Menu

প্রবাস বাংলা ভয়েস ডেস্ক ::‌ একটি শিশুর জন্য বাবা হচ্ছেন সবচেয়ে বড় শক্তি। পরিবারে একটি শিশু তার নিষ্পাপ চোখে বাবাকে দেখে পরিবারের সবচেয়ে ক্ষমতাধর, জ্ঞানী, স্নেহশীল এবং পরিবারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সদস্য হিসেবে। মেয়ে শিশুরা জীবনের শুরুতে আদর্শ পুরুষ হিসেবে বাবাকেই কামনা করে। অন্যদিকে ছেলে শিশুরা জীবনের শুরুতে বাবাকে দেখে শক্তির উৎস হিসেবে। বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো আজ আমাদের দেশেও ‘বাবা দিবস’ পালিত হচ্ছে। বাবা দিবস নিয়ে লিখেছেন শারমিন রহমান।

বাবা তুমি আমার যত খুশির কারণ/ বলো তোমার মতো করবে কে শাসন/ বাবা তুমি আমার বেঁচে থাকার কারণ/ নেই তোমার মতো কেউ এতটা আপন।— তানভীর ইভানের এই গানটা শুনলে নিজের অজান্তেই মন কেঁদে ওঠে বাবার বুকে নিশ্চিন্তে মুখ লুকানোর জন্য।

বাবা শাশ্বত, চির আপন, চিরন্তন। আর বাবার তুলনা বাবা নিজেই। বাবা মানে নির্ভরতা। বাবা নিখাদ আশ্রয়। উত্তপ্ত সূর্যের তলে সন্তানের শীতল ছায়া। বাবা মানে ভরসা। আমাদের জীবনে বাবা বটবৃক্ষের মতো ছায়া দিয়ে যান।

কখনো কঠোর, কখনো কোমল আর কখনো স্নেহ ভালোবাসায় সন্তানকে আগলে রাখেন। শুধু আদর ভালোবাসা বা শাসন নয় বরং বাবা তার দায়িত্ব এবং কর্তব্য নিয়ে তার সন্তানকে বড় করে তোলেন। প্রতিটি বাবার মাধ্যমেই তার সন্তানের জীবনের শুরু, যার ঋণ পরিমাপ করার ক্ষমতা সন্তানদের হয়ত প্রকৃতি দেয়নি।

‘বাবা’ শব্দটি খুব ছোট্ট, কিন্তু বাস্তবতায় তার বিশালতা সম্পর্কে ধারণা করা কঠিন। সন্তানকে সামান্য ভালো রাখতে নিজের তাজা প্রাণটুকুও যিনি দিতে প্রস্তুত থাকেন তিনি ‘বাবা’। সন্তানের জন্য মায়ের যেমন ভালোবাসা অফুরন্ত, তেমনি বাবার ভালোবাসাও অফুরন্ত। পৃথিবীর সকল সন্তানের কাছে বাবা মানে একটা আদর্শ, প্রথম হাত ধরে চলতে শেখা, আদর-শাসন আর বিশ্বস্ততার জায়গা হলো বাবা। বাবার কথা ভাবলেই চোখে ভেসে উঠে অক্লান্ত পরিশ্রমী একজন মানুষ যিনি সারা জীবন সকল বিপদ আপদ থেকে আগলে রাখেন সন্তানকে। তিনি হলেন নারিকেলের মতো, উপরে শক্ত অথচ ভেতরটা তার সাদা কোমল নরম এবং মিষ্ট যা দায়িত্ব ও কর্তব্যের মূর্ত প্রতীক।

প্রকাশে কঠিন অথচ ভেতর অসম্ভব স্নেহ, মমতা আর ভালোবাসা ভরা। প্রত্যেক বাবাই সন্তানের কাছে সুপার হিরো।রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘আল্লাহর সন্তুষ্টি পিতার সন্তুষ্টিতে এবং আল্লাহর অসন্তুষ্টি পিতার অসন্তুষ্টিতে নিহিত।’ (তিরমিজি-১৮৯৯)।

