প্রবাস বাংলা ভয়েস ডেস্ক :: এসএসসির সিলেবাস আরও ছোট হচ্ছে। ২৫-৩০ শতাংশ কমানো সিলেবাসও প্রত্যাশিত সময়ের মধ্যে শেষ করা সম্ভব হবে না। শিক্ষকদের পক্ষ থেকে এমন পরামর্শ আসায় সিলেবাস ছোট করার এই সিদ্ধান্ত হয়েছে।
গত সোমবার প্রকাশিত এসএসসির সংক্ষিপ্ত সিলেবাস আজ বৃহস্পতিবারের মধ্যেই প্রত্যাহার করে নেওয়া হবে। নতুন সংক্ষিপ্ত সিলেবাস আগামী সপ্তাহের মধ্যে প্রণয়ন করা হবে। পাশাপাশি এইচএসসির সংক্ষিপ্ত সিলেবাসও তৈরি করা হবে একই সময়ের মধ্যে। প্রস্তাবিত সংক্ষিপ্ত সিলেবাসের মধ্যে এসএসসির ৬০ আর এইচএসসিরটি ৮৪ কর্মদিবসের মধ্যে শেষ করার কৌশল অনুসরণ করা হবে।
বৈঠক সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। বুধবার জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডে (এনসিটিবি) অনুষ্ঠিত এক সভায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এতে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি সভাপতিত্ব করেন। এতে মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. মাহবুব হোসেন, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. সৈয়দ মো. গোলাম ফারুক, এনসিটিবি চেয়ারম্যান নারায়ণ চন্দ্র সাহা প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। সভা থেকে এনসিটিবিকে আগামী ৪ ফেব্রুয়ারির মধ্যে পুনর্বিন্যস্ত সিলেবাস শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে জমা দিতে বলা হয়েছে।
বিষয়টি নিশ্চিত করে এনসিটিবির চেয়ারম্যান অধ্যাপক নারায়ণ চন্দ্র সাহা বলেন, এসএসসির সিলেবাস আরও সংক্ষিপ্ত করার পরামর্শ এসেছে। এ কারণে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রকাশিত সিলেবাস প্রত্যাহার করা হবে। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যেই এসএসসি ও এইচএসসির পুনর্বিন্যস্ত সিলেবাসের কাজ শেষ করা হবে।
শিক্ষকরা বলছেন, গত সোমবার প্রকাশিত এসএসসির সিলেবাসে ২০ থেকে ৩০ শতাংশ কমানোর কথা বলা হলেও আসলে সব বিষয়ে তা হয়নি। বাংলা প্রথম পত্রে বই পড়া, উপেক্ষিত শক্তির উদ্বোধন, লাইব্রেরি, প্রবাসবন্ধু, নিয়তি, জুতা আবিষ্কার, ঝরনার গান, সেই দিন এই মাঠ, আশা, সাহসী জননী বাদে বাকিগুলো সব রাখা হয়েছে। বাংলা দ্বিতীয় পত্রে শুধু প্রথম অধ্যায় বাদে বাকি সব, ইংরেজি প্রথম পত্রে ইউনিট ১, ৬ ও ৯ বাদে সব এবং ইংরেজি দ্বিতীয় পত্রে মডেল টেস্টের ২ নম্বর বাদে সব সিলেবাসে রাখা হয়েছে।
অন্যদিকে গণিতে ১, ৪, ৫, ৬, ১২ ও ১৫ অধ্যায় বাদে সব, পদার্থ বিজ্ঞানে ১০, ১২, ১৩ ও ১৪ অধ্যায় বাদে সব, রসায়নে ৯ থেকে ১২ অধ্যায় বাদে সব, জীববিজ্ঞানে ৩, ৭, ৯, ১০ ও ১৩ অধ্যায় বাদে সব, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তিতে ৬ অধ্যায় বাদে সব, হিন্দু ধর্ম ও নৈতিক শিক্ষায় ১, ৬ ও ৮ অধ্যায় বাদে সব, উচ্চতর গণিতে ১, ৪, ১০, ১২ ও ১৩ অধ্যায় বাদে সব, কৃষি শিক্ষায় এক থেকে চার অধ্যায় পড়তে হবে, ভূগোল ও পরিবেশে ৭, ৯ ও ১১ অধ্যায় বাদে পুরো বই, ইতিহাসে ৫, ৭, ৮ ও ৯ অধ্যায় বাদে সব সংক্ষিপ্ত সিলেবাসে রাখা হয়েছে। বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয় এবং ইসলাম ধর্ম ও নৈতিক শিক্ষা বিষয়ে কোনো কিছুই বাদ না দিয়ে পুরো বই সংক্ষিপ্ত সিলেবাসে রাখা হয়েছে।
এনসিটিবির চেয়ারম্যান বলেন, বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয় এবং ইসলাম ধর্ম ও নৈতিক শিক্ষার সিলেবাস সংক্ষিপ্ত করা হলেও ভুলক্রমে আগের পুরো সিলেবাসই প্রকাশ করা হয়েছে। কিন্তু এখন যেহেতু পুরো সিলেবাসই প্রত্যাহার হচ্ছে, তাই সেটা আমরা আর সংশোধন করছি না।
জানা যায়, আগামী জুনে এসএসসি ও জুলাই-আগস্টে এইচএসসি পরীক্ষা গ্রহণের পরিকল্পনা আছে। ফলে ফেব্রুয়ারিতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুললেও এসএসসিতে ৬০ কর্মদিবসে এবং এইচএসসিতে সর্বোচ্চ ৮০ কর্মদিবস ক্লাস করানো সম্ভব। কিন্তু এসএসসির যে সিলেবাস প্রস্তাব করা হয়েছে তা প্রত্যাশিত সময়ে শেষ হবে না। সংশ্লিষ্টরা জানান, তিন মাসে শেষ করার উপযোগী সিলেবাস করার পরামর্শ ছিল।
কিন্তু এনসিটিবি খুব সামান্য কমিয়েছে। এতে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়। তাই এই সময়ে শেষ করা যায় এমন সিলেবাস প্রকাশ করার ব্যাপারে সভায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
এনসিটিবির কারিকুলাম শাখার কর্মকর্তারা বলছেন, এসএসসির জন্য ৬০ কর্মদিবসে শেষ করার মতো সিলেবাস করলে এখন অর্ধেক থেকে তিন-চতুর্থাংশই বাদ দিতে হবে। সেটা না হলে কোনো রকমে হয়তো শিক্ষার্থীদের সিলেবাস শেষ করিয়ে দেওয়া যাবে। কিন্তু যারা করোনাকালে পড়ালেখা করতে পারেনি তাদের পক্ষে কোনোভাবেই তা শেষ করা সম্ভব হবে না।
সব ধরনের শিক্ষার্থীর কথা বিবেচনা করে সিলেবাস কমানোর সিদ্ধান্ত এসেছে। কেননা, করোনাকালে মূলত উচ্চবিত্ত ও উচ্চ মধ্যবিত্ত শ্রেণির সন্তানেরা লেখাপড়া চালু রেখেছিলেন। নিম্নবিত্ত ও দরিদ্র পরিবারের সন্তানদের লেখাপড়া তেমন একটা চলেনি। তাদের ফল খারাপ হতে পারে। এই বৈষম্য দূর করতেই আবারও সংক্ষিপ্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়।
প্রবাস বাংলা ভয়েস/ঢাকা/ ২৮ জানুয়ারি ২০২১ /এমএম





