প্রবাস বাংলা ভয়েস ডেস্ক :: আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) ঋণ পেতে কঠিন চার শর্ত মানতে হবে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে (এনবিআর)। ২০৩১ সালের মধ্যে কর অব্যাহতি তুলে দিতে হবে। সেই সঙ্গে সারা দেশে ভ্যাটের অভিন্ন হার বাস্তবায়ন করতে হবে। আর কিভাবে রাজস্ব আহরণ বাড়ানো হবে, তার পরিকল্পনা দিতে হবে আইএমএফকে।
এ ছাড়া এনবিআরের নীতি ও বাস্তবায়ন আলাদা করার শর্তও জুড়ে দিয়েছে সংস্থাটি। সর্বশেষ এনবিআরের চেয়ারম্যানও সংস্থাটির তিন অনুবিভাগ আয়কর, ভ্যাট ও শুল্ক বিভাগের সঙ্গে বৈঠকও করেছেন। ওই সব বৈঠকে বিষয়গুলো উঠে এসেছে। এনবিআর সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।
সূত্র জানায়, আইএমএফের প্রথম ঋণের বেশকিছু শর্ত থাকলেও সেগুলো ঢিলেঢালাভাবে পরিপালন করেছিল এনবিআর। তবে এবারে আইএমএফের ঋণে কঠিন শর্ত মানতে হচ্ছে সংস্থাটিকে।
সম্প্রতি এনবিআরের চেয়ারম্যান ও তিন নীতি শাখার সঙ্গে হওয়া বৈঠকে এসব বিষয় উঠে আসে। সর্বশেষ এক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে কর অব্যাহতির পরিমাণ প্রায় দেড় লাখ কোটি টাকা ছাড়িয়েছে। মূলত সরকার দেশীয় শিল্প সুরক্ষা এবং অর্থনীতির গতি বাড়াতে এ ধরনের কর অব্যাহতি দিয়ে থাকে। এ পরিস্থিতিতে ২০৩১ সালের মধ্যে সব ধরনের কর অব্যাহতি তুলে দেওয়ার শর্তজুড়ে দিয়েছে আইএমএফ। এ ছাড়া, সংস্থাটির আরেকটি শর্ত হচ্ছে ভ্যাটের অভিন্ন হার বাস্তবায়ন করতে হবে।
বর্তমানে ক্ষেত্রবিশেষে ভ্যাটের হার ৫ শতাংশ থেকে শুরু করে ১৫ শতাংশ পর্যন্ত বিভিন্ন স্ল্যাব রয়েছে। শিল্পের সুবিধা থেকে শুরু করে জনস্বার্থে সরকার এ সুবিধা দিয়ে আসছে। আইএমএফের ঋণ পেতে ভ্যাটের একটি অভিন্ন হার বাস্তবায়ন করতে হবে। সেক্ষেত্রে ১৫ শতাংশ হলে সবক্ষেত্রে ১৫ শতাংশ, আর ১০ শতাংশ বা সাড়ে ৭ শতাংশ হলে সবক্ষেত্রে একই ভ্যাট হার প্রযোজ্য হবে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বৈঠকে উপস্থিত এনবিআরের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা কালবেলাকে বলেন, আইএমএফের বড় কনসার্ন হচ্ছে কর অব্যাহতি তুলে দিতে হবে। ভ্যাটের একটা স্ট্যান্ডার্ড রেট নির্ধারণ করতে হবে। এ ছাড়া, রাজস্ব আহরণ বাড়াতে এনবিআরের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা জানতে চেয়েছে আইএমএফ। আরেকটি বড় কনসার্ন হচ্ছে এনবিআরকে বিভক্ত করা। যদিও সরকার এনবিআরকে ভাগ করে অধ্যাদেশ জারি করেছে। তবু বিষয়টির বাস্তবায়ন দেখতে চায় আইএমএফ।
সূত্র আরও জানায়, এনবিআরের সঙ্গে হওয়া বৈঠকে করের আওতা বাড়ানোর বিষয়টিতে জোর দিয়েছে আইএমএফের প্রতিনিধিদল। বরাবরের মতো নতুন ঋণ প্রস্তাবের ক্ষেত্রেও বিষয়টি জোরালোভাবে উত্থাপন করা হয়েছে। আইএমএফ বিষয়টির বাস্তবায়ন দেখতে চায়। এ ছাড়া, অন্যতমও শর্ত হচ্ছে এনবিআর পৃথকীকরণ। যদিও এরই মধ্যে অন্তর্বর্তী সরকার এনবিআরকে দুই ভাগ করার অধ্যাদেশ জারি করেছে। আগামী সংসদ অধিবেশনে এ-সংক্রান্ত বিল উঠছে। এনবিআরকে দুটি পৃথক বিভাগে বিভক্ত করে রাজস্ব নীতি ও বাস্তবায়ন আলাদা দুটি বিভাগ হচ্ছে। রাজস্ব নীতি বিভাগ পলিসি তৈরি করবে। আর বর্তমান এনবিআর হবে বাস্তবায়ন বিভাগ। অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, রাজস্বনীতি বিভাগে ১৬ সদস্যের একটি কাউন্সিল থাকবে। আর এ কাউন্সিলের মাধ্যমে আগামীর রাজস্ব-সংক্রান্ত পলিসি কী হবে সেটি নির্ধারণ করা হবে। এ কাউন্সিলে ব্যবসায়ী ও আমলা থেকে শুরু করে অর্থনীতিবিদ ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিও থাকতে পারেন বলে জানিয়েছে মন্ত্রণালয় সূত্র।
প্রবাস বাংলা ভয়েস/কানাডা/০৮ নভেম্বর ২০২৬/এএ





