Menu

প্রবাস বাংলা ভয়েস ডেস্ক ::‌ কুড়িতে বুড়ি কিংবা চল্লিশে চালশে-তথাকথিত এই ভাবনাগুলো এখন পুরনো। একালের নারীরা বয়সটাকে হাতের মুঠোয় বন্দী করে এগিয়ে চলেছেন সর্বত্র। মেয়েদের জীবনে বয়সের যে দশকগুলো থাকে তার ব্যবধানগুলো খুব গুরুত্বপূর্ণ। দশ পেরোলেই কৈশোর, তখন শারীরিক গঠনে পরিবর্তন হয়, পিরিয়ডের সাথে পরিচিত হওয়া, বিশের আগে তরুণী, তারপর ত্রিশের আগে বা পরে বিয়ে, সন্তান ধারণ, সন্তান প্রসব, বাচ্চাকে স্তন্যদান তারপর তো দেখতে দেখতে সন্তান বড় হতে থাকে আর মেয়েদের দরজায় এসে কড়া নাড়ে চল্লিশ।

চল্লিশোর্ধ্ব সবারই একটি সাধারণ সমস্যা দেখা দেয়, যার নাম প্রেসবাইওসিয়া, প্রচলিত বাংলায় চালশে। চালশে শব্দটি চল্লিশ থেকে এসেছে। চালশে কোনো অসুখ নয়। এটি স্বাভাবিক দৃষ্টির ত্রুটি, যা নারী-পুরুষ সবারই কমবেশি হয়। তবে আমাদের দেশে চালশে শব্দটি নারীদের বিশেষ ত্রুটি-বিচ্যুতি বুঝাতে ব্যবহার করা হয়। মানে বুড়ি, ধুড়ি, বাতিল আরো কতো কী! এর মূল কারণ, চল্লিশের নারীকে পুরুষতন্ত্র ভয় পায়, এড়িয়ে চলতে চায়। কারণ, নারীর এই মানসিক পরিপক্কতা, সচেতনতার কাছে পুরুষতান্ত্রিক দমন-পীড়ন, প্রতারণা, জারিজুরি সুবিধা করে উঠতে পারে না।

মেয়েদের জীবনে চল্লিশ বছর একটি টার্নিং পয়েন্ট। এরপর পঞ্চাশ এসে ছুঁয়ে দেয় নারীর যাপিতজীবনকে। চল্লিশের পর আজকাল অনেক নারীই মা হচ্ছেন। জীবনের এমন একটি পর্যায়, যে বয়সটাতে নারীরা নিজেকে নতুনভাবে আবিস্কার করতে শুরু করে। চল্লিশের নারীকে নিয়ন্ত্রণ করা সহজ নয়, কব্জা করা কঠিন। চল্লিশ মানেই জীবনের অর্ধেকটা শেষ হয়ে যাওয়া নয়। তাই নিজেকে সুস্থ-সতেজ রাখতে হলে উপযুক্ত খাবার-দাবার, ব্যায়াম, পর্যাপ্ত পানি খাওয়া, পরিমাণ মতো ঘুম আর সবসময় হাসিখুশি থাকার চেষ্টা করুন। তাহলে শুধু সুস্থ না, থাকবেন রূপবতীও।

সময়ের চোরাস্রোতে ত্রিশের চৌকাঠ মাড়িয়ে যারা চল্লিশে চলে এসেছেন কিংবা যারা আসছেন তারা সবাই জানেন জীবনের হেঁটে আসার পুরো পথটুকু কোনো মেয়ের জন্যই মসৃণ নয়। অনেক ধকলের পর চল্লিশে এসে দাঁড়ায় নারীরা। তাই চল্লিশ থেকে পঞ্চাশ এই দশকটাতে নারীর খাবারে বেশ সচেতন থাকতে হবে। যাতে সুস্থ, সাবলীল ও সুন্দর থাকতে পারেন। চলুন জেনে নেওয়া যাক কেমন খাবার থাকা উচিত প্রতিদিনের মেন্যুতে-

১.সবসময় দানাশস্য জাতীয় খাবার খেতে চেষ্টা করুন। কারণ, এই খাবারগুলোতে ফাইবার, উদ্ভিজ প্রোটিন এবং কয়েক রকমের ভিটামিন থাকে। এ জাতীয় খাবার শরীরের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের জন্য দারুণ উপকারী। তাছাড়া ব্লাডসুগার বা রক্তে শর্করা পরিমাণ নিয়ন্ত্রণই নয়, রক্তচাপ, কোলেস্টেরল, ওজন নিয়ন্ত্রণ করতেও সাহায্য করে। শরীরে উপকারী ব্যাকটেরিয়া সৃষ্টি করে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। ফলশ্রুতিতে শরীর থাকে সুস্থ ও সতেজ।

