প্রবাস বাংলা ভয়েস ডেস্ক :: বর্তমান সময়ে আশ্চর্যজনকভাবে অনেক পুরুষই দ্রুত অকাল বার্ধক্যের দিকে এগিয়ে যাচ্ছেন। চুল পাকা, ত্বক ঢিলে হয়ে যাওয়া, শক্তি কমে আসা কিংবা শারীরিক সক্ষমতার দ্রুত অবনতি ঘটছে। কেন এমন হচ্ছে, এ প্রশ্নের জবাবে নতুন এক গবেষণা গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সামনে এনেছে। চীনের সাংহাই জিয়াও টং বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেল স্কুল-এর এক গবেষণায় দেখা গেছে, তথাকথিত ‘ফরএভার কেমিক্যাল’ বা পিএফএএস (PFAS) পুরুষদের দ্রুত বুড়িয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখতে পারে।
কী এই ‘ফরএভার কেমিক্যাল’?
পিএফএএসর পূর্ণরূপ Perfluoroalkyl and Polyfluoroalkyl Substances—এগুলো মানুষের তৈরি একধরনের রাসায়নিক যৌগ। দীর্ঘদিন ধরে ফার্নিচার, নন-স্টিক সামগ্রী, খাদ্য প্যাকেজিংসহ নানা ভোক্তা পণ্যে এগুলোর ব্যবহার হয়ে আসছে।
টানা ৩০ দিন ভেজানো কিশমিশ খেলে শরীরে যে ৬ পরিবর্তন আসে
এসব রাসায়নিককে ‘ফরএভার কেমিক্যাল’ বলা হয়, কারণ এগুলো সহজে পরিবেশে ভেঙে যায় না। প্রাকৃতিকভাবে পুনঃপ্রক্রিয়াজাত (রিসাইকেল) হতে এদের দীর্ঘ সময় লাগে, ফলে পরিবেশ ও মানবদেহে জমে থাকার ঝুঁকি থাকে। এর আগে পিএফএএস-কে হৃদরোগ ও ক্যানসারের মতো নানা জটিল রোগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বলা হয়েছিল। এবার গবেষকরা বলছেন, এসব কেমিক্যাল পুরুষদের জৈবিক বয়স বৃদ্ধির গতি ত্বরান্বিত করতে পারে।
জৈবিক বয়স বনাম ক্যালেন্ডার বয়স
আমরা সাধারণত জন্মতারিখ অনুযায়ী বয়স গণনা করি, এটি হলো ‘ক্রোনোলজিক্যাল এজ’। কিন্তু চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ধারণা আছে, সেটি হলো ‘বায়োলজিক্যাল এজ’ বা জৈবিক বয়স। এই জৈবিক বয়স নির্ধারিত হয় শরীরের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের কার্যক্ষমতা, কোষের স্বাস্থ্য, মানসিক সক্ষমতা ইত্যাদির ওপর ভিত্তি করে। জিনগত বৈশিষ্ট্য, জীবনযাপন পদ্ধতি ও পরিবেশগত উপাদান এই বয়সকে প্রভাবিত করে। জৈবিক বয়স যত বেশি হবে, বিভিন্ন দীর্ঘমেয়াদি রোগের ঝুঁকিও তত বাড়বে।
গবেষণায় কী পাওয়া গেছে?
এই গবেষণায় ১৯৯৯ ও ২০০০ সালে যুক্তরাষ্ট্রে পরিচালিত একটি জরিপে অংশ নেওয়া ৩২৬ জন বয়স্ক নারী-পুরুষের তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়। অংশগ্রহণকারীদের রক্তের নমুনা পরীক্ষা করে ১১ ধরনের পিএফএএস রাসায়নিকের উপস্থিতি যাচাই করা হয়। এরপর দেখা হয়, এই রাসায়নিকগুলোর সঙ্গে জৈবিক বয়স বৃদ্ধির কোনো সম্পর্ক আছে কি না। ফলাফলে দেখা যায়, ৫০ থেকে ৬৪ বছর বয়সী পুরুষদের ক্ষেত্রে পিএফএএস-এর উপস্থিতি জৈবিক বয়স বৃদ্ধির গতি বাড়িয়ে দেয়। তবে নারীদের ক্ষেত্রে একই ধরনের প্রভাব লক্ষ্য করা যায়নি।
গবেষকদের মতে, ফলাফল গুরুত্বপূর্ণ হলেও আতঙ্কিত হওয়ার প্রয়োজন নেই। বরং সচেতনতা বাড়ানো এবং দৈনন্দিন জীবনে এসব কেমিক্যালের সংস্পর্শ কমানোই বেশি জরুরি। গবেষণার ফলাফল আন্তর্জাতিক জার্নাল ফ্রন্টিয়ার্স ইন এজিং-এ প্রকাশ হয়েছে। সূত্র : জিও নিউজ
প্রবাস বাংলা ভয়েস/কানাডা/৩ মার্চ ২০২৬/এএ





