প্রবাস বাংলা ভয়েস ডেস্ক :: পাহাড়ি খাবার এই যান্ত্রিক শহরে কীভাবে খুঁজে পাওয়া যাবে? শুধু খাবারটা পেলে হবে না। সেই আমেজটাও জরুরি। সৌভাগ্যক্রমে ঢাকায় একাধিক পাহাড়ি খাবারের রেস্টুরেন্ট রয়েছে। সবগুলোতেই অথেনটিক পাহাড়ি খাবার উপস্থাপনের চেষ্টা করা হয়েছে। সেই কটি রেস্টুরেন্ট নিয়েই আজকের আমাদের এই লেখা।
হেবাং
পাহাড়ি খাবারে আসল স্বাদ পাবেন হেবাং রেস্তোরাঁয়। এখানে শুধু পাহাড়ি রান্নার কৌশল ব্যবহার হয়নি, খাবার তৈরির প্রতিটি উপকরণ আনা হয় খাগড়াছড়ি ও রাঙামাটি থেকে। কলাপাতা থেকে শুরু করে চাল, সবজি, মুরগি, হাঁসসহ রান্নার অন্য সব উপাদান প্রতি সপ্তাহে পাহাড় থেকে আসে। সেজন্য হেবাংয়ের খাবারে পাহাড়ের নির্যাস মিশে থাকে। বর্তমানে হেবাংয়ের দুটি শাখা রয়েছে। একটি মিরপুরের কাজীপাড়াতে, অপরটি মোহাম্মদপুরে। ঢেকিছাঁটা চাল আর তুলসি মালা চালের ভাত, ব্যাম্বু চিকেন, শুঁটকি হেবাং, পাজন, কাঁকড়া ভুনা হেবাংয়ের নিয়মিত রান্না হয়।
চাকমাদের প্রায় সব খাবারে শুঁটকির আধিক্য থাকে। হেবাংয়ে নানা রকম ভর্তাও পাওয়া যায় এবং ভর্তার জন্য অনেকেই এখানে চলে আসেন। মাছ, মাংস, সবজি, শুঁটকির ভর্তার সঙ্গে মেশানো হয় পাহাড়ি ঝাল মরিচ, খেতে চমত্কার লাগে। পাবেন বিন্নি চালের পায়েস, বড়াপিঠা এবং কলাপিঠা আর তেঁতুল চাও।
মেজাং রেস্টুরেন্ট
পাহাড়ে না গিয়ে শুধু পাহাড়ি খাবার খাওয়ার জন্য ‘মেজাং’ হতে পারে যে কারো প্রথম পছন্দ। মিরপুরেই কাজীপাড়া বাসস্ট্যান্ডের কাছে এই রেস্টুরেন্ট অবস্থিত। পাহাড়ি খাবার ছাড়াও আছে চিকেন বিরিয়ানি, চিকেন চিলি, চিকেন কারি, আলু ভর্তা, বেগুন ভর্তা, কচু ভর্তা। যারা খাদ্যরসিক এবং নিত্য নতুন খাবারের স্বাদ গ্রহণের জন্য ঘুরে বেড়ান, তাদের জন্য ‘মেজাং’ হতে পারে এক অনন্য অভিজ্ঞতা।
জাবা
গারোদের খাবারের স্বাদ পেতে চাইলে যেতে হবে ‘জাবা’তে। গারোদের ভাষায় জাবা শব্দের অর্থ তরকারি। এই রেস্টুরেন্টটি ২০১৯ সালে প্রথম ফার্মগেটে যাত্রা শুরু করে। প্রতিদিন প্রায় ১২ থেকে ১৫টির মতো খাবারের পদ রান্না হয় এখানে। মূলত পাহাড়ে বিভিন্ন মৌসুম চলে। মৌসুম অনুযায়ী বাজার আর রান্না করা হয়।
কলাপাতায় ছোটমাছ, ফিশ উথেপা, চিকেন গপ্পা, হাঁস ব্যাম্বু শুট কষা, মাশরুম ভেজিটেবল ফ্রাই, চেপা শুঁটকি ভর্তা, টাকি মাছের ভর্তা সঙ্গে রয়েছে বিন্নি চালের ভাত। গারোদের খাবারের বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী, এই রান্নাগুলোতে তেল-মসলার ব্যবহার খুব কম।
সিএইচটি কালিনারি
চাকমা খাবারের সঙ্গে জাপানি ও ভিয়েতনামের খাবারের ফিউশন করেছে সিএইচটি কালিনারি। মিরপুরের কাজীপাড়াতে অবস্থিত। প্রথমে ঢুকতেই দেখা যাবে দেয়ালে পাহাড়িদের অক্ষর, চিত্র আর কারুকাজ। রন্ধনশিল্পী সুমন চাকমা ২০১৮ সালে সিএইচটি এক্সপ্রেসের যাত্রা শুরু করেন। প্রতিদিনকার বাজার প্রতিদিনই করা হয় এবং কী রান্না হবে তার সিদ্ধান্তটি নেওয়া হয় দিনেই। বাঁশ কোরলের হালকা ফ্রাইয়ের সঙ্গে লেমনগ্রাসের সুঘ্রাণ, কাপ্তাই লেকের বাহারি মাছের হেবাং, ডিমের হেবাং, চিংড়ি দিয়ে কাঁঠাল, পাজন, কাঁকড়া, পাহাড়ি চালের পিঠা আর পায়েসসহ বেশকিছু পাহাড়ি অঞ্চলের খাবার মিলবে এখানে। বিকেলের নাস্তায় মিলবে মুন্ডি, পিঠা, মোমো, লাকসু, ফ্রেশ পাহাড়ি ফল আর ফলের জুস। জাপানি ও ভিয়েতনামি খাবারের স্বাদও নিয়ে নিতে পারেন এখান থেকে।
প্রবাস বাংলা ভয়েস /ঢাকা/ ২৫ অক্টোবর ২০২৩ /এমএম





