প্রবাস বাংলা ভয়েস ডেস্ক :: ব্রণ বয়ঃসন্ধির একটা সাধারণ রোগ। বয়ঃসন্ধিকালে টিনএজারদের যে কারোরই ত্বকে ব্রণের সমস্যা দেখা দিতে পারে। ব্রণ সাধারণত মুখে বেশি হয়। মুখের পাশাপাশি পিঠ, বুকে, বাহুর ঊর্ধ্বাংশেও হতে পারে।
ব্রণের কারণ
বয়ঃসন্ধিতে হরমোনের তারতম্য তৈলগ্রন্থির ওপর প্রভাব ফেলে। বিশেষ করে অ্যান্ড্রোজেন নামক হরমোনের পরিমাণ প্রয়োজনের চেয়ে অত্যধিক হলে, ত্বকে সেবাম কোষগুলো বেশি কার্যকর হয়ে ওঠে। তখন ত্বক তৈলাক্ত হয়ে পড়ে। কৈশোরে অনেক মেয়েদের হরমোনের সমস্যার কারণে ব্রণ, চুল পড়া, মুখে অবাঞ্ছিত লোম, শরীরের ওজন বেড়ে যাওয়া, অনিয়মিত মাসিক এসব সমস্যা দেখা দেয়। এই ধরনের সমস্যা দেখা দিলে অভিভাবকদের অবশ্যই গুরুত্ব সহকারে দেখা উচিত। এছাড়াও মুখে অতিরিক্ত প্রসাধনী ব্যবহার, বংশগত, পরিবেশগত কারণেও ব্রণ হয়ে থাকে। propionibacterium acne নামক একটি ব্যাকটেরিয়া ব্রণের জন্য দায়ী। এছাড়াও কিছু ঔষধ যেমন কর্টিকোস্টেরয়েড, ভিটামিন বি কমপ্লেক্স, লিথিনামও ত্বকে ব্রণ সৃষ্টি করতে পারে।
ব্রণের চিকিৎসা
ব্রণের ধরণ অনুযায়ী ত্বক বিশেষজ্ঞরা মুখে লোশন, ক্রিম, অথবা মুখে খাওয়ার ঔষধ দিয়ে থাকেন। ব্রণের চিকিৎসায় ব্রণ ভালো না হওয়া পর্যন্ত চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে ঔষধ চালিয়ে যেতে হবে। তৈলাক্ত ত্বকে ব্রণ বেশি হয়। সেক্ষেত্রে একজন ত্বক বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিয়ে ত্বকের ধরণ অনুযায়ী ফেসওয়াশ ও ময়েশ্চারাইজার ক্রিম ব্যবহার করতে হবে।
প্রতিকার
ব্রণ যাতে না হয় এজন্য কিছু প্রতিরোধ ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি। মুখমণ্ডল আলতো চাপে মোছা উচিত। অতিক্ষারযুক্ত সাবান ব্যবহার করা যাবেনা। রাত জাগা যাবেনা। ব্রণ কমাতে হলে খাদ্যাভ্যাসে আনতে হবে কিছু পরিবর্তন। প্রচুর পানি পান করতে হবে। খাদ্যতালিকায় শাকসবজি, ভিটামিন সি সমৃদ্ধ খাবার রাখতে হবে নিয়মিত। তৈলাক্ত খাবার পরিহার করতে হবে। ব্রণে নখ, হাত দেওয়া যাবে না। রোদে বের হবার আগে অবশ্যই সানস্ক্রিন ব্যবহার করতে হবে। ত্বকের প্রসাধনী যেমন: লোশন বা মেকআপ ইত্যাদি নির্বাচনের ক্ষেত্রে নন-কমেডো জেনিক প্রসাধনী বেছে নিতে হবে। নন-কমেডোজেনিক প্রসাধনী বেছে নিতে হবে।
ডা. সুপ্রিয়া সাহা
এমবিবিএস (ডিএমসি), বিসিএস (স্বাস্থ্য)
মেডিকেল অফিসার, চর্ম ও যৌন রোগ বিভাগ
শেখ হাসিনা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল
টাঙ্গাইল
প্রবাস বাংলা ভয়েস/ঢাকা/ ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ /এমএম





