প্রবাস বাংলা ভয়েস ডেস্ক :: কানাডার আবাসন সংকট মোকাবিলায় বড় ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে দেশটির ফেডারেল সরকার। প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নির নেতৃত্বাধীন সরকার আগামী তিন বছরে টরন্টোতে নতুন ভাড়ার আবাসন নির্মাণে ২.৭ বিলিয়ন কানাডিয়ান ডলার বিনিয়োগের ঘোষণা দিয়েছে। দ্রুত বাড়তে থাকা বাড়িভাড়া নিয়ন্ত্রণ এবং মধ্য ও নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য আবাসনের সুযোগ বাড়ানোই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।
সরকার জানিয়েছে, টরন্টো সিটির সঙ্গে যৌথভাবে এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, শহরের বিভিন্ন এলাকায় ১৮টিরও বেশি আবাসন প্রকল্প নির্মাণ করা হবে। এসব প্রকল্প থেকে ৫ হাজার ৬০০টির বেশি নতুন ভাড়ার বাসা তৈরি হবে। এর মধ্যে প্রায় ১ হাজার ৮০০টি ইউনিট হবে সাশ্রয়ী মূল্যের, ভাড়া-নিয়ন্ত্রিত (Rent-Controlled) অথবা বিশেষ সহায়তামূলক আবাসন।
প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি বলেন, টরন্টোর অসংখ্য বাসিন্দা ক্রমবর্ধমান বাড়িভাড়ার চাপে দীর্ঘদিন ধরে ভুগছেন। নতুন বিনিয়োগের মাধ্যমে শুধু নতুন বাসা তৈরি নয়, বরং সাধারণ মানুষের জন্য একটি স্থিতিশীল ও গ্রহণযোগ্য ভাড়ার বাজার গড়ে তোলাই সরকারের উদ্দেশ্য। তিনি উল্লেখ করেন, আবাসনকে আরও সহজলভ্য করা সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার।
বর্তমানে টরন্টো কানাডার সবচেয়ে ব্যয়বহুল শহরগুলোর একটি। সাত মিলিয়নেরও বেশি মানুষের এই মহানগরে বাড়ির দাম এবং ভাড়া গত কয়েক বছরে ধারাবাহিকভাবে বেড়েছে। ফলে নতুন কর্মজীবী, শিক্ষার্থী, নিম্ন ও মধ্যম আয়ের পরিবার এবং নতুন অভিবাসীদের জন্য বাসস্থান খুঁজে পাওয়া ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, পর্যাপ্ত নতুন ভাড়ার আবাসন নির্মাণ না হওয়ায় বাজারে সরবরাহ ও চাহিদার মধ্যে বড় ধরনের ভারসাম্যহীনতা তৈরি হয়েছে।
আবাসন খাতের বিশ্লেষকদের মতে, এই বিনিয়োগ স্বল্পমেয়াদে ভাড়ার দাম উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনতে না পারলেও দীর্ঘমেয়াদে বাজারে নতুন ইউনিট যুক্ত হওয়ায় চাপ কিছুটা কমবে। একই সঙ্গে নির্মাণ শিল্পে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে এবং নগর উন্নয়ন কার্যক্রমও গতি পাবে।
টরন্টো সিটি প্রশাসনও এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে। তাদের মতে, ফেডারেল সরকারের সঙ্গে সমন্বিতভাবে কাজ করার ফলে বহুদিন ধরে আটকে থাকা বেশ কয়েকটি আবাসন প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়নের সুযোগ তৈরি হবে। বিশেষ করে সাশ্রয়ী আবাসনের সংখ্যা বাড়লে নিম্ন আয়ের পরিবারগুলোর জীবনযাত্রার মান উন্নত হবে।
বিশ্লেষকদের ধারণা, কানাডার অন্যান্য বড় শহর—যেমন ভ্যাঙ্কুভার, মন্ট্রিয়াল ও ক্যালগেরিতেও ভবিষ্যতে একই ধরনের আবাসন বিনিয়োগ পরিকল্পনা নেওয়া হতে পারে। কারণ, দেশজুড়েই আবাসন সংকট বর্তমানে অন্যতম বড় অর্থনৈতিক ও সামাজিক চ্যালেঞ্জ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। সূত্র: Reuters
প্রবাস বাংলা ভয়েস/কানাডা/০৭ আগস্ট ২০২৬/এএ