২.আখরোট খেতে পারেন। কারণ, আখরোটে আছে ভিটামিন-ই, মেলাটোন, স্বাস্থ্যকর তেল জাতীয় উপাদান, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং গুরুত্বপূর্ণ ওমেগা-৩। এই উপাদানগুলো কার্ডিও ভাসকুলার রোগ হতে দেয় না।

৩.দুধ চা আর নয় কিংবা লিকার বা লাল চাও নয়। প্রয়োজন এখন গ্রিন টি। সুস্থ থাকতে গ্রিন টি খাওয়া ভালো। এতে আছে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। তাই নিয়মিত গ্রিন টি খেলে কার্ডিও ভাসকুলার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে। হার্ট অ্যাটাক, রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়।

৪.শরীরে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট তৈরি করে বিনস। কারণ, বিনসে আছে প্রচুর পরিমাণ অ্যামাইনো এসিড ও প্রোটিন। বিনসের খাদ্যগুণ কার্ডিও ভাসকুলারে আক্রান্ত হওয়ার হাত রক্ষা করে। এতে থাকা ফোলেট, ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম ইত্যাদি এনার্জি বাড়ায়, অ্যানিমিয়া এবং ক্যান্সারের প্রবণতা কমায়।

৫.খাবার তালিকায় পরিচিত সবজি বেগুন রাখতে পারেন। এতে আছে প্রচুর পরিমাণ খাদ্যগুণ। ১৩ রকমের ফেনোলিক এসিড আছে বেগুনে। এই এসিড ক্যান্সার আক্রমণ থেকে রক্ষাকবচ গড়ে তোলে।

৬.অতি পরিচিত ফল পেয়ারা ভিটামিন সি সমৃদ্ধ হওয়ায় ক্যান্সার টিউমার তৈরি হতে দেয় না। যেকোনো রকম ইনফেকশনে প্রতিরোধ গড়ে তোলে। প্রোটেস্ট ক্যান্সার প্রতিরোধের ক্ষেত্রেও পেয়ারা দারুণ উপকারী। এতে আছে পটাশিয়াম। পটাশিয়াম পেশিকে শক্ত ও রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করে।

৭.শরীরে আয়রনের পরিমাণ ঠিক রাখতে সামুদ্রিক মাছ, শুকনো ফল, মটরশুঁটি, পালং শাক, কচু শাক খেতে পারেন। মাঝে মধ্যে গরুর মাংস, মুরগির মাংসও খাওয়া যেতে পারে আয়রনের জন্য।

৮.ম্যাগনেসিয়াম, পটাসিয়াম, ক্যালসিয়াম, ভিটামিন বি১২ যেনো শরীরে ঘাটতি না হয় সেজন্য খাওয়ার চেষ্টা করবেন সবুজ শাক, মসুরের ডাল, সয়াবিন, বাদাম, মিষ্টি কুমড়া, কলা, কমলা, শসা, টুনা মাছ, স্যামন মাছ, সয়াবিন, দুধ, ডিম, দই ও পনির।

৯.ভিটামিন ডি অন্যান্য ভিটামিন সঠিকভাবে গ্রহণ করতে সাহায্য করে। শরীর যেনো ক্যালসিয়াম সঠিকভাবে গ্রহণ করে হাড় মজবুত রাখে সেদিকেও লক্ষ্য রাখতে সাহায্য করে এই ভিটামিন। ভিটামিন ডি- এর অভাবে হৃদরোগ, ডায়াবেটিস, স্তন ক্যান্সার ও কলোরেক্টাল ক্যান্সারের ঝুঁকি বেড়ে যায়। ভিটামিন ডি পেতে প্রতিদিন কিছুক্ষণ সূর্যালোকে থাকার অভ্যাস করুন। এছাড়া কড লিভার অয়েল, সামুদ্রিক মাছ, ডিম, ওটস, মাশরুম, সয়া মিল্কে পাওয়া যায় ভিটামিন ডি।

চল্লিশ মানে আর নয় কোনো দ্বিধা, নয় কোনো ভ্রান্তি। শারীরিক-মানসিক নতুন নতুন চ্যালেঞ্জকে জয় করে এগিয়ে যাওয়ার নামই চল্লিশ। নিয়মিত সুষম খাবার খান, ব্যায়াম করুন, ত্বকের যত্ন নিন আর চমকে দিন সমাজ-সংসার-কর্মক্ষেত্রের সবাইকে। কারণ, আপনি অনন্যা, আপনি আধুনিকা এবং সেই আপনিই রূপবতী, অতুলনীয়া।

প্রবাস বাংলা ভয়েস/ঢাকা/ ০৯  জুন ২০২১ /এমএম