প্রবাস বাংলা ভয়েস ডেস্ক :: ডিমের পুষ্টিগুণ, সহজলভ্যতা ও খাদ্যনিরাপত্তায় অবদান তুলে ধরতে আজ পালিত হচ্ছে বিশ্ব ডিম দিবস। এবারের প্রতিপাদ্য ‘প্রোটিন শক্তি জোগায় ও সুরক্ষা দেয়’। দেশে বছরে প্রায় ২ হাজার ৫০৯ কোটি ৪১ লাখ ডিম উৎপাদিত হলেও মানুষের পুষ্টিচাহিদা পূরণে মাথাপিছু ডিমের প্রাপ্যতা আরও বাড়ানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের (ডিএলএস) লক্ষ্য অনুযায়ী, ২০৩০ সালের মধ্যে বছরে মাথাপিছু ডিমের প্রাপ্যতা ২০৮টিতে উন্নীত করতে হবে।
যেভাবে শুরু বিশ্ব ডিম দিবস
১৯৯৬ সালে অস্ট্রিয়ার ভিয়েনায় অনুষ্ঠিত এক সম্মেলনে আন্তর্জাতিক সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল এগ কমিশন (আইইসি) বিশ্ব ডিম দিবস পালনের ঘোষণা দেয়। এরপর থেকে প্রতি বছর অক্টোবরের দ্বিতীয় শুক্রবার দিবসটি পালিত হয়ে আসছে। এবার ৩০তম বিশ্ব ডিম দিবস পালিত হচ্ছে।
একটি ডিমেই পুষ্টির চমক, বিশ্ব ডিম দিবস আজ
বিদেশে ভ্রমণকারীদের ডলার বিক্রি নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের বিশেষ নির্দেশনা
ডিমের উচ্চমানের সম্পূর্ণ প্রোটিন, পুষ্টিগুণ, সহজলভ্যতা এবং খাদ্যনিরাপত্তায় এর ভূমিকা তুলে ধরতেই দিবসটি পালন করা হয়।
বাংলাদেশে নানা কর্মসূচি
বিশ্ব ডিম দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর, ওয়ার্ল্ডস পোলট্রি সায়েন্স অ্যাসোসিয়েশন (বাংলাদেশ শাখা) ও বাংলাদেশ পোলট্রি ইন্ডাস্ট্রিজ সেন্ট্রাল কাউন্সিল যৌথভাবে বিভিন্ন কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে শোভাযাত্রা, সেমিনার ও আলোচনাসভা।
বছরে মাথাপিছু ডিমের প্রাপ্যতা ১৪০টি
প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে বছরে প্রায় ২ হাজার ৫০৯ কোটি ৪১ লাখ ডিম উৎপাদিত হচ্ছে। এ উৎপাদনের ভিত্তিতে বছরে একজন মানুষের জন্য প্রায় ১৪০টি ডিমের প্রাপ্যতা রয়েছে। তবে মানুষের পুষ্টিচাহিদার তুলনায় এ প্রাপ্যতা এখনো কম। ২০৩০ সালের মধ্যে মাথাপিছু ডিমের প্রাপ্যতা বছরে ২০৮টিতে উন্নীত করার লক্ষ্য রয়েছে। সে হিসাবে আগামী চার বছরে মাথাপিছু প্রাপ্যতা প্রায় ৬৮টি বাড়াতে হবে।
এক দশকে উৎপাদন বেড়েছে ৬৮ শতাংশ
প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর বলছে, গত কয়েক বছরে দেশে ডিমের উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। গত ১০ বছরে ডিম উৎপাদন বৃদ্ধির হার প্রায় ৬৮ শতাংশ। যদিও ২০৩০ সালের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে উৎপাদন আরও বাড়ানোর পাশাপাশি উৎপাদন খরচ নিয়ন্ত্রণ এবং খামারিদের ন্যায্য দাম নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ।
উৎপাদন বাড়ানোর তাগিদ
পোলট্রি ব্যবসায়ীদের সংগঠন বাংলাদেশ পোলট্রি ইন্ডাস্ট্রিজ সেন্ট্রাল কাউন্সিল (বিপিআইসিসি) জানিয়েছে, জনসংখ্যা বৃদ্ধি, মানুষের খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন এবং শিশু-কিশোরদের পুষ্টিচাহিদা বৃদ্ধির সঙ্গে তাল মিলিয়ে ডিমের উৎপাদন বাড়ানো জরুরি। বিশ্ব ডিম দিবসে ডিমের পুষ্টিগুণ সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি উৎপাদন বৃদ্ধি, সাশ্রয়ী দামে ডিমের সরবরাহ এবং খামারিদের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করার বিষয়গুলোও গুরুত্ব পাচ্ছে।
প্রবাস বাংলা ভয়েস/কানাডা/০৯ অক্টোবর ২০২৬/এএ





