Menu

এমএসএমই কর্মযজ্ঞ এবং আইএমএসএমই অব বাংলাদেশ

বাংলানিউজসিএ ডেস্ক :: বিশ্বের সব দেশ জাতিসংঘের নেতৃত্বে ২০০৬ সালে অতি ক্ষুদ্র, ক্ষুদ্র ও মাঝারি বিনিয়োগের (এমএসএমই) মাধ্যমে জনগণের আর্থ-সামাজিক মসৃণ ও সুষম উত্তরণে গুরুত্বারোপ করে। বাংলাদেশ ২০০৯ সাল থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে সংশ্লিষ্ট সব মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ে বিষয়টিকে বাস্তবায়নের কর্মযজ্ঞ সূচনা করে।

সরকার এসএমই ফাউন্ডেশন নামে একটি স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলে এবং অসংখ্য বেসরকারি এসএমই প্রতিষ্ঠানের বিস্তার ঘটে। এমন প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা সর্বদাই সম্প্রসারিত হচ্ছে। পাশাপাশি রাষ্ট্রীয়ভাবে গৃহীত বাংলাদেশ ব্যাংকের বিদ্যমান জনকাঠামোর মধ্যে একটি নতুন স্বতন্ত্র এসএমই-এসপিডি শাখা যাত্রা শুরু করেছে।

জন্মলগ্ন থেকেই বাংলাদেশ ব্যাংকের এসএমই শাখার মুখ্য লক্ষ্য হচ্ছে দেশে কর্মরত সব ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে এমএসএমই লক্ষার্জনে সফলতার সূচকগুলো নির্ধারণ করে দেয়া। লক্ষ্য বাস্তবায়নের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে তিন স্তরের নিবিড় পর্যবেক্ষণ নীতিমালা বাস্তবায়িত হয়, যার মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে এমএসএমই খাতের প্রত্যাশিত অগ্রগতি মূল্যায়ন করা এবং আরোপিত কর্মপদ্ধতির নৈপুণ্য বিকাশে নিয়মিত নীতিমালার উন্নয়ন নিশ্চিত করা।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশ ব্যাংকের নেতৃত্বে সব ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান এসএমই উদ্যোক্তাদের সাহায্য-সহযোগিতায় কাজ করে চলেছে এবং বিশেষ গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে নারী উদ্যোক্তাদের। লক্ষণীয়, উপযুক্ত নারী উদ্যোক্তা হলে তাদের বিনা জামানতে ঋণ দেয়ার সুযোগ রয়েছে। প্রাথমিকভাবে এসএমই উদ্যোক্তাদের উচ্চফলনশীল ও উচ্চমানসম্পন্ন কৃষি ফসল উৎপাদন, কৃষিজাত ফসলের সর্বোচ্চ মূল্যমানসম্পন্ন সংযোজনমূলক উদ্ভাবনী পণ্য উৎপাদন, হালকা ও অধিকতর উৎপাদনশীল যন্ত্রপাতির উন্নয়ন ও বিপণন, মেধা ও দক্ষতানির্ভর পেশানির্ভর পরিসেবা প্রদান এবং দেশি-বিদেশি পণ্য-পরিসেবা বিপণন- এই ছয়টি ক্ষেত্রে শ্রেণিবিন্যাস করা হয়েছে। এসএমই বিনিয়োগে সব সম্ভাবনাময় আগ্রহী অন্তর্ভুক্তিমূলক (ইনক্লুসিভ) উদ্যোক্তাদের প্রতি স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ গুরুত্ব প্রদান করা হয়েছে।

২০১২ সালে যাত্রা শুরুর পর থেকে এমএসএমই খাতের গৃহীত কর্মসূচির অসংখ্য সফল কাহিনীর পাশাপাশি কিছু দুর্বলতাও চিহ্নিত হয়েছে। অভিজ্ঞতায় দেখা যায়, যে কোনো সফল উদ্যোক্তাকে স্ব-উদ্দীপনার পাশাপাশি কিছু আবশ্যকীয় তাত্ত্বিক জ্ঞানের পাশাপাশি বাস্তব দক্ষতা, সক্ষমতা ও পেশাদারি গুণাবলি অর্জন করতে হয়। এ গুণাবলি অর্জিত না হলে যে কোনো উৎসাহী উদ্যোক্তাই তার প্রতিভার সর্বোচ্চ বিকাশ অর্জনে বারবার বাধাপ্রাপ্ত হতে বাধ্য।

এসব দুর্বলতা অতিক্রম করার লক্ষ্যে ২০১৫ সালে বাংলাদেশ ব্যাংকের এসএমই-এসপিডি শাখার উদ্যোগে সম্ভাবনাময় একদল উদ্যোক্তা নিয়ে আইএমএসএমই অব বাংলাদেশ নামে একটি সংগঠন যাত্রা শুরু করে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সহায়তায় আইএমএসএমই অব বাংলাদেশ একটি প্রোফাইল প্রকাশ করে। প্রোফাইলের মুখ্য উদ্দেশ্য স্বল্প সময়ে, স্বল্প ব্যয়ে বাংলাদেশের সব প্রান্তের আগ্রহী সম্ভাবনাময় উদ্যোক্তাদের সংগঠিত করে তাত্ত্বিক ও প্রায়োগিক সক্ষমতা ও দক্ষতা অর্জনে কার্যকর সাহায্য করা।

আইএমএসএমই অব বাংলাদেশ বর্তমানে অগ্রসর ওয়েব প্রযুক্তি ব্যবহার করে বাংলাদেশের সব প্রান্তের সম্ভাবনাময় দুই কোটিরও বেশি নবীন অন্তর্ভুক্তিমূলক উদ্যোক্তাকে দূরশিক্ষণ পদ্ধতিতে ১৯টি সমন্বিত ব্যবস্থাপনা অঙ্গনে তাত্ত্বিক ও প্রায়োগিক দক্ষতা-সক্ষমতাসম্পন্ন এবং স্বাবলম্বী করার জন্য নিরলস কাজ করছে, যে কর্মযজ্ঞে জেন্ডার নিরপেক্ষতাকে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দেয়া হয়েছে।প্রাথমিকভাবে আইএমএসএমই অব বাংলাদেশ ১০ জন সম্ভাবনাময় আগ্রহী উদ্যোক্তাকে নিয়ে কাজ করছে, যাদের প্রত্যেকেই ইতিমধ্যে সফল উদ্যোক্তা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছেন।

বাংলানিউজসিএ/ঢাকা/ ২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯/ এমএম


Array