Menu

প্রবাস বাংলা ভয়েস ডেস্ক ::‌ এ বছর দেশে ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে এবং ধান মাড়াই সবে মাত্র শেষ হলো। এর মধ্যেই মিল পর্যায় প্রতি বস্তা চালের (৫০ কেজি) দাম সর্বোচ্চ ২০০ টাকা বেড়েছে। এর প্রভাব পাইকারি ও খুচরা বাজারে পড়েছে। এমনিতেই ভোক্তারা করোনার অভিঘাতে বিপর্যস্ত। অনেকের আয় কমে গেছে। আবার অনেকের আয় একেবারে বন্ধ হয়ে গেছে।

এমন পরিস্থিতিতে হঠাৎ করে চালের দাম বৃদ্ধি এসব মানুষের মাথায় বাজ পড়ার মতো। শুধু চাল নয়, বেড়েছে সয়াবিন তেলের দাম। পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকার পরও বিশ্ববাজারে দাম বাড়ার কারণ দেখিয়ে প্রতি সপ্তাহে দফায় দফায় সয়াবিন তেলের দাম বাড়ানো হচ্ছে। এদিকে সীমান্ত এলাকায় লকডাউনের অজুহাতে বিক্রেতারা আবারও নতুন করে পেঁয়াজের দাম বাড়িয়ে বিক্রি করছেন। খুচরা বাজারে ডাল, আদা, রসুন, শুকনা মরিচ, দারুচিনি, লবঙ্গ ও ফার্মের ডিম বাড়তি দরে বিক্রি হচ্ছে। কিন্তু এসব দেখার যেন কেউ নেই।

বিভিন্ন পণ্যের দাম বাড়ান চিত্র সরকারি সংস্থ্যা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) দৈনিক বাজার মূল্য তালিকায় লক্ষ্য করা গেছে। টিসিবি বলছে, সপ্তাহের ব্যবধানে প্রতি কেজি চাল শূন্য দশমিক ৮২ শতাংশ বেড়েছে। পাশাপাশি প্রতি কেজি দেশি পেঁয়াজের ২৬ দশমিক ৪৪ ও আমদানি করা পেঁয়াজ ৩১ দশমিক ২৫ শতাংশ বেড়েছে।

খোলা সায়ানি প্রতি লিটারে দাম বেড়েছে ২ শতাংশ ও পাঁচ লিটারের বোতলজাত সয়াবিনে সপ্তাহের ব্যবধানে দাম বেড়েছে ৩ দশমিক ৭৯ শতাংশ। প্রতি কেজি ছোট দানার মসুর ডালের দাম কেজিতে বেড়েছে ২ দশমিক ৩৮ শতাংশ। আর আমদানি করা রসুন ৪ শতাংশ, দেশি আদা ১০ শতাংশ, শুকনা মরিচ ১০ দশমিক ৫৩ শতাংশ, দারুচিনি ১ দশমিক ২৫ শতাংশ, লবঙ্গ ১১ দশমিক ১১ শতাংশ বেড়েছে। এছাড়া সপ্তাহের ব্যবধানে প্রতি হালি (৪ পিস) ফার্মের ডিমের দাম ৩ দশমিক ২৩ শতাংশ বেড়েছে।

যে সব পণ্যের দাম বেড়েছে শুক্রবার রাজধানীর কারওয়ান বাজার, শান্তিনগর কাঁচাবাজার, নয়াবাজার, রামপুরা বাজার ও মালিবাগ বাজার ঘুরে সেসব পণ্যের কোনো সংকট দেখা যায়নি। ক্রেতারা তাদের চাহিদা অনুযায়ী পণ্য কিনতে পারছেন। তবে বাড়তি টাকা দিতে বাধ্য হচ্ছেন। ক্রেতারা জানান, বাজারে কোনো ধরনের পণ্যের সংকট নেই। তারপরও দাম বাড়তি। বাজার তদারকি সংস্থার গাফিলতির কারণে বিক্রেতারা সুযোগ বুঝে সিন্ডিকেট করে বাড়তি মুনাফা করতে পণ্যের দাম বাড়িয়ে দিচ্ছে।

