প্রবাস বাংলা ভয়েস ডেস্ক :: মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে যুদ্ধ বন্ধের বিষয়ে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার চুক্তি-পরবর্তী পদক্ষেপগুলো নিয়ে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া আলোচনা স্থগিত করা হয়েছে। কারণ, ইরান সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ চার ইসরায়েলি সৈন্যকে হত্যা করেছে এবং দক্ষিণ লেবাননে প্রতিশোধমূলক বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। এতে অন্তত ১৮ জন নিহত হয়েছে।
শুক্রবার (১৯ জুন) সুইজারল্যান্ড সফর করার কথা থাকলেও তা স্থগিত করেছেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। আজ শুক্রবার চুক্তি-পরবর্তী পদক্ষেপগুলোর বিষয়ে আলোচনা শুরু হওয়ার কথা ছিল। হোয়াইট হাউসের বরাতে এ তথ্য জানা গেছে।
সুইজারল্যান্ডের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নিশ্চিত করেছে যে, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার আলোচনা স্থগিত করা হয়েছে। তবে চূড়ান্ত চুক্তি নিয়ে আলোচনার জন্য প্রস্তুতি চলছে।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান জানিয়েছে, সম্প্রতি তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে একটি ঐতিহাসিক সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়েছে। এই স্মারকের অধীনে সুইজারল্যান্ডের ওবুরগেন গ্রামে ৬০ দিনের একটি বিশেষ সুযোগ তৈরি করে দ্বিপাক্ষিক আলোচনা শুরু হওয়ার কথা ছিল।
তবে সেই প্রক্রিয়া শুরুর মাত্র দুই দিনের মাথায় বড় ধরনের ধাক্কা খেল এই শান্তি প্রচেষ্টা। ইরান শান্তি চুক্তির এই পুরো ঘটনাপ্রবাহ মূলত ২০২৫ সাল থেকে আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কতটা পিছু হটতে বাধ্য হয়েছে, তা-ই স্পষ্ট করে তুলেছে।
হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ‘যত দ্রুত সম্ভব প্রযুক্তিগত আলোচনা শুরু করার’ জন্য উন্মুখ হয়ে আছে। তবে একই সঙ্গে তারা ঘোষণা করেছে যে, ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষে এই আলোচনার নেতৃত্বদানকারী জেডি ভ্যান্স আপাতত পূর্বনির্ধারিত সফরে যাচ্ছেন না।
গতকাল বৃহস্পতিবার গভীর রাতে হোয়াইট হাউসের একজন মুখপাত্র উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ে বলেন, ‘এই আলোচনার কার্যপদ্ধতি কখনোই সহজ বা আগে থেকে অনুমান করার মতো ছিল না। আপাতত ভাইস প্রেসিডেন্ট আজ রাতে রওনা হচ্ছেন না।’
মূলত যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধবিরতি স্বাক্ষরিত হওয়ার পর ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ এবং রক্তক্ষয়ী হামলা বিনিময়ের জের ধরেই ওবুরগেনের এই গুরুত্বপূর্ণ আলোচনাটি স্থগিত বা বাতিল করা হলো।
বৃহস্পতিবার সারা দিন ধরে থেমে থেমে ইসরায়েলি গোলাবর্ষণের পর, গভীর রাতে হিজবুল্লাহ দক্ষিণ লেবাননের নাবাতিয়া শহরের কাছে অবস্থানরত ইসরায়েলি বাহিনীকে লক্ষ্য করে বেশ কয়েকটি রকেট হামলা চালায়।
হিজবুল্লাহর দাবি, তারা সেইসব ইসরায়েলি সেনাদলকে লক্ষ্যবস্তু করেছে যারা নাবাতিয়ার পার্শ্ববর্তী পাদদেশের দিকে অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা করছিল। অবশ্য ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর থেকেই এই সংঘাতপূর্ণ এলাকাটিতে থেমে থেমে লড়াই চলছে। যুদ্ধবিরতির আগেও ইসরায়েলি বাহিনী দক্ষিণ লেবাননের এই কৌশলগত শহরটির দিকেই অগ্রসর হচ্ছিল।
হিজবুল্লাহর রকেট হামলার জবাবে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী নাবাতিয়া শহর এবং এর আশপাশের এলাকাগুলোতে হিজবুল্লাহর বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তু লক্ষ্য করে ধারাবাহিক ও শক্তিশালী বিমান হামলা চালায়।
লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, ইসরায়েলের এই পাল্টা ও আকস্মিক বিমান হামলায় অন্তত ১৮ জন নিহত এবং ৩৩ জন আহত হয়েছেন। এই ভয়াবহ সামরিক সংঘাতই মূলত মধ্যপ্রাচ্যের শান্তি আলোচনাকে নতুন করে অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিল।
প্রবাস বাংলা ভয়েস/কানাডা/১৯ জুন ২০২৬/এএ





