Menu

প্রবাস বাংলা ভয়েস ডেস্ক ::‌  দেশে আগামী কয়েক মাসের ভোজ্যতেলের পর্যাপ্ত মজুত আছে—সরকারের তরফে বারবার একথা বলা হলেও ‘সংকট’ সৃষ্টি হয়েছে। বাজারে ঠিকমতো মিলছে না ভোজ্যতেল। এ অবস্থার মধ্যে সয়াবিনসহ ভোজ্য তেলের সংকট নিরসনে সরবরাহকারী আট প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মামলা করেছে বাংলাদেশ প্রতিযোগিতা কমিশন। তাদের বিরুদ্ধে সেবার সংস্থানকে সীমিত বা নিয়ন্ত্রণ ও বাজারে ‘কর্তৃত্বময় অবস্থান’-এর অপব্যবহারের অভিযোগ আনা হয়েছে।কমিশন বলছে, প্রাথমিক অনুসন্ধানে অভিযোগের সত্যতার পাওয়ার পর বুধবার (১১ মে) স্বপ্রণোদিত হয়ে কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে পৃথক মামলা দায়ের করা হয়।

প্রতিযোগিতামূলক বাজার নিশ্চিতে স্বাধীন অনুসন্ধান এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণে সংবিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ প্রতিযোগিতা কমিশন আইনের ১৫ (২) এর ‘খ’ ধারা অনুযায়ী উৎপাদন, সরবরাহ, বাজার, কারিগরি উন্নয়ন, বিনিয়োগ বা সেবার সংস্থানকে সীমিত বা নিয়ন্ত্রণ করার অভিযোগ আনা হয়েছে ওই ৮ কোম্পানির বিরুদ্ধে। তাদের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত পৃথক মামলায় ‘কোম্পানিগুলোর বাজারে কর্তৃত্বময় অবস্থান’-এর অপব্যবহারের অভিযোগ আনা হয়েছে।একই সঙ্গে মামলার প্রাথমিক শুনানির তারিখ এবং পরবর্তী কার্যক্রমের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কোম্পানির প্রতি জরুরি নোটিশও জারি করা হয়েছে।

নোটিশ অনুযায়ী, আগামী ১৮ই মে চারটি কোম্পানির বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার শুনানি হবে। কোম্পানিগুলো হলো- সিটি এডিবল অয়েল লিমিডেট, বাংলাদেশ এডিবল অয়েল লিমিটেড, মেঘনা ও ইউনাইটেড এডিবল অয়েল রিফাইনারি লিমিটেড এবং বসুন্ধরা অয়েল রিফাইনারি মিল। আর ১৯শে মে শুনানি হবে শবনম ভেজিটেবল অয়েল ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড, এস আলম সুপার এডিবল অয়েল লিমিটেড, প্রাইম এডিবল অয়েল লিমিটেড এবং গ্লোব এডিবল অয়েল লিমিটেড-এর বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার শুনানি হবে।

সূত্র জানায়, কমিশন আইনের ১৫ ধারায় এটা স্পষ্ট করে বলা হয়েছে, কেউ পণ্য বা সেবার উৎপাদন, সরবরাহ, বিতরণ, গুদামজাতকরণ বা অধিগ্রহণ সংক্রান্ত কোনো চুক্তিতে বা যড়যন্ত্রমূলক যোগসাজশে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে আবদ্ধ হতে পারবে না। এমনটি করার মাধ্যমে বাজারে বিরূপ প্রভাব, মনোপলি বা ওলিগপলি অবস্থার সৃষ্টি করলে কমিশন তাদের বিরুদ্ধে মামলা এবং অন্যান্য ব্যবস্থা নিতে পারবে। কমিশন আইন বলছে, পণ্য বা সেবা খাতে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ ক্রয় বা বিক্রয় মূল্য অস্বাভাবিকভাবে নির্ধারণ বাজারের প্রতিযোগিতার আচরণের সম্পূর্ণ পরিপন্থি। শুধু তাই নয়, জালিয়াতপূর্বক দর নির্ধারণের বিরুদ্ধেও কমিশন তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণে দায়িত্বপ্রাপ্ত। কমিশনের নিজস্ব অনুসন্ধান টিম বাজার পরিস্থিতি মনিটর করে ওই আট কোম্পানির বিরুদ্ধে উত্থাপিত বিভিন্ন অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পেয়েছে। অনুসন্ধান টিমের রিপোর্ট এবং অন্যান্য বিষয়াদি পর্যালোচনায় ১০ই মে কমিশনের সভায় সর্বসম্মতভাবে প্রত্যেকের বিরুদ্ধে মামলার সিদ্ধান্ত হয়। সে অনুযায়ী ১১ই মে পৃথক মামলা রুজু হয়।

প্রবাস বাংলা ভয়েস/ঢাকা/ ১২ মে  ২০২২ /এমএম