এদিন মিল পর্যায়ে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, প্রতি বস্তা মিনিকেট বিক্রি হচ্ছে ২৭০০ টাকা। যা পাঁচ দিন আগে বিক্রি হয়েছে ২৫০০ টাকা। বিআর-২৮ প্রতি বস্তা বিক্রি হচ্ছে ২১৫০ টাকা। যা পাঁচ দিন আগে ২০৫০ টাকা বিক্রি হয়েছে। এছাড়া মোটা চালের মধ্যে স্বর্ণা জাতের চালের বস্তা বিক্রি হয়েছে ২১০০ টাকা। যা ৫ দিন আগে ২০০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। সেক্ষেত্রে দেখা গেছে বস্তা প্রতি চালে সর্বোচ্চ ২০০ টাকা বেড়েছে।

দাম বৃদ্ধির এই প্রভাব পড়েছে রাজধানীর পাইকারি বাজারে। শুক্রবার রাজধানীর পাইকারি আড়ত ঘুরে ও বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রতি বস্তা মিনিকেট বিক্রি হচ্ছে ২৮০০ টাকা; যা ৫ দিন আগে বিক্রি হয় ২৬০০ টাকা। বিআর-২৮ চাল বিক্রি হচ্ছে ২২০০ টাকা। যা পাঁচ দিন আগে বিক্রি হয় ২১০০ টাকা। এছাড়া মোটা চালের মধ্যে স্বর্ণা জাতের চাল বিক্রি হচ্ছে ২২০০ টাকা।

যা পাঁচ দিন আগে বিক্রি হয় ২১০০ টাকা। খুচরা বাজার ঘুরে ও বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এদিন প্রতিকেজি মিনিকেট বিক্রি হয় ৬৫ টাকা। যা পাঁচ দিন আগেও ৬০ টাকা বিক্রি হয়েছে। বিআর ২৮ প্রকিকেজি বিক্রি হয় ৫২-৫৪ টাকা। যা পাঁচ দিন আগে ৪৮-৫০ টাকা বিক্রি হয়েছে। এছাড়া মোটা চালের মধ্যে স্বর্ণা জাতের প্রতি কেজি চাল বিক্রি হয় ৫০-৫১ টাকা। যা সাত দিন আগেও ৪৫-৪৬ টাকা বিক্রি হয়েছে।

জানতে চাইলে নওগাঁ চালকল মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ফরহাদ হোসেন চকদার বলেন, ‘বাজারে চালের দাম বাড়ার একমাত্র কারণ হলো ধানের দাম বৃদ্ধি। বিগত বছরে কৃষকরা ধান উঠানোর আগেই কাটা মাড়াই করে হাটে বিক্রি করত। কিন্তু এ বছর সামান্য পরিমাণ ধান হাটে বিক্রি করে বাকিটা ঘরে মজুদ করে রেখে দিয়েছে।

হাট-বাজারে ধানের আমদানি কম হওয়ায় দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। চাহিদার তুলনায় বাজারে ধানের আমদানি কম হওয়ায় ব্যবসায়ীরা বেশি দামে ধান কিনতে বাধ্য হচ্ছে। এতে চালের দাম বেড়েছে।’ তবে কারওয়ান বাজারের আল্লাহর দান রাইস এজেন্সির মালিক সিদ্দিকুর রহমান বলেন, বড় বড় মিল মালিকরা ধান কিনে মজুদ করে চালের দাম মিল পর্যায় থেকে বাড়িয়ে দিচ্ছেন।

