Menu

প্রবাস বাংলা ভয়েস ডেস্ক ::‌ প্রতিদিন বাজারে যাওয়ার সময় কি সবার আছে? বাজার করার রোজ রোজ ঝামেলা এড়ানো যায় ফ্রিজ থাকলে। এখন প্রায় সবার বাড়িতেই ফ্রিজ রয়েছে। সমস্যা হলো, ফ্রিজে খাবার সংরক্ষণের ব্যাপারে অনেকেই ভুল করেন। দীর্ঘদিন সংরক্ষণের ক্ষেত্রে কিছু কিছু খাবারে সুবিধা পাবেন। তবে মাছ-মাংস সংরক্ষণে একটু সতর্ক তো হতেই হবে। মাছ মাংস ডিপ ফ্রিজেই সংরক্ষণ করা হয়। এ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের খাদ্য ও পুষ্টিবিজ্ঞান বিভাগের ড. নাজমা শাহীন জানিয়েছেন গুরুত্বপূর্ন তথ্য।

খাবার তাজা খেতে পারলেই ভালো। দীর্ঘদিন সংরক্ষণ করা খাবার কোনোভাবেই খাওয়া ঠিক নয়। ডিপ ফ্রিজে মাছ ও মাংস ভালো থাকতে পারে। সময়ের সঙ্গে এগুলোর পুষ্টিগুণও নষ্ট হতে পারে। অনেকদিন পর রান্না করলে স্বাদের ফারাকটিও বোঝা যায়।মাছ-মাংস কাঁচা অথবা রান্না অবস্থায় ফ্রিজে সংরক্ষণ করা হয়ে থাকে। রান্না করা মাছ মাংস বাতাস ঢুকতে পারে না এমন বক্সে করে ফ্রিজে রেখে সর্বোচ্চ ২-৩ দিনের মধ্যে খাওয়া ভালো।

কাঁচা মাছ-মাংস সংরক্ষণের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকা জরুরি। কখনোই ফ্রিজে একসঙ্গে মাছ-মাংস সংরক্ষণ করা যাবে না। মাছ-মাংস কিনে এনে ভালো করে ধুয়ে, কেটে অথবা আস্ত অবস্থায় পলিথিন দিয়ে এমনভাবে বেঁধে রাখতে হবে যাতে বাতাস ঢুকতে না পারে। বাতাস ঢুকলে পুষ্টিগুণের পাশাপাশি স্বাদও নষ্ট হয়। মাংস বড় টুকরা করে রাখতে হবে। যখন মাংস রান্না করবেন তখন তা আবার পছন্দমাফিক সাইজ করে নেওয়া যায়। মাছ ভালো করে ধোয়া না হলে মাছের ফুলকা বা কানকোতে ব্যাকটেরিয়া থেকে যায়। এগুলো ঠান্ডা তাপমাত্রায় বংশবিস্তার করে মাছ নষ্ট করে দেয়। অনেক সময় দেখে বোঝা যায় না মাছ নষ্ট হয়েছে। তবে খাওয়ার পর শরীরে বিভিন্ন সমস্যা দেখা দিতে পারে। সবচেয়ে ভালো হয় বায়ুরোধী বক্সে মাছ মাংস ফ্রিজে রাখলে। এভাবে সংরক্ষণ করে মাছ সর্বোচ্চ ১৫ দিন এবং মাংস সর্বোচ্চ ২-৩ মাস রেখে খাওয়া ভালো।

মাছ বা মাংস একসঙ্গে অনেক পরিমাণ রাখা যাবে না। অল্প অল্প করে ভাগ করে রাখতে হবে এবং ফ্রিজ থেকে মাছ-মাংস বের করে বরফ গলানোর পর আবার ফ্রিজে ওঠানো একদমই উচিত নয়। এক্ষেত্রে ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ ঘটে।অনেকেই কোরবানির গরু-খাসির মাংস এক বছর পর্যন্ত ডিপ ফ্রিজে রেখে খান, যা একদমই স্বাস্থ্যসম্মত নয়। কারণ ফ্রিজে প্রোটিনজাতীয় খাবারে সবচেয়ে দ্রুত ব্যাকটেরিয়া ও ছত্রাক সংক্রমিত হয় এবং পুষ্টিগুণও পুরোপুরি নষ্ট হয়ে যায়।দীর্ঘদিন সংরক্ষণ করে রাখা মাছ-মাংস খাওয়া হলে ফুড পয়জনিং ও ফুড ইনফেকশন হতে পারে। বমি, ডায়রিয়া, গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা দেখা দিতে পারে এবং নিয়মিত ফ্রিজের খাবার খেতে থাকলে শরীরে বিভিন্ন জটিল সমস্যা দেখা দিতে পারে।

প্রবাস বাংলা ভয়েস /ঢাকা/ ১৩ জানুয়ারি ২০২৪ /এমএম


Array