প্রবাস বাংলা ভয়েস ডেস্ক :: পত্রিকায় কলাম লেখার কাজটি এখন খুবই কঠিন হয়ে পড়েছে। আমার মতো যারা প্রতি সপ্তাহে উপসম্পাদকীয় কলাম লেখেন, তাদের বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হয়। বছরের ৫২ সপ্তাহের জন্য ৫২টি বিষয় নিয়ে লেখা খুব সহজ কাজ নয়। তারপরও বাংলাদেশে লেখার জন্য বিষয় বা ইস্যুর অভাব নেই।
প্রতিদিন দেশের কোথাও না কোথাও এমন সব ঘটনা ঘটে, যেগুলো সমাজ চিন্তকদের ভাবিয়ে তোলে। কিন্তু সবকিছু নিয়ে মনমতো কথা লেখা যায় না। নানা রকম প্রতিবন্ধকতা এবং লেখার স্বাধীনতার ওপর নিয়ন্ত্রণ মনের আনন্দে লেখার সুযোগ সংকুচিত করে ফেলেছে।
এ অবস্থা যদি অব্যাহত থাকে, তাহলে ১৬ কোটি মানুষের এই দেশটি একটি মৃত সমাজে পরিণত হবে। দেশের এমন চেহারা আমরা কেউ দেখতে চাই না। তারপরও লিখতে হবে। অনেক সময় এ বয়সে ঝামেলায় পড়ার আশঙ্কা থেকে মুক্ত থাকার জন্য কিছু কলাকৌশলের আশ্রয় নিতে হয়। এ রকম একটি কলাকৌশল হল কোনো অ্যাবস্ট্রাক্ট বিষয় নিয়ে লেখা।
এ ধরনের লেখায় রাজনৈতিক উত্তেজনা থাকে না, থাকে না কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীকে দোষারোপ করার প্রয়াস। এ ধরনের লেখা থেকে যে ধরনের মেসেজ সঞ্চারিত হয় তা মানুষের চিন্তা ও ভাবের জগৎকে আন্দোলিত করে।
এ রকম লেখা অনেক পাঠকই হয়তো পড়তে গিয়ে ধৈর্য হারিয়ে ফেলেন। তারপরও যে অল্পকিছু সংখ্যক পাঠক কষ্ট করে এটি পড়েন, তার মনে নিশ্চয়ই নতুন কোনো প্রশ্ন বা নতুন কোনো জিজ্ঞাসা সৃষ্টি হয়। আর প্রশ্ন করার মধ্য দিয়েই জ্ঞানের যাত্রা শুরু হয়। সক্রেটিসের মতো দার্শনিক প্রাসঙ্গিক প্রশ্ন উত্থাপন করার ওপর বিশাল গুরুত্ব দিয়েছেন।
আমরা যে একটি পুঁজিবাদী সমাজে বাস করছি তা নিয়ে কোনো দ্বিমত নেই। তবে অভ্যুদয়ের পর থেকে পুঁজিবাদ নানা চেহারা নিয়ে প্রকাশ পেয়েছে। এখন একবিংশ শতাব্দী চলছে। এ সময়ের পুঁজিবাদ কেমন ধরনের পুঁজিবাদ? পাশ্চাত্যের চিন্তাবিদরা বিষয়টি নানাভাবে ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করেছেন।
কয়েক সপ্তাহ আগে আমার এক লেখায় শোশানা জুবোফের লেখা The Age of Surveillance Capitalism গ্রন্থটির সূত্র উল্লেখ ছিল। কিন্তু কোনো বিশদ ব্যাখ্যা ছিল না। Surveillance Capitalism-এর বাংলা তর্জমা করলে দাঁড়ায় নজরদারির পুঁজিবাদ। আমাদের দেশের গত কয়েক বছরের সংবাদপত্রের শিরোনামে নজরদারি শব্দটি বহুবার বহু রকমে লেখা হয়েছে।
