Menu

প্রবাস বাংলা ভয়েস ডেস্ক :: আলোচনার শুরুটা হয়েছে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নরওয়ে সফরকে কেন্দ্র করে। ১৮ থেকে ১৯ মে দুই দিনের সফরে নরওয়ে গেছেন তিনি। সেখানে তৃতীয় ভারত-নর্ডিক শীর্ষ সম্মেলনে অংশ নেন মোদি।

সম্মেলনের ফাঁকে এক সংবাদ সম্মেলনে নরওয়ের সাংবাদিক হেলে লিং মোদিকে প্রশ্ন করেন, তিনি কেন ভারতে সাংবাদিকদের প্রশ্ন এড়িয়ে চলেন। এই কথোপকথনের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি সামাল দিতে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে পরে আলাদাভাবে সংবাদ সম্মেলনও করতে হয়েছে।

সফরের রেশ কাটতে না কাটতে বুধবার (২০ মে) নতুন এক বিতর্কের জন্ম দিল নরওয়ের একটি শীর্ষস্থানীয় সংবাদপত্র।

নরওয়ের দৈনিক আফটেনপোস্টেন সাধারণত মতামতধর্মী নিবন্ধ প্রকাশ করে থাকে। মোদিকে নিয়ে লেখা কার্টুন সম্বলিত দৈনিকটির প্রতিবেদনের শিরোনাম হলো— ‘একজন ধূর্ত ও কিছুটা বিরক্তিকর মানুষ’। এই প্রতিবেদনে আলোচনার কেন্দ্রতে জায়গা করে নিয়েছে লেখার সঙ্গে থাকা একটি কার্টুন বা ব্যঙ্গচিত্র নিয়ে।

কার্টুনটিতে নরেন্দ্র মোদিকে একজন ‘সাপুড়ে’ হিসেবে দেখানো হয়েছে। তবে কার্টুনে তার হাতে থাকা সাপের মতো দেখতে বস্তুটি মূলত একটি ফুয়েল পাম্পের তেলের পাইপ।

ভাররতীয় সংবাদমাধ্যম ইকোনোমিক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী মোদিকে এভাবে সাপুড়ে সাজিয়ে উপস্থাপন করায় ইন্টারনেটে এক ধরেনের ক্ষোভ দেখা গেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভারতীয় নেটিজেনরা এই ঘটনার প্রতিবাদ জানাচ্ছেন। সমালোচকদের মতে, এটি কোনো সাংবাদিকতা বা সুস্থ্য ধারার রসিকতা নয়। বরং এটি পশ্চিমা মিডিয়ার মজ্জাগত ‘ঔপনিবেশিক মানসিকতা’ ও বর্ণবাদের বর্ণনা মাত্র।

বহু বছর আগে ব্রিটিশরা যেভাবে ভারতকে ‘সাপ আর সাপুড়েদের দেশ’ বলে উপহাস করত, এই কার্টুনে ঠিক সেই পুরোনো কুসংস্কার ও বর্ণবাদী ধারণা ফুটিয়ে তোলা হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে ভাররতীয় সংবদমাধ্যমের প্রতিবেদনে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে বিশ্লেষকরা এই ঘটনার কড়া সমালোচনা করছেন। এক্সে একজন ব্যবহারকারী লিখেছেন, পশ্চিমা দুনিয়া ভারতের অর্থনৈতিক ও বৈশ্বিক উত্থান কিছুতে মেনে নিতে পারছে না। তাই সহ্য করতে না পেরে তারা তাদের পূর্বপুরুষদের সেই পুরোনো ও নোংরা বর্ণবাদী মানসিকতার আশ্রয় নিচ্ছে। প্রতিবারই তাদের আসল মুখোশটা এভাবে খুলে পড়ে।

অন্য একজন লিখেছেন, ধরে নিলাম তেলের পাইপটিকে তারা প্রতীকী অর্থে সাপ বানিয়েছে, কিন্তু তাই বলে একটি দেশের সরকার প্রধানকে অন্য দেশে আমন্ত্রণ জানিয়ে এভাবে অপমান করা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।

ইকোনোমিক টাইমস জানিয়েছে, বিশ্ব গণমাধ্যম স্বাধীনতা সূচকে নরওয়ে এক নম্বরে রয়েছে। ভারত সেখানে ১৫৪ থেকে পিছিয়ে ১৫৭তম স্থানে নেমেছে। এই র‍্যাংকিংয়ের অহংকারে নরওয়ের সংবাদমাধ্যম এই ঔদ্ধত্য দেখিয়েছে বলে ধারণা করছেন অনেকে। তবে এ ঘটনা প্রথম নয়। এর আগে ২০২২ সালের অক্টোবরে স্পেনের বিখ্যাত সংবাদপত্র লা ভাংভ্যানগার্ডিয়া ভারতের অর্থনৈতিক উন্নতির খবর প্রকাশ করতে গিয়ে একই রকম সাপুড়ের ছবি ব্যবহার করেছিল।

প্রবাস বাংলা ভয়েস/কানাডা/২০ মে ২০২৬/এএ


Array