যে কারণে দেশে ভরা মৌসুমেও চালের দাম বেড়েছে। এছাড়া মিলারদের কারণেই বাজারে ধানের দামও কিছুটা বেড়েছে। আর এই দাম বাড়ার অজুহাতটাই এখন মিলাররা দেখাচ্ছে। তারা বলছেন- ধানের দাম বাড়ার কারণে চালের দাম বেড়েছে।

অন্যদিকে সীমান্ত এলাকায় লকডাউন চলার অজুহাতে রাজধানীর বাজারে আবার পেঁয়াজ নিয়ে নৈরাজ্য শুরু হয়েছে। সপ্তাহের ব্যবধানে পেঁয়াজ কেজিতে সর্বোচ্চ ১৫ টাকা পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। শুক্রবার খুচরা বাজারে প্রতি কেজি দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হয় ৬০ টাকা। যা সাত দিন আগে ৪৫ টাকা বিক্রি হয়েছে। পাশাপাশি প্রতি কেজি আমদানি করা পেঁয়াজ বিক্রি হয় ৫৫ টাকা। যা ৭ দিন আগে ৪০ টাকা বিক্রি হয়েছে।

চট্টগ্রাম ব্যুরো জানায়, ভারত থেকে আমদানি শুরুর পরও চট্টগ্রামে পেঁয়াজের দাম ঊর্ধ্বমুখী। খুচরা বাজারে কেজিতে ৫০-৬০ টাকা দামে বিক্রি হচ্ছে নিত্যপ্রয়োজনীয় এই পণ্যটি। এদিকে কিছুটা কমতে শুরু করেছে ভোজ্যতেলের দাম। দুই দিন আগে সুপার সয়াবিন তেল প্রতি মণ ছিল ৪৫০০ টাকা। এখন দাম কমে প্রতি মণ বিক্রি হচ্ছে ৪৩০০ টাকায়। প্রতি মণে ২০০ টাকা দাম কমেছে।

তবে সয়াবিনের দাম কমার প্রভাব রাজধানীর খুচরা বাজার বা অন্য কোথাও পড়েনি। রাজধানীতে প্রতি লিটার খোলা সয়োবিন বিক্রি হচ্ছে ১৩০ টাকা বিক্রি হচ্ছে। যা সাত দিন আগে ১২৬ টাকা ছিল। এছাড়া সাত দিনের ব্যবধানে পাঁচ লিটারের বোতলজাত সয়াবিনে ৪০ টাকা বাড়িয়ে খুচরা বাজারে বিক্রি হচ্ছে সর্বোচ্চ ৭২০ টাকা।

নওগাঁ প্রতিনিধি জানান, ধানের ভর মৌসুমেও নওগাঁয় বেড়েছে চালের দাম। ধান-চালের খাদ্য উদ্বৃদ্ধ জেলা হওয়ার পরও প্রতি কেজি চাল গত ১০ দিনের ব্যবধানে কেজিতে ৪-৫ টাকা বেড়েছে। পাইকারি বাজারে চালের দাম বেড়ে যাওয়ায় খুচরা বাজারেও এর প্রভাব পড়েছে। ধানের দাম বেড়ে যাওয়ায় চালের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে বলে দাবি করছেন ব্যবসায়ীরা।

তবে চালের দাম বাড়ায় বিপাকে পড়েছে সাধারণ খেটে খাওয়া ও নিম্ন আয়ের মানুষ। নওগাঁ পৌর খুচরা বাজারে প্রোপ্রাইটর অখিল খাদ্য ভাণ্ডারের মালিক অখিল চন্দ্র বলেন, বর্তমানে জিরাশাইল প্রতি কেজি ৫০-৫২ টাকা, কাটারি ৫৫ টাকা ও খাটোদশ ৪৬ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ৫০ কেজি ওজনের প্রতি বস্তার দাম বেড়েছে ১০০-১৫০ টাকা।

প্রবাস বাংলা ভয়েস/ঢাকা/ ০৫ জুন ২০২১ /এমএম