এর অর্থ হল দেশের নাগরিকদের কেউ না কেউ অথবা কয়েকজনের সমাহার নজরদারির মধ্যে রয়েছে। কার নজরদারি? কিসের নজরদারি? এ দেশের গণতন্ত্রপ্রিয় মানুষরা ঠিকই বুঝতে পারে তারা গোয়েন্দাদের নজরদারিতে রয়েছে। তবে ফৌজদারি অপরাধের জন্যও গোয়েন্দা সংস্থাগুলো নজরদারি চালিয়ে থাকে।
একবিংশ শতাব্দীর সভ্যতাকে কোন ধরনের সভ্যতা বলা যায়? এ সভ্যতাকে অনেক পণ্ডিত তথ্যসভ্যতা বলে অভিহিত করেছেন। ২০১১ সালের ৯ আগস্ট এ পৃথিবীতে ৩টি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা ঘটে। এসব ঘটনার অকুস্থল পরস্পরের কাছ থেকে হাজার হাজার মাইল দূরে অবস্থিত।
এ ঘটনাগুলোর মধ্যে লুকিয়ে আছে অসামান্য সম্ভাবনা এবং ঘটমান বিপদের উপাদান। প্রথম ঘটনাটি হল, সিলিকন ভ্যালির অগ্রদূত অ্যাপল (Apple) প্রতিশ্রুতি ঘোষণা করল যে, পুরনো অর্থনৈতিক ও সামাজিক সমস্যা ডিজিটাল পদ্ধতিতে সমাধান সম্ভব এবং এমন সম্ভাবনা একটি বিশাল স্বপ্নের মতো।
এ প্রতিশ্রুতি ঘোষণার পর অ্যাপল এক্সনমোবিল কোম্পানির পুঁজির শক্তিকেও অতিক্রম করে যায়। দ্বিতীয়ত, লন্ডনে পুলিশের গুলিবর্ষণের ফলে মানুষের মৃত্যু ঘটায় ব্যাপক দাঙ্গার সৃষ্টি হয় এবং সারা দেশে জঙ্গি জনবিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। মনে রাখা দরকার এ ঘটনার কয়েক বছর আগেই সূচিত হয়েছিল ডিজিটাল প্রবৃদ্ধি।
এ প্রবৃদ্ধি সূচক অর্থনৈতিক বিকাশের মূলে ছিল নব্য উদারনীতিবাদী অর্থনীতির দর্শন। এর ফলে ব্যাপকভাবে কৃচ্ছ্রসাধনের অর্থনীতির প্রচলন ঘটে। এ নীতির মূল কথা হল, রাষ্ট্রের খরচ কমাও। সরকারি শিল্পকারখানাগুলো ব্যক্তিমালিকানায় হস্তান্তর করো।
রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে বহু অপ্রয়োজনীয় শ্রমিক ও কর্মচারী নিয়োগ দেয়া হয়েছে এ অভিযোগ করে বহু মানুষকে কর্মচ্যুত করা হয়। শুধু তাই নয়, গরিব ও ধনীদের মধ্যে অর্থনৈতিক বৈষম্য প্রকটভাবে বৃদ্ধি পায়। স্বাভাবিকভাবেই জনমনে এ অবস্থার বিরুদ্ধে ক্ষোভ ধূমায়িত হচ্ছিল। জনগণের একটি বিরাট অংশ ভাবতে শুরু করেছিল, তাদের কোনো ভবিষ্যৎ নেই। এ মানুষগুলো ভাবতে শুরু করে যে, কঠোর বিক্ষোভের আর কোনো বিকল্প নেই এ রকম পরিস্থিতিতে।
তৃতীয়ত, স্পেনের জনগণ মানবজাতির ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ে। তারা ইন্টারনেট সংস্থা গুগলের বিরুদ্ধে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। তাদের দাবি ছিল তাদেরকে ভুলে যাওয়ার অধিকার দিতে হবে। ভুলে যাওয়ার অধিকার কথাটি শুনতে অদ্ভুত মনে হতে পারে।
