বাংলানিউজ সিএ ডেস্ক :: প্রতিনিয়ত দেশে অর্কিড জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। একই সঙ্গে বাড়ছে এর বাণিজ্যিক সম্ভাবনাও। এটির চাষ বাড়িয়ে যেমন কর্মসংস্থান বাড়ানো সম্ভব। তেমনি রফতানি করে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনেরও ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। ইতিমধ্যে দেশে অনেকেই অর্কিড চাষ করে স্বাবলম্বী হয়েছেন।
জানা গেছে, বিশ্বে অর্কিডের ৩০ হাজারের বেশি প্রজাতি রয়েছে। আকর্ষণীয় রঙ, বিভিন্ন ধরনের গড়ন, সুগন্ধি, ঔষধি গুণাগুণ, দীর্ঘ স্থায়িত্বকাল এসব বৈশিষ্টের কারণে অর্কিড উদ্ভিদের জনপ্রিয়তা এখন বাড়ছে।
এছাড়া বিশ্বে বর্তমানে কয়েক হাজার কোটি ডলারের অর্কিড বাণিজ্য হয়। এর সিংহভাগই করে থাইল্যান্ড। যে কারণে থাইল্যান্ডকে অর্কিডের রানী বলা হয়। থাইল্যান্ড প্রতিবছর ৫০টি দেশে ৪০০ কোটি ডলার মূল্যের অর্কিড রফতানি করে। এর পরই রয়েছে তাইওয়ান। হল্যান্ড বছরে ফুল, বাহারি গাছ ও অর্কিড রফতানি করে ১২ কোটি ডলার আয় করে। ভারত, মালয়েশিয়া, তাইওয়ান, শ্রীলংকা, সিঙ্গাপুরও অর্কিড ফুল রফতানিতে দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে। যে কারণে এসব দেশ ফুল চাষকে ‘পুষ্পশিল্প’ হিসেবে ঘোষণা করেছে।
কৃষি সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বাংলাদেশের আবহাওয়া অর্কিড চাষের উপযোগী। বাংলাদেশ অনসিডিয়াম, মোকারা, ভ্যান্ডা, ক্যাটেলিয়া, এরিডিস, ফেলেনপসিস নামে বিভিন্ন অর্কিড প্রজাতির চাষ হচ্ছে।
এগুলোকে বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদন করে এশিয়া, মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপের বিভিন্ন দেশে রফতানি করা সম্ভব। হিমালয়ের পূর্বাংশে ঘাসিয়া পাহাড়, বাংলাদেশের সিলেট জেলার উত্তরে পাহাড়ি অঞ্চল, থাইল্যান্ড, মিয়ানমার, শ্রীলংকা, মালয়েশিয়া, ফিলিপিনস, মেস্কিকো, দক্ষিণ আমেরিকা ও অস্ট্রেলিয়ার উষ্ণ অঞ্চলে অর্কিড পাওয়া যায়। ফুলদানিতে দীর্ঘকাল সজীব থাকে বলে কাটফ্লাওয়ার হিসেবে এর ব্যবহার সর্বাধিক। এছাড়া ছোট অবস্থায় এ গাছ সৌন্দর্য বৃদ্ধি করে। সারা বছর জাতভেদে অর্কিডের ফুল ফোটে।
তবে দেশীয় অর্কিড মার্চ-মে মাসে সর্বাধিক পাওয়া যায়। কিছু কিছু অর্কিড বছরে দু-তিনবার ফোটে। প্রতি গাছে জাতভেদে দু-চারটি স্টিক পাওয়া যায়। দেশের বৃহত্তর সিলেট, চট্টগ্রাম, পার্বত্য চট্টগ্রাম, গাজীপুর, ময়মনসিংহ, যশোর, রাজশাহীতে অর্কিড চাষের সম্ভাবনা রয়েছে।
এদিকে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইন্সটিটিউটে দেশি-বিদেশি জাতের অর্কিড পাওয়া যায়। এখান থেকে গাছ কিনে নেয়ার সুযোগ রয়েছে। বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়েও অর্কিড পাওয়া যায়। এগুলো বাণিজ্যিকভাবে চাষ হলে বিদেশে রফতানি করা সম্ভব।
অন্যদিকে ঘর, অফিস, অনুষ্ঠানস্থল সাজাতে অর্কিডের কোনো জুড়ি নেই। যে কারণে অর্কিডকে ভালোবাসা, আভিজাত্য ও সৌন্দর্যের প্রতীক হিসেবে বিবেচনা করা হয়। বিশেষ করে অভিজাত বাসা বা অফিসে এখন অর্কিডের ব্যবহার বেশি।
বাজারে বিভিন্ন প্রজাতির অর্কিড পাওয়া যায়। এগুলোর মধ্যে ক্যাঙ্গারু পকেট অর্কিড ১৫০ থেকে ৬০০ টাকা, লেডি ড্যান্স ৪০০ থেকে ৮০০, ভেন্ডা অর্কিড ২০০ থেকে ১ হাজার, লিপস্টিক অর্কিড যেগুলোয় ফুল ফোটেনি, সেগুলোর দাম ২০০ থেকে ৫০০ টাকা এবং ফুল ফোটা লিপস্টিকগুলো ১ হাজার টাকার বেশি দামে বেচাকেনা হয়। ক্যাটালিয়া অর্কিড ২০০ থেকে ৬০০ টাকা।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্জন হলসংলগ্ন নার্সারি ব্যবসায়ী মো. সুমন হোসেন বলেন, অর্কিডের চাহিদা আছে কিন্তু দাম বেশি হওয়ার কারণে বিক্রি কম হয়। ফুলগাছের তুলনায় অর্কিড বিক্রি কম। আমরা প্রায় ৫০ ধরনের অর্কিড বিক্রি করি। সেগুলো অচিরেই দোকানে নিয়ে আসব।
কারা বেশি কেনে জানতে চাইলে ব্যবসায়ী ইউনুস আলী বলেন, বেশিরভাগ অর্কিড শৌখিন মানুষ কেনে। এদিকে অফিস বা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের করিডোরে সাজানোর জন্যও অনেকেই অর্কিড কিনে নিয়ে যায়। লাভ কেমন হয় জানতে চাইলে তিনি আরও বলেন, মৌসুমে লাভ বেশি হয়। তখন আমরা মোটামুটি কম দামে অর্কিড কিনতে পারি। বেশি দামে অর্কিড কিনতে গেলে বেশি দামে বিক্রি করতে হয়। তখন বিক্রি কম হয়।
বাংলানিউজসিএ/ইএন/২১ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ইং