Menu

প্রবাস বাংলা ভয়েস ডেস্ক :: আর্জেন্টিনার রাজধানী বুয়েনস এইরেসে সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর অর্থায়ন কমানোর প্রতিবাদে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) পার্লামেন্ট ভবনের বাইরে অনুষ্ঠিত এ বিক্ষোভে হাজারো শিক্ষার্থী, শিক্ষক, বিশ্ববিদ্যালয়কর্মী, শ্রমিক সংগঠনের সদস্য ও বিরোধী রাজনৈতিক কর্মী অংশ নেন। সংঘর্ষে অন্তত ২৫ জনকে আটক করা হয়েছে। আহত হয়েছেন আট পুলিশ সদস্য।

বার্তা সংস্থা এএফপিকে দেশটির জাতীয় নিরাপত্তা মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র এ তথ্য জানিয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, পার্লামেন্টের বাইরে বিক্ষোভের মূল কর্মসূচি শান্তিপূর্ণভাবে চলছিল। তবে একপর্যায়ে মুখোশ পরা কয়েক ডজন বিক্ষোভকারী মূল দল থেকে আলাদা হয়ে পুলিশকে লক্ষ্য করে পাথরসহ বিভিন্ন বস্তু নিক্ষেপ করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ও জলকামান ব্যবহার করে। প্রায় এক ঘণ্টা ধরে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ চলে।

বিক্ষোভে অংশ নেওয়া এক তরুণীর হাতে থাকা প্ল্যাকার্ডে লেখা ছিল, ‘চলো, ফ্রান্সের মতো রাস্তায় নেমে আসি!’ ফ্রান্সে শিক্ষার পরিবেশ ও মান উন্নয়নের দাবিতে চলমান গণবিক্ষোভের প্রতি সংহতি জানিয়ে এ স্লোগান দেওয়া হয়।

বুয়েনস এইরেস প্রদেশের মাতানজা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ভিক্টোরিয়া করোনেল বিশ্ববিদ্যালয়ের অব্যবস্থাপনা ও অর্থসংকট নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তার অভিযোগ, বিশ্ববিদ্যালয়ের নষ্ট সরঞ্জাম মেরামত করা হচ্ছে না। পাশাপাশি, পর্যাপ্ত বেতন না পাওয়ায় অনেক শিক্ষক চাকরি ছেড়ে চলে যাচ্ছেন।

এএফপিকে করোনেল বলেন, শিক্ষকেরা তাদের বেতন দিয়ে জীবনযাপন করতে পারছেন না বলেই বিশ্ববিদ্যালয় ছেড়ে চলে যাচ্ছেন।

অর্থায়ন নিয়ে সরকারের সঙ্গে আইনি বিরোধ
২০২৩ সালের শেষ দিকে প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মাইলেই ক্ষমতায় আসার পর বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর অর্থায়ন সংকট নিয়ে এটি ছিল পঞ্চম বড় বিক্ষোভ। সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের বরাদ্দ বাড়ানোর দাবিতে সাম্প্রতিক সময়ে আন্দোলন আরও জোরালো হয়েছে। এর পেছনে রয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় অর্থায়ন আইন বাস্তবায়ন নিয়ে সরকারের সঙ্গে আদালতের বিরোধ। ২০২৫ সালের বিশ্ববিদ্যালয় অর্থায়ন আইনে ২০২৩ সালের ডিসেম্বর থেকে মূল্