সনাতন ধর্মমতে, ‘পিতা স্বর্গ, পিতা ধর্ম, পিতাহী পরমং তপঃ, পিতরী প্রিতিমাপন্নে প্রিয়ন্তে সর্বদেবতা’। এর অর্থ হচ্ছে—পিতা স্বর্গ, পিতাই ধর্ম, পিতাই পরম তপস্যা। পিতাকে খুশি করলে সকল দেবতা খুশি হন।

বিংশ শতাব্দীর প্রথমদিক থেকে বাবা দিবস পালন শুরু হয়। ইতিহাস থেকে জানা যায়, ১৯০৮ সালে প্রথম বাবা দিবস উদ্যাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট ভার্জিনিয়ার ফেয়ারমন্টে ৫ জুলাই এ দিবস পালন করা হয়। মিসেস গ্রেস গোল্ডেন ক্লেটনের উদ্যোগেই মা দিবসের আদলে দিবসটি পালিত হয়। দুই বছর পর ১৯১০ সালে যুক্তরাষ্ট্রের সেনোরা স্মার্ট ডট নতুন পরিসরে বাবা দিবস পালন করে। সেনোরাকেই বাবা দিবসের উদ্যোক্তা মনে করা হয়। ১৯৬৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রের তত্কালীন প্রেসিডেন্ট লিন্ডন বি জনসন জুন মাসের তৃতীয় রবিবারকে আনুষ্ঠানিকভাবে বাবা দিবস হিসেবে নির্ধারণ করেন। ১৯৭২ সালে প্রেসিডেন্ট রিচার্ড নিক্সন প্রতিবছর জাতীয়ভাবে বাবা দিবস পালনের রীতি চালু করেন।

বাবার প্রতি সন্তানের চিরন্তন ভালোবাসার প্রকাশ প্রতিদিনই ঘটে। তবুও বাবার জন্য বিশেষ দিন হিসেবে প্রতি বছর ‘বিশ্ব বাবা দিবস’ পালিত হচ্ছে। কিছু দেশ ভিন্ন মাসের কয়েকটি ভিন্ন তারিখে বাবা দিবস পালন করে। কিন্তু পৃথিবীর একটি বড় অংশ যেমন— বাংলাদেশ, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা, চিলি, কলাম্বিয়া, কোস্টারিকা, কিউবা, সাইপ্রাস, চেক প্রজাতন্ত্র, ফ্রান্স, গ্রিস, হংকং, ভারত, আয়ারল্যান্ড, জ্যামাইকা, জাপান, মালয়েশিয়া, মেক্সিকো, নেদারল্যান্ড, পাকিস্তান, ফিলিপাইন, সিঙ্গাপুর, দক্ষিণ আফ্রিকা, শ্রীলংকা, সুইজারল্যান্ড, ভেনিজুয়েলা ও জিম্বাবুয়েসহ বিশ্বের ৫২টি দেশে জুনের তৃতীয় রবিবার বাবা দিবস পালিত হয়।

মায়ের সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক থাকে। কিন্তু বাবার সাথে বন্ধুত্ব খুব কম সন্তানেরই হয়ে ওঠে। কেন এই দূরত্ব থাকবে পৃথিবীর সবচেয়ে কাছের মানুষটির সাথে। বিশ্বের প্রায় সব বাবার প্রতি ভালোবাসা জানান সন্তানরা। বাবার মুখে একটু হাসি দেখার জন্য এই দিনে তার পছন্দের জিনিস উপহার দিতে পারেন। তার পছন্দের খাবার তৈরি করে, ফুলের তোড়া, বাঁধাই করা ছবি, নোটবুক ও কলম বই, ঘড়ি হতে পারে অসাধারণ উপহার। কিছু না হোক নিজে হাতে অন্তত একটি কার্ড তৈরি করে বাবাকে দিয়ে বলি— ‘বাবা, তোমাকে খুব ভালোবাসি।’ ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা দিয়ে বাবার সময়কে করে তুলুন নিখাদ আন্তরিকতার। পৃথিবীর সকল বাবার প্রতি রইল বিনম্র শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা।

প্রবাস বাংলা ভয়েস / ঢাকা / ১৯ জুন ২০২৩ /এমএম


Array