Menu

প্রবাস বাংলা ভয়েস ডেস্ক :: কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি দেশটিকে ‘ইউরোপের বাইরের দেশগুলোর মধ্যে সবচেয়ে ইউরোপীয়’ বলে অভিহিত করেছেন। ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) পূর্ণ সদস্য হওয়া বাস্তবে কঠিন হলেও যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরতা কমাতে তিনি ইইউর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তোলার উদ্যোগ নিয়েছেন। খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।

কার্নি চলতি সপ্তাহে ফ্রান্সের স্ট্রাসবুর্গ সফরে যাচ্ছেন। সেখানে বুধবার তিনি প্রথম কোনো সরকারপ্রধান হিসেবে ‘স্টেট অব দ্য ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন’ ভাষণ অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন।

পরদিন ইউরোপীয় পার্লামেন্টে তিনি নিজেও ভাষণ দেবেন।

এরপর তিনি যুক্তরাজ্যের লিভারপুল সফর করবেন। সেখানে যুক্তরাজ্যের নতুন প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহামের সঙ্গে প্রথমবারের মতো বৈঠক করবেন।

জার্মানির ইউরোপীয় পার্লামেন্ট সদস্য টোবিয়াস ক্রেমার এই সফরকে ‘অসাধারণ গুরুত্বপূর্ণ প্রতীক’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। গত মার্চে ইইউ-কানাডা সহযোগিতা আরও জোরদারের আহ্বান জানিয়ে যে প্রস্তাব নেওয়া হয়েছিল, তার প্রধান উদ্যোক্তা ছিলেন ক্রেমার।

তিনি এএফপিকে বলেন, ‘ইউরোপের যেসব সম্পদের ঘাটতি রয়েছে, কানাডার কাছে তার অনেকটাই আছে। যেমন জ্বালানি, বিরল খনিজ ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ কাঁচামাল।’

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বাণিজ্যযুদ্ধ কানাডাকে বড় ধরনের চাপে ফেলেছে। কারণ দেশটির অর্থনীতি তার দক্ষিণের প্রতিবেশী যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে অত্যন্ত ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত। তাই কানাডা এখন জরুরি ভিত্তিতে নতুন অর্থনৈতিক অংশীদার খুঁজছে।

ক্রেমারের মতে, ট্রাম্প আবার ক্ষমতায় ফেরার কারণে ইইউও চাপে পড়েছে। কানাডার মতো ইউরোপীয় ইউনিয়নও নিজেদের বৈদেশিক সম্পর্ক ‘বৈচিত্র্যময় ও ঝুঁকিমুক্ত’ করতে চাইছে।

ভবিষ্যতে কি ইইউর সদস্য হবে কানাডা?

কার্নি ইতোমধ্যে কানাডাকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের আরও কাছাকাছি নিয়ে এসেছেন।

কানাডা প্রথম কোনো ইউরোপ-বহির্ভূত দেশ হিসেবে ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম ক্রয় কর্মসূচিতে যোগ দিয়েছে। এছাড়া জনপ্রিয় ইউরোপীয় সংগীত প্রতিযোগিতা ইউরোভিশনেও কানাডার অংশগ্রহণের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী কার্নি ভূমিকা রেখেছেন।

আগামী মাসে মন্ট্রিয়লে ইইউ-কানাডা সম্মেলনের আয়োজন করবেন কার্নি।

তিনি বলেছেন, সেখানে ‘আরও শক্তিশালী ও গভীর অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তা অংশীদারত্ব’ গড়ে তোলার বিষয়ে আলোচনা শুরু হবে।

কানাডার সঙ্গে সম্পর্কবিষয়ক ইউরোপীয় পার্লামেন্টের প্রতিনিধি দলের প্রধান স্পেনের এমপি হাভিয়ের মোরেনো সানচেজ বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) মতো বিভিন্ন বিষয়ে কানাডা ও ইইউর অবস্থান অনেকটাই এক। এর পাশাপাশি একটি ডিজিটাল বাণিজ্য চুক্তি নিয়েও কাজ চলছে।

এই চুক্তি বিদ্যমান সিইটিএ নামের মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠবে।

সানচেজের মতে, ছোট ও মাঝারি প্রতিষ্ঠানগুলো এখনো চুক্তিটির সুবিধা পুরোপুরি কাজে লাগাতে পারেনি। ফলে এর আরও সম্ভাবনা রয়েছে।

ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় ফেরার পর কানাডার পূর্ণাঙ্গ ইইউ সদস্য হওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা আরও জোরালো হয়েছে।

বৃহস্পতিবার কার্নিকে এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বিষয়টি এড়িয়ে যান। তিনি অস্পষ্ট উত্তর দেন। তিনি সম্ভাবনাটি নাকচও করেননি, আবার সমর্থনও করেননি।

প্রবাস বাংলা ভয়েস/কানাডা/১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬/এএ


Array