Menu

বাংলানিউজসিএ ডেস্ক :: মানবিক গুণসমৃদ্ধ যা কিছু অর্জন, তা-ই আমার কাছে শিক্ষা। আর প্রাথমিক পর্যায়ে বা জীবনের শুরুতে যে বিদ্যালয়ে বা প্রতিষ্ঠানে ছাত্রছাত্রী শিক্ষা অর্জন করে, তা-ই প্রাতিষ্ঠানিক প্রাথমিক শিক্ষা। একটা সময় ছিল এই প্রাথমিক শিক্ষা গ্রহণ করতে পাড়ি দিতে হতো দীর্ঘপথ। এ কারণে সেসময়ে শিক্ষার হার ছিল নগণ্য।বিদ্যালয়গামী ছাত্রছাত্রী ছিল সংখ্যায় কম। শিক্ষক ছিল অপ্রতুল। বই কিনতে হতো অর্থ দিয়ে লাইব্রেরি থেকে। ফলে দারিদ্র্যের কারণে ঝরে পড়ত অনেক শিক্ষার্থী। সবকিছু মিলিয়ে পড়ালেখার প্রতি মানুষের আগ্রহ ছিল কম। বর্তমান চিত্র সম্পূর্ণ বিপরীত।

এখন প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে জনবসতির মাত্র কয়েক কিলোমিটার দূরত্বের মধ্যে। রয়েছে বিভিন্ন বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। শিক্ষক রয়েছে পর্যাপ্তসংখ্যক। বই দেয়া হচ্ছে বিনামূল্যে।ফলে অনেকে এখন বিদ্যালয়মুখী। তাছাড়া পড়ালেখার ব্যাপারে এখন অনেক পরিবারই সচেতন। সন্তানকে পড়ালেখা করাতে অনেক পরিবারই দারিদ্র্যকে জয় করছে।সবচেয়ে অবাক করার বিষয় হচ্ছে, সাম্প্রতিক সময়ে অভিভাবকরা তাদের সন্তানদের প্রাথমিক থেকেই গুরুত্বসহকারে তৈরি করছে। আমাদের সময় যে যত্নটার অভাব ছিল, বর্তমান সময়ে সেটা প্রাক-প্রাথমিক থেকেই পাচ্ছে বেশিরভাগ শিক্ষার্থী।

প্রাথমিক শিক্ষা হল শিক্ষার মূলভিত্তি। তাই এ সময়ে অভিভাবকদের উচিত সন্তানদের সুশিক্ষিত হিসেবে গড়ে তুলতে মানসম্মত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বেছে নেয়া এবং সন্তানের যত্ন নেয়া। কিন্তু কিছু অসচেতন অভিভাবক আছেন, যারা সন্তানকে বিদ্যালয়ে পাঠাতে চান না বা শিক্ষার মর্ম উপলব্ধি করেন না। ২০১০ সাল থেকে সরকার বিনামূল্যে পাঠ্যপুস্তক বিতরণ করছে। এছাড়াও চালু রয়েছে বৃত্তিমূলক ব্যবস্থা। সরকারি শিক্ষকদের বেতন হয়েছে দ্বিগুণ। এতকিছুর পরও দেখা যায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোয় কিছু ঘাটতি রয়েছে। দুর্বল শিক্ষার্থীদের দুর্বলতা কাটাতে শিক্ষকরা হিমশিম খাচ্ছেন।আবার মেধাবী শিক্ষার্থীদেরও মানসম্মত শিক্ষা দিতে পারছেন না তারা। কেজি স্কুলগুলো এ সুযোগটা লুফে নিচ্ছে।

প্রাথমিকে সবচেয়ে বেশি যে বিষয়টা চিন্তার তা হল পাঠ্যপুস্তক ও প্রশ্ন কাঠামো। তৃতীয় থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত বিভিন্ন সাময়িক পরীক্ষার প্রশ্নপত্র বা প্রশ্ন কাঠামোর দিকে তাকালে লক্ষ করা যায়, সেখানে কিছু অংশ পাঠ্যপুস্তকবহির্ভূত। যদি বাংলার বিষয়ে বলি, সেখানে রয়েছে বিরামচিহ্ন।অথচ বিরামচিহ্নের যে নিয়মটা রয়েছে- কোথায় কী থাকলে কোন চিহ্ন হয়- তা পাঠ্যপুস্তকে নেই। ফলে শিক্ষার্থীরা মুখস্থ করছে। ইংরেজির প্রায় অর্ধেকের বেশি অংশ থাকে পাঠ্যপুস্তক বহির্ভূত। তৃতীয় থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত কোনো গ্রামার নেই, অথচ পরীক্ষায় আসছে ডব্লিউএইচ প্রশ্ন।

এটা করতে গেলে সাবজেক্ট, নম্বর, ভার্ব, টেন্স ইত্যাদি জানা দরকার। তাছাড়া যেখানে টেন্স শেখানো হচ্ছে না, সেখানে আনসিন প্যাসেজ দিলে কিভাবে লেখা সম্ভব? ধাপে ধাপে না শেখালে ভিত্তি কিভাবে মজবুত হবে? আমার মতে, তৃতীয় শ্রেণি থেকে কিছু কিছু গ্রামার যোগ করা দরকার।তাছাড়া ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়তে গিয়ে শিক্ষার্থীদের হিমশিম খেতে হয়। এছাড়াও বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, প্রাথমিক বিজ্ঞান এবং ধর্ম ও নৈতিক শিক্ষায় সৃজনশীল প্রশ্ন আসে; কিন্তু কোনো অধ্যায়ে সৃজনশীল প্রশ্নের নমুনা নেই। এ বিষয়গুলো পরিবর্তন বা সংযোজন করা প্রয়োজন বলে মনে করি।তাই হয় পাঠ্যপুস্তক নয়তো প্রশ্ন কাঠামো পরিবর্তনের জোর দাবি করছি।

বাংলানিউজসিএ/ঢাকা/২৪ফেব্রুয়ারি ২০২০ /এমএম


Array