Menu

প্রবাস বাংলা ভয়েস ডেস্ক ::‌ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউট-এর অধ্যাপক ড. ওয়াহিদুজ্জামান চাঁন-এর বিরুদ্ধে নিকাব পরা নারী শিক্ষার্থীদের হেনস্তা এবং ‘উগ্রবাদী’ আখ্যা দেওয়ার অভিযোগ এনে ‘ঘৃণা ও বিক্ষোভ সমাবেশ’ করেছেন শিক্ষার্থীরা।বুধবার দুপুর ২টায় টিএসসি সংলগ্ন রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীবৃন্দের ব্যানারে এ বিক্ষোভ সমাবেশ করেন তারা। বিক্ষোভ সমাবেশ শেষে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের কাছে স্মারকলিপিও প্রদান করেন শিক্ষার্থীরা।

ঘটনা তদন্ত করে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীকে পুনরায় ভাইভা পরীক্ষার সুযোগ দেওয়া এবং অধ্যাপক ওয়াহিদুজ্জামানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান শিক্ষার্থীরা।স্মারকলিপিতে– বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বত্র নির্বিঘ্নে হিজাব-নিকাব পরিধান করার পরিবেশ নিশ্চিত করা, সম্প্রতি শিক্ষা ও গবেষণা ইন্সটিটিউটের ৩য় বর্ষের ভাইভা বোর্ডে নিকাব/হিজাব পরিহিতাদের হেনস্তার সুষ্ঠু তদন্ত, এর সঙ্গে জড়িত শিক্ষকদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেয়ার দাবি জানানো হয়।

এছাড়াও ভুক্তভোগী নারী শিক্ষার্থীকে ‘উগ্রবাদী’ আখ্যা দিয়ে বাসায় লেখাপড়া করতে বলে অধ্যাপক ড. ওয়াহিদুজ্জামানের দেওয়া মন্তব্যকে ‘ভিক্টিম ব্লেমিং ও রেসিস্ট’ উল্লেখ করে তার বিরুদ্ধে প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেয়ার দাবিও জানানো হয়।

স্মারকলিপিতে একটি অনলাইন নিউজপোর্টালের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, ‘শিক্ষা ও গবেষণা ইন্সটিটিউটের অধ্যাপক ড. ওয়াহিদুজ্জামান চাঁন ভুক্তভুগীকে উগ্রবাদী দলের সদস্য হিসেবে অপবাদ দিয়ে ‘ভিক্টিম ব্লেমিং’ করেছেন এবং পর্দানশীন মেয়েরা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে না এসে বাসার পড়াশোনা করবে বলে ‘রেসিস্ট’ মন্তব্য করেছেন। যার ফলে শিক্ষার্থীরা ‘মেন্টাল ট্রমার’ শিকার হয়েছেন এবং নিকাব ও হিজাব পরিহিতাদের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত লেগেছে।’

এতে আরও বলা হয়, ‘কিছুদিন পূর্বে বাংলা বিভাগের পক্ষ থেকে দেয়া একটি নোটিশ আমাদের দৃষ্টিগোচর হয়েছে। উক্ত নোটিশে পরিচয় শনাকরণ প্রক্রিয়ার অজুহাতে সব ধরণের পরীক্ষা ও ক্লাসে, বিভাগের সকল শিক্ষার্থীকে কানসহ মুখমণ্ডল দৃশ্যমান রাখার ‘কঠোর’ নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। এই নোটিশের ফলে বিভাগের ‘প্রাকটিসিং’ মুসলিম নারী শিক্ষার্থীদের ক্যারিয়ার হুমকির মুখে পড়েছে। নোটিশের মাধ্যমে তাদের ধর্মীয় ও সাংবিধানিক অধিকার ক্ষুণ্ণ করা হয়েছে বলে আমরা মনে করি। মুসলিম হিসেবে আমরা এই ঘটনায় মারাত্মকভাবে ব্যথিত হয়েছি এবং এটিকে ঘিরে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভের দানা বেঁধেছে।’

এসময় শিক্ষার্থীরা উপাচার্যের কাছে ৭ দফা দাবি পেশ করেন। দাবিগুলো হলো–

১. শিক্ষা ও গবেষণা ইন্সটিটিউটের ৩য় বর্ষের ভাইভা বোর্ডে পর্দানশীন শিক্ষার্থীদের হেনস্থা হওয়ার ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করতে হবে এবং নিকাব পরিধান করায় ভাইভা না নেয়া শিক্ষার্থীর ভাইভা নেয়ার ব্যবস্থা করতে হবে।

২. শিক্ষা ও গবেষণা ইন্সটিটিউটের অধ্যাপক ড. ওয়াহিদুজ্জামান চাঁন কর্তৃক ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীকে উগ্রবাদী দলের সদস্য অপবাদ দিয়ে ভিক্টিম ব্রেমিং করায় এবং পর্দানশীন মেয়েরা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে না এসে বাসায় পড়াশোনা করবে বলে রেসিস্ট মন্তব্য করায় তার বিরুদ্ধে প্রশাসনিক পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।

৩. বাংলা বিভাগকর্তৃক পরীক্ষা চলাকালীন কানসহ মুখমণ্ডল দৃশ্যমান রাখা সংক্রান্ত নোটিশ বাতিল করতে হবে।

৪. পরিচয় শনাক্তকরণে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায় পরীক্ষার পূর্বেই নারী কর্মচারী কিংবা নারী শিক্ষকের মাধ্যমে আলাদা রুমে হিজাব ও নিকাব পরিহিতাদের পরিচয় শনাক্ত করার ব্যবস্থা চালু করতে হবে।

৫. দ্রুততম সময়ে সব অনুষদের সব বিভাগে হিজাব-নিকাব পরিধানকারী শিক্ষার্থীদেরকে হেনস্তা করা বন্ধে নোটিশ প্রদান করতে হবে।

৬. বিভিন্ন সময়ে ক্লাসরুমে, ভাইবা বোর্ডে অথবা পরীক্ষার হলে নিকাব খুলতে বাধ্য করা অথবা কটূক্তির মাধ্যমে নারী শিক্ষার্থীদের শ্লীলতাহানি করার মতো ঘটনাগুলো তদন্তপূর্বক বিচারের ব্যবস্থা করতে হবে।

৭. হিজাব বা নিকাব পরিধানে পূর্ণ স্বাধীনতা দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় বিধিতে ধারা যুক্ত করতে হবে এবং ইতোমধ্যে এ সংক্রান্ত ঘটনায় ঝরে পড়া শিক্ষার্থীদের পুনরায় ফিরিয়ে এনে অথবা ভিন্ন উপায়ে ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা করতে হবে।

উল্লেখ্য, সম্প্রতি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইন্সটিটিউটের মৌখিক পরীক্ষায় শিক্ষকদের সামনে নেকাব না খোলায় ভাইভা দিতে পারেননি এক শিক্ষার্থী এবং অন্য আরেক শিক্ষার্থীকে নিকাব খুলতে বাধ্য করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি গণমাধ্যমে প্রকাশ পেলে ভাইভা বোর্ডের প্রধান অধ্যাপক ড. ওয়াহিদুজ্জামান চাঁন সেই নারী শিক্ষার্থীদের উগ্রবাদী দলের সদস্য হিসেবে মন্তব্য করেন এবং যারা পর্দা করেন তাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি না হয়ে বাসায় থেকে পড়াশোনা করার কথা বলেন।

প্রবাস বাংলা ভয়েস /ঢাকা/ ৩০ আগস্ট ২০২৩ /এমএম


Array