকা পড়ে ভালো কিছুর অন্তরালে। অতীতের সব ভুল শোধরানোর সুযোগ করে দেয় নতুন বছর। মা-বোনের নিরাপত্তা, যোগ্যতা অনুযায়ী কর্মসংস্থান, সুষ্ঠু শিক্ষাব্যবস্থা, সামগ্রিক পরিস্থিতির সুষ্ঠু তদারকি আজ সময়ের দাবি।
দুর্নীতিমুক্ত
২০২০ চাই
—মাইনুল ইসলাম
শিক্ষার্থী, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়
একটি দুর্নীতিমুক্ত ও বেকারত্বহীন রাষ্ট্রের স্বপ্ন দেখি। বাংলাদেশ এখন উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির এক উজ্জ্বল দ্বারপ্রান্তে অবস্থান করছে। মাথাপিছু বার্ষিক আয় দ্বিগুণ করার সমৃদ্ধির হার বাড়িয়ে দারিদ্র্য বিমোচন করার অনেক সুযোগ এখন আমাদের সামনে এসেছে। কিন্তু আমাদের প্রধান বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দুর্নীতি। সর্বগ্রাসী দুর্নীতির ফলে প্রত্যাশিত উন্নয়ন সার্বিকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। কেবল এই দুর্নীতির জন্যই আমাদের দেশ হতে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে অনেক বিদেশি সংস্থা। দুর্নীতির মূলোত্পাটনে দুর্নীতি দমন কমিশনকে প্রকৃত অর্থে কার্যকর করতে হবে। সততার চর্চা করতে হবে। একই সঙ্গে তরুণসমাজসহ সর্বস্তরের মানুষকে আজ দুর্নীতির বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধভাবে দৃঢ় অবস্থান নিতে হবে। দুর্নীতির মতোই একটি ভয়াবহ সমস্যা হলো আমাদের বেকারত্ব সমস্যা। যার জন্য এদেশের সর্বোচ্চ উন্নয়ন সম্ভব হচ্ছে না। শিক্ষিত লোক বাড়ছে অথচ কর্মমুখী শিক্ষিত লোক বাড়ছে না, ফলে সৃষ্টি হচ্ছে শিক্ষিত বেকার। তাই উচিত কারিগরি শিক্ষার বিস্তার। তা নিরসনে জনগণকে দেশীয় পণ্য ব্যবহারে আগ্রহী করে তোলা উচিত। তরুণদের মধ্যে উদ্যোক্তা হওয়ার আগ্রহ জোগাতে হবে। কেননা এর দ্বারা সৃষ্টি হবে নতুন নতুন কর্মসংস্থান। যা দ্বারা দেশের বেকারত্ব সমস্যার অনেকটাই হ্রাস ঘটানো সম্ভব। সকল বাধা পেরিয়ে এগিয়ে যাক বাংলাদেশ। এই নতুন বছর হোক ভালোবাসার ও সহযোগিতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। বিশেষ করে প্রবীণদের কাছে এমন একটি প্ল্যাটফর্ম চাই যেন তরুণ ও নবীনরা তারুণ্যের জয়গান গাইতে পারে। কেননা এই তারুণ্যই পারে বাংলাদেশকে বিশাল উচ্চতায় নিয়ে যেতে। শুধু আমাদের ব্যক্তিগত বিষয়ই নয়, দেশ-জাতি কিংবা সকল বৈশ্বিক সংকট অমঙ্গল থেকে মুক্তি পাক প্রিয় বাংলাদেশ।
২০২০ হবে মাদকমুক্ত বছর
—মোহাম্মদ আবরার
উদোক্তা, প্রজেক্টদেবী
আমি দেশের একজন তরুণ নাগরিক হিসেবে চাই, তরুণ প্রজন্ম সেইসব ক্ষেত্রে এগিয়ে আসুক, যেসব ক্ষেত্রে দেশ ও জাতির সাহায্য দরকার। আমার মতো অনেক তরুণেরা বিভিন্ন ক্ষেত্র; যেমন :শিক্ষা, সাহিত্য, সাম্প্রদায়িকতা, পরিবেশদূষণ, অধিকার ইত্যাদি ক্ষেত্রের সমস্যা সমাধানে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করুক। তরুণেরা যদি বাংলাদেশকে একটা উন্নত জাতি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে আসে তাহলে তার ফলাফল প্রত্যাশাকেও ছাড়িয়ে যাবে, এটা বিশ্বাস করি। একজন ছাত্র হিসেবে দেশের শিক্ষাক্ষেত্রে আরো বেশি যুগান্তকারী পদক্ষেপ দেখতে চাই। আমি আশাবাদী যে শীঘ্রই সব জায়গায় আধুনিকীকরণ ও প্রযুক্তির প্রায়োগিক রূপ দেখতে পাব। আরো আশা করি, এদেশ তার সন্তানদের অধিক কর্মক্ষম হওয়ার সুযোগ করে দেবে, যার ফলে মানবসম্পদ এদেশেই স্থায়ী হবে। যদি মানবসম্পদ বাইরে চলে যায়, তাহলে দেশেরই ক্ষতি। বর্তমানে বাংলাদের বড়ো সমস্যাগুলোর অন্যতম হলো মাদক। যেকোনো জায়গায় চাইলে এখন মাদক পাওয়া যায়। মাদকের আগ্রাসন থেকে যদি তরুণসমাজকে না বাঁচনো যায়, তাহলে সবই শেষ হয়ে যাবে। সেজন্য সরকার তরুণদের কথা মাথায় রেখে মাদকবিরোধী অভিযান আরো জোরদার করবে, এই আশা করি।
বাংলানিউজসিএ/ঢাকা/ ০২ জানুয়ারি ২০২০ /এমএম