গুগলের মতো ইন্টারনেট প্রতিষ্ঠান বিশ্বের কোটি কোটি মানুষের কথোপকথন, ই-মেইল বিনিময়, ছবি আদান-প্রদান এবং ভিডিও প্রভৃতি ধারণ করে রাখে। এগুলোর অনেক কিছুই ব্যক্তির জন্য সুখকর নয়। মানবজীবনের বিভিন্ন সময়ে এমনসব ঘটনা ঘটে যা বর্তমান ডিজিটাল প্রযুক্তির সহায়তায় শত শত বছর পর্যন্ত ধরে রাখা সম্ভব।
এসব তথ্যের অনেকগুলো নেতিবাচক বৈশিষ্ট্যপূর্ণ। তাই অনেকেই চায় না, এ তথ্যগুলো সম্পর্কে অন্য কেউ অবহিত হোক। তথ্যগুলো মুছে ফেলা না হলে কেউ না কেউ একদিন ডিজিটাল বিজ্ঞানের ব্যবহার করে তথ্যটি বের করে আনতে পারে।
তবে ইন্টারনেট সংস্থাগুলো দাবি করে যে, দুই প্রান্তে যাদের মধ্যে যোগাযোগ হচ্ছে তাদের কথা কিংবা লেখা অন্য কেউ জানতে পারবে না। তারপরও আমরা দেখতে পেয়েছি, হ্যাকাররা ব্যক্তি তো দূরের কথা রাষ্ট্রের অনেক গোপনীয় বিষয় বের করে আনতে পারে।
জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জ এটি করে দেখিয়েছেন। ইন্টারনেট সংস্থার ওপর অনাস্থা থেকেই ভুলে যাওয়ার অধিকার দাবি করা হয়েছে। আশা করা গিয়েছিল ডিজিটাল প্রযুক্তি ভবিষ্যতে একটি ন্যায্য ও গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা উপহার দেবে। কিন্তু এ আশা নিরাশায় পরিণত হয়েছে, সৃষ্টি করেছে দুঃস্বপ্ন। এখন ব্যাপারটি একটি বৈশ্বিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার জন্ম দিয়েছে।
এ প্রতিদ্বন্দ্বিতা হল কীভাবে এবং কেমন করে ডিজিটাল সক্ষমতার সঙ্গে পুঁজিবাদী উচ্চাকাঙ্ক্ষাকে সমন্বিত করা যায়। গল্পে আমরা দৈত্যের কাহিনী পড়তে গিয়ে তার প্রাণ কোথায় লুকিয়ে আছে সেসব জেনেছি। এখন বিশ্বময় যে ডিজিটাল প্রযুক্তির অপরিসীম অগ্রগতি লক্ষ্য করছি তাকে একটি শুদ্ধরূপ দিতে হলে বিদ্যমান তথ্য সভ্যতাকে গণতান্ত্রিক কর্মকাণ্ড, ব্যক্তির ক্ষমতা, অজ্ঞানতা অথবা ভেসে চলার গতি দিয়ে শোধরানো সম্ভব।
অ্যাপল কোম্পানিটি গানের জগতে যখন প্রবেশ করে তখন চাহিদা ও সরবরাহের মধ্যে খণ্ডযুদ্ধ চলছিল। এ সময় একদল যুবক ছিল যাদের Napster-এর জন্য প্রবল উৎসাহ ছিল। এ ছাড়াও আরও অনেক ধরনের গানের ফাইল তারা শেয়ার করতে চাচ্ছিল। এর ফলে ভিন্ন এক ধরনের চাহিদার সৃষ্টি হল।
এ চাহিদার মূলে ছিল আমি আমার মতো করে ভোগ করব। আমি কী চাই? কখন চাই? কোথায় চাই? সবই আমার ভোগের বৈশিষ্ট্য নির্ধারণ করে। অপরদিকে সঙ্গীতশিল্প জগতের কিছু কর্মকর্তা ছিলেন যারা ভয়-ভীতি দেখিয়ে নতুনভাবে সৃষ্ট চাহিদাকে বন্ধ করে দিতে চাইলেন।
