Menu

বাংলানিউজসিএ ডেস্ক :: মহামারী করোনাভাইরাসে সংক্রমণ রোধে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে মাস্ক পরা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। তবে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে মাস্ক কতটা কার্যকর এ নিয়ে সাধারণ মানুষের প্রশ্ন রয়েছে।

বায়ুদূষণ থেকে বাঁচার জন্য মানুষ সাধারণত মাস্ক ব্যবহার করে। তবে এখন করোনার সংক্রমণ রোধে সবাই মাস্ক ব্যবহার করছে।তাই অনেকেই প্রশ্ন– মাস্ক পরলে কি করোনা সংক্রমণ ঠেকানো যায় বা করোনা থেকে বাঁচা যায়? আর এই মাস্কের কার্যকারিতা আসলে কতটা?

সম্প্রতি বিবিসির একটি প্রতিবেদনের বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানায়, করোনাভাইরাস হচ্ছে বায়ুবাহিত রোগ, যা বাতাসে ছড়ায়। এর প্রাথমিক প্রমাণ তারা পেয়েছেন। তবে এ বিষয়ে আরও বিস্তারিত জানতে বিস্তর গবেষণা চলছে।

বায়ুবাহিত ভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে এই মাস্ক কতটা কার্যকর সে ব্যাপারে যথেষ্টই সংশয়ে আছেন ভাইরাস বিশেষজ্ঞরা।তবে হাত থেকে মুখে সংক্রমণ রোধে এই মাস্ক ব্যবহার সুফল পাওয়া গেছে।

আঠারো শতকে প্রথম সার্জিক্যাল মাস্কের ব্যবহার শুরু হয়। কিন্তু ১৯১৮ সালে স্প্যানিশ ফ্লু মহামারীর আগ পর্যন্ত এই মাস্ক সাধারণ মানুষের হাতে পৌঁছায়নি। ওই মহামারীতে ৫ কোটির মতো মানুষের মৃত্যু হয়েছিল।

ইউনিভার্সিটি অব লন্ডনে সেন্ট জর্জেসের ড. ডেভিড ক্যারিংটন বিবিসিকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘সাধারণ সার্জিক্যাল মাস্ক বায়ুবাহিত ভাইরাস ও ব্যাক্টেরিয়ার বিরুদ্ধে সুরক্ষা দিতে যথেষ্ট নয়।’

তিনি বলেন, ‘এসব মাস্ক এতই ঢিলেঢালা যে, এটা বায়ুকে ঠিকমতো ফিল্টার করতে পারে না। তা ছাড়া যিনি এই মাস্ক ব্যবহার করছেন, তার চক্ষু থাকছে উন্মুক্ত।’

তিনি আরও জানান, তবে হাঁচি বা কাশি থেকে ভাইরাসের সংক্রমণের ঝুঁকি কিছুটা কমাতে পারে এই মাস্ক। আর হাত থেকে মুখের সংক্রমণের বিরুদ্ধেও কিছু সুরক্ষা দিতে পারে।

ইউনিভার্সিটি অব নটিংহ্যামের মলিক্যুলার ভাইরোলজির অধ্যাপক জোনাথন বল বলেন, রেসপিরেটর হিসেবে তৈরি ফেসমাস্ক ইনফ্লুয়েঞ্জা ঠেকাতে পারে।

এ বিষয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় রেসপিরেটরি মেডিসিন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক শামীম আহমেদ যুগান্তরকেকারণ হিসেবে তিনি জানান, করোনাভাইরাসের সংক্রমণ হয়ে থাকে সাধারণত নাক, মুখ ও চোখের মাধমে। তাই সংক্রমণ রোধে নাক, মুখ ও চোখ ঢেকে রাখা জরুরি।

তিনি বলেন, নাক ও মুখ ঢাকতে ভালো মানের মাস্ক ব্যবহার করতে হবে। এ ছাড়া চোখে সাধারণ চশমা বা স্নানগ্লাস ব্যবহার করতে পারেন।

ওই চিকিৎসক আরও বলেন, করোনা যেহেতু নাক ও মুখের মাধ্যমে শ্বাসনালিতে প্রবেশ করে, তাই মাস্ক পরলে নিরাপদে থাকা যায়। এ ছাড়া করোনা আক্রান্ত রোগী যদি মাস্ক পরে, তবে তিনি নিজে ও অন্যরা নিরাপদে থাকবেন। এতে সংক্রমণের ঝুঁকি কমে ৯০ শতাংশ।

বাংলানিউজসিএ/ঢাকা/ ২৭ জুলাই ২০২০/এমএম


Array