Menu

‘দেশের বাইরে গিয়ে পিএইচডি করার ইচ্ছা ছিল আবরারের’

বাংলানিউজসিএ ডেস্ক :: বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) একটি হলে ছাত্রলীগের বর্বর নির্যাতনে নিহত তড়িৎ প্রকৌশল বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদের বাবা তার সন্তান হত্যার বিচার চেয়েছেন।এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ইতিমধ্যে সারা দেশকে নাড়া দিয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসগুলোতে বিক্ষোভ চলছে।

তিনি বলেন, আবরার ছিল খুবই সাধারণ একটি ছেলে। সাদাসিধা মনের। উচ্চশিক্ষার জন্য সে দেশের বাইরে যেতে চেয়েছিল।ব্রিটিশ দৈনিক গার্ডিয়ানের খবরে এমন তথ্য জানা গেছে। ফেসবুকের একটি পোস্টে সরকারের সমালোচনা করায় ২২ বছর বয়সী আবরারকে রোববার রাতভর নির্যাতন করেন ক্ষমতাসীন দলের এ ছাত্র সংগঠনটির নেতাকর্মীরা।

বরকত উল্লাহ বলেন, পিএইচডি করে দেশের জন্যই কাজ করার ইচ্ছা ছিল তার সন্তানের।এ ধরনের দুর্ঘটনা বন্ধ করতে হলে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে বলেও উল্লেখ করেন সন্তানহারা এই বাবা।তিনি বলেন, হলগুলোতে কী ঘটছে, তা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের জানা উচিত। অপরাধীদের বিচারের আওতায় নিয়ে আসা উচিত তাদের।‘যদি তারা সেটি করতে পারেন, তবেই এমন দুর্ঘটনা ঘটবে না,’ বললেন বরকত উল্লাহ।

আবরার ফাহাদকে হত্যার পর ঢাকা, রাজশাহী ও চট্টগ্রামের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে অব্যাহত বিক্ষোভ চলছে। তারা ক্যাম্পাসগুলোতে রাজনৈতিক সহিংসতা বন্ধের আহ্বান জানাচ্ছেন।ছাত্রলীগের মতো সংগঠনগুলোর বর্বরতার নিন্দা জানিয়েছে বিভিন্ন মানবাধিকার গোষ্ঠী। শিক্ষার্থীদের নিপীড়ন, মারধর ও দমনের অভিযোগ রয়েছে ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে।

গত বছর নিরাপদ সড়ক দাবিতে স্কুল ও বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে লাঠিসোটা ও ধারালো অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায় ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের এই ছাত্র সংগঠনটি। এতে বিক্ষোভরত শিক্ষার্থীদের ব্যাপক মারধর করেন তারা।বুয়েটের প্রথম বর্ষের এক শিক্ষার্থী বলেন, আবাসিক হলগুলোতে শিক্ষার্থীরা নিরাপদ বোধ করছেন না। আমরা কখনই স্বাধীনভাবে কথা বলতে পারছি না।

দেশের সবচেয়ে প্রতিযোগিতাপূর্ণ এই বিশ্ববিদ্যালয়টিতে আবরারের বন্ধুরা বলেন, সম্প্রতি ফেসবুকে একটি পোস্ট দেয়ায় তাকে পেটানো হয়েছে। এতে প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের সময় সই হওয়া কয়েকটি চুক্তির সমালোচনা করেন তিনি।যার মধ্যে ভারতে পেট্রোলিয়াম গ্যাস ও দেশটির সঙ্গে পানিবণ্টন চুক্তিও রয়েছে। এসব চুক্তি দেশের স্বার্থের সঙ্গে যায় না বলে বিরোধীদের অভিযোগ।

আবরারের ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন বলছে, ক্রিকেট স্টাম্পের মতো ভোঁতা বস্তু দিয়ে পেটানোর কারণে শরীরের ভেতর রক্তপাতের দরুণ তার মৃত্যু হয়েছে।এই হত্যাকাণ্ডকে লোমহর্ষক অপরাধ বলে আখ্যায়িত করেছে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল দক্ষিণ এশিয়া। সংস্থাটি এই ঘটনার দ্রুত তদন্ত চেয়েছে।

এক বিবৃতিতে মানবাধিকার সংস্থাটি বলছে, ফেসবুক পোস্টে বাকস্বাধীনতার শান্তিপূর্ণ অধিকার চর্চা করেছিল আবরার। সরকারের সমালোচনা করে পোস্ট দিয়েছিলেন তিনি।হত্যাকাণ্ডের বিচারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এতে জড়িত সন্দেহে এখন পর্যন্ত ১৬ আসামি গ্রেফতার হয়েছেন।

বিশ্ববিদ্যালয়টির দ্বিতীয় বর্ষের এক শিক্ষার্থী বলেন, শিক্ষার্থীদের অবমাননা ও নির্যাতন বুয়েটের নেতৃত্ব সবসময়ই এড়িয়ে যায়।নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই শিক্ষার্থী বলেন, র‌্যাগিং সবসময়ই একটি বড় সমস্যা। অতীতে অনেক ঘটনা কর্তৃপক্ষকে আমরা জানিয়েছি। কিন্তু সত্যিকার অর্থে তারা কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। আবরার হত্যা অতীতের সেই অবজ্ঞারই পরিণতি।

‘অপরাধীরা শাস্তির মুখোমুখি হবেন বলে কখনোও মনে করতেন না। কাজেই এই নিপীড়নকে সামনে নিয়ে আসতে একজনকে মরতে হলো, এটি সত্যিই লজ্জাজনক,’ বললেন ওই বুয়েট শিক্ষার্থী।

বাংলানিউজসিএ/ঢাকা/ ১১ অক্টোবর ২০১৯/ এমএম


Array