এ কর্মকর্তারা যেসব সঙ্গীত শ্রোতা গভীরভাবে Napster ব্যবহার করে তাদের বিরুদ্ধে মামলার আশ্রয় নিল। এ পরিস্থিতিতে অ্যাপল দু’পক্ষকে কাছাকাছি নিয়ে এলো এবং তাদের মধ্যে সেতুবন্ধ সৃষ্টি করল। অ্যাপল বাণিজ্যিক এবং আইনি বিবেচনার দিক থেকে টেকসই সমাধান আবিষ্কার করল। এ সমাধানের ফলে কোম্পানিগুলোকে ব্যক্তির পরিবর্তনশীল চাহিদা অনুযায়ী কাজ করতে প্রণোদিত করল। Napster সঙ্গীত শিল্পে হ্যাকিং করেছিল। কিন্তু অ্যাপল পুঁজিবাদকেই হ্যাক করে বসে।
আইপড/আইটিউনস/ আইফোনকে ভিত্তি করে অ্যাপলের পণ্যের চাহিদা প্রচণ্ডভাবে বৃদ্ধি পেল। অ্যাপলের মুনাফা আকাশ ছুঁই ছুঁই করার অবস্থা। ব্লুমবার্গের মূল্যায়ন অনুযায়ী অ্যাপল এক রহস্যজনক বিস্ময়ের সৃষ্টি করেছে। কেউ কেউ বলল, এ বিশ্বাস প্রায় ধর্মীয় বিশ্বাসের কাছাকাছি চলে যায়।
অ্যাপল ২০০৩ সালের অক্টোবরের উইন্ডোজের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ আইটিউনস প্ল্যাটফর্ম সৃষ্টি করার পর শ্রোতারা দশ লাখ আইটিউনস সফটওয়্যার বিনা মূল্যে ডাউনলোড করল এবং একই সঙ্গে গানের জন্য মূল্য পরিশোধ করল। এর পরিপ্রেক্ষিতে স্টিব জবস ঘোষণা করলেন, ‘এক সপ্তাহেরও কম সময়ে আমরা সব রেকর্ড ভঙ্গ করেছি এবং বিশ্বের বৃহত্তম অনলাইন সঙ্গীত কোম্পানিতে পরিণত হয়েছি।’
এক মাসের মধ্যে ৫০ লাখ ডাউনলোড হয়েছিল। তার পরবর্তী ৩ মাসে আরও ১০ লাখ ডাউনলোড হয়। তারও পরবর্তী ৩ মাসে ২৫০ লাখ ডাউনলোড হয়। সাড়ে চার বছর পর ২০০৭ সালের জানুয়ারিতে এ সংখ্যা ২ বিলিয়নে উন্নীত হয়। ৬ বছর পর ২০১৩ সালে এ সংখ্যা ২৫ বিলিয়নে দাঁড়ায়।
২০০৮ সালে অ্যাপল বিশ্বের বৃহত্তম খুচরা সঙ্গীত বিক্রেতা ওয়ালমার্টকে ছাড়িয়ে যায়। এর পাশাপাশি আইপড বিক্রয়ও আশ্চর্যজনকভাবে বৃদ্ধি পায়। প্রথমদিকে এটি বিক্রি হতো প্রতি মাসে ১০ লাখ করে। ৪ বছরের মধ্যে এর বিক্রি দাঁড়াল ১০ কোটি। অ্যাপল তার বৈপ্লবিক ডিভাইস আইফোনে আইপডের ফাংশানগুলো ঢুকিয়ে দিল।
এর ফলে আইফোন বিক্রিতে বিশাল উল্লম্ফন ঘটল। ২০১৭ সালের স্টক মার্কেট রিটার্ন থেকে জানা যায় অ্যাপল এত মুনাফা করেছে যে যার পরিমাণ বিংশ শতাব্দীতে কোনো মার্কিন কোম্পানি এত মুনাফা করতে পারেনি। মনে হয় অ্যাপল জাদুর কাঠি খুঁজে পেয়েছিল। আইপড আসার ১০০ বছর আগে Mass Production-এর ফলে পুঁজিবাদী ব্যবস্থায় বৈপ্লবিক পরিবর্তন ঘটে। সেই থেকে শুরু Mass Consumption-এর। অর্থাৎ একদিকে গণউৎপাদন, আরেক দিকে গণহারে ভোগ।
এ বিষয়টি পুঁজিবাদের চেহারাই পাল্টে দেয়। এ সময় থেকে মধ্যবিত্ত সমাজ তাদের সাধ্যের মধ্যে অনেক ধরনের প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র বা Consumer durables ক্রয় করতে সমর্থ হয়। হেনরি ফোর্ড গাড়ির দাম ৬০ শতাংশ কমিয়ে দেয়। তার যুক্তি হল বিশাল উৎপাদনের ফলে প্রতি ইউনিটের উৎপাদন ব্যয় কমে যায়।
