Menu

প্রবাস বাংলা ভয়েস ডেস্ক ::‌ জেমস ওয়েব টেলিস্কোপে তোলা ছবিতে বৃহস্পতি গ্রহ ও তার তিন উপগ্রহ যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা এবার বৃহস্পতি গ্রহের (জুপিটার) চোখ ধাঁধানো ছবি প্রকাশ করেছে। নাসার জেমস ওয়েব স্পেস টেলিস্কোপে তোলা ছবিতে সৌরজগতের সবচেয়ে বড় গ্রহ বৃহস্পতির (জুপিটার) বলয় স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।এছাড়া বৃহস্পতির তিন চাঁদ যথাক্রমে ইউরোপা, থিব ও মেটিসও স্পষ্টভাবে উঠে এসেছে। খবর বিবিসি, রয়টার্স ও সিএনএনের।

জেমস ওয়েব স্পেস টেলিস্কোপ দিয়ে তোলা এসএমএসিএস ০৭২৩ নামের একটি নীহারিকাপুঞ্জের ছবি প্রথম ১২ জুলাই প্রকাশ করা হয়। এরপর থেকে একের পর এক মহাবিশ্বের ছবি প্রকাশ করছে নাসা, ইউরোপিয়ান স্পেস এজেন্সি (ইএসএ) এবং কানাডিয়ান স্পেস এজেন্সি (সিএসএ)। ওয়েবের যন্ত্রপাতি গবেষণার তথ্য সংগ্রহের জন্য প্রস্তুত কিনা, তা যাচাই করতে ১২ জুলাইয়ের আগে তিনবার বৃহস্পতির ছবি তোলেন নাসার গবেষকরা। সেই ছবিগুলো এখন ‘স্পেস টেলিস্কোপ সায়েন্স ইনস্টিটিউট’-এর ‘মিকালস্কি আর্কাইভ ফর স্পেস টেলিস্কোপ’ থেকে প্রকাশ করা হচ্ছে।

শুক্রবার নাসা বৃহস্পতি ও এর তিনটি চাঁদের ছবি প্রকাশ করে। প্রথম ছবিতে বৃহস্পতির বলয় দেখা না গেলেও আছে গ্রহটির চাঁদ ইউরোপা। এমনকি ‘গ্রেট রেড স্পট’ নামে পরিচিত বৃহস্পতির পৃষ্ঠের দানবীয় ঝড়টিও দেখা যাচ্ছে স্পষ্ট। নাসা বলছে, এ ঝড় এতটাই বড় যে, পুরো পৃথিবীকে গিলে খেতে পারে। তবে ওয়েব টেলিস্কোপের ‘নিয়ার ইনফ্রারেড ক্যামেরা’ বা এনআইআরক্যামের শর্ট-ওয়েভলেন্থ ফিল্টারের মাধ্যমে তোলা ছবিগুলোর প্রক্রিয়াজাত করার কৌশলের কারণে লাল রঙের বদলে সাদা রঙে ফুটে উঠেছে ‘গ্রেট রেড স্পট’।

স্পেস টেলিস্কোপ সায়েন্স ইনস্টিটিউটের গবেষক ব্রায়ান হলার বলেছেন, সেদিন প্রকাশ করা ডিপ ফিল্ড ছবি আর বৃহস্পতির নতুন ছবিগুলো মিলে ওয়েবের পূর্ণ পর্যবেক্ষণ ক্ষমতার প্রমাণ দিচ্ছে; বহু দূরের অস্পষ্ট ছায়াপথ থেকে শুরু করে আমাদের প্রতিবেশী গ্রহের ছবি যা আপনি খালি চোখে নিজের উঠান থেকেই দেখতে পারেন। ছবিতে বৃহস্পতির পাশেই ইউরোপা। বৃহস্পতির এ চাঁদ নিয়েও মহাকাশ বিজ্ঞানীরা কৌতূহলী। তাদের ধারণা, উপগ্রহটির পুরু বরফের স্তরের নিচে একটি সাগর লুকিয়ে আছে। নাসার আসন্ন ‘ইউরোপা ক্লিপার’ মিশনের মূল লক্ষ্য বৃহস্পতির এ উপগ্রহ। ‘গ্রেট রেড স্পট’-এর পাশে ইউরোপার ছায়াও ধরা পড়েছে ওয়েবের ছবিতে।

নাসার মহাকাশ বিজ্ঞানী স্টেফানি মিলাম বলেন, আমার বিশ্বাস হচ্ছিল না যে, আমরা সবকিছু এত স্পষ্টভাবে দেখতে পাচ্ছিলাম, আর কত উজ্জ্বল ছিল সবকিছু। নিজেদের ওয়েবসাইটে নাসা বলেছে, এ ছবিগুলো প্রমাণ করছে, বৃহস্পতি, শনি ও মঙ্গলের মতো উজ্জ্বল গ্রহগুলোকে ঘিরে থাকা বলয় আর উপগ্রহ পর্যবেক্ষণের সক্ষমতা আছে ওয়েব টেলিস্কোপের। তবে বৃহস্পতির বলয় সবচেয়ে স্পষ্টভাবে উঠে এসেছে এনআইআরক্যামের ‘লং-ওয়েভলেন্থ ফিল্টার’ ব্যবহার করে তোলা ছবিতে। দ্রুতগতিতে ছুটে যাওয়া গ্রহাণু আর ধূমকেতুর ছবি তোলার সক্ষমতাও জেমস ওয়েবের আছে। ১২ জুলাই গবেষণার জন্য তথ্য সংগ্রহ শুরু করার আগে গ্রহাণুর ছবিও তুলেছে এ টেলিস্কোপ।

প্রবাস বাংলা ভয়েস/ঢাকা/ ১৭ জুলাই ২০২২ /এমএম


Array