হেনরি ফোর্ড বললেন, আপনি যে কোনো রঙের গাড়ি কিনতে পারেন, যতক্ষণ তা কালো হয়। এ ব্যবসা কৌশলের ফলে মার্কিন মধ্যবিত্ত শ্রেণি আরামদায়ক জীবনযাত্রা বেছে নিতে সক্ষম হয়। বড় লোকের দামি ক্যাডিলাক গাড়ি দেখে মধ্যবিত্ত শ্রেণিকে হাপিত্তেশ করতে হয়নি।
অর্থনীতিবিদ ওয়াল্ট রস্টো অর্থনৈতিক অবস্থার বিভিন্ন স্তর দেখাতে গিয়ে সর্বোচ্চ স্তর হিসেবে দেখিয়েছেন Mass Consumption Stage. একবিংশ শতাব্দীতে এসে দেখা যাচ্ছে এর পরও আরও স্তর আসবে, সেটা হল ডিজিটাল প্রযুক্তিজাত। তবে প্রযুক্তিগত উন্নতি ব্যবসার ক্ষেত্রে শেষ কথা নয়। মানুষের অভিরুচি এবং আর্থ-সামাজিক অবস্থাও পুঁজিবাদের চেহারা কেমন হবে তা নির্ধারণ করে দেয়।
এখন গুগল থেকে শুরু করে সব ধরনের তথ্যপ্রযুক্তি কোম্পানি যেভাবে মানুষের বিভিন্ন তথ্য সঞ্চয় করেছে সেগুলোকে বিশ্লেষণ করার পদ্ধতির মধ্যে নিয়ে এসে ব্যবসার জন্য আরও প্রয়োজনীয় তথ্য দিতে সক্ষম হচ্ছে। এটা হল বিগ ডাটার ব্যবহার। এ থেকে মানুষের আচরণ সম্পর্কে অনেক কিছু জানা যায়।
আচরণের এ তথ্য ব্যবহার করে ব্যবসা সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণে সহায়তা পাচ্ছে বিশাল কোম্পানি। এখন প্রশ্ন হল, বিগ ডাটার ব্যবহার মানুষ কীভাবে বিবেচনা করবে। স্পেনের জনগণ বিস্মৃত হওয়ার অধিকার দাবি করেছিল এ দাবির যৌক্তিকতা আছে। যেহেতু মানুষের তথ্য তথ্যপ্রযুক্তি কোম্পানিগুলো হস্তগত করছে তাহলে বর্তমান তথ্য সভ্যতা কি নজরদারির সভ্যতার জন্ম দিচ্ছে না? কোনো মানুষই চায় না, তার ব্যক্তি স্বাতন্ত্র্যবোধ ক্ষুণ্ন হোক।
উন্নততর নৈতিক প্রয়োজনে ব্যক্তি স্বাতন্ত্র্যবোধ যৌথ আকাঙ্ক্ষায় পরিণত হতে পারে। কিন্তু ব্যক্তি স্বাতন্ত্র্যবোধের অনেক দিক আছে যা জনসমক্ষে প্রকাশ কাম্য নয়। একেই বলা হয় প্রাইভেসি। কিন্তু নজরদারির পুঁজিবাদী এ ব্যবস্থায় মানুষের প্রাইভেসি আর আড়াল করে রাখা সম্ভব হচ্ছে না। এটা কি সভ্যতা?
বি. দ্র. গত সংখ্যায় ড. মাহবুব উল্লাহর কলামে শিরোনাম দেয়া হয়েছে, ‘কোনো দেশেরই পারমাণবিক শক্তি ব্যবহার করা উচিত নয়’। এখানে শক্তি শব্দটির ব্যবহার সঠিক হয়নি। এর পরিবর্তে অস্ত্র শব্দটি ব্যবহার করা উচিত ছিল। পারমাণবিক শক্তি চিকিৎসাসহ বিভিন্ন শান্তিপূর্ণ কাজে ব্যবহার করা হয়।
ড. মাহবুব উল্লাহ : শিক্ষাবিদ ও অর্থনীতিবিদ
প্রবাস বাংলা ভয়েস/ঢাকা/ ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২০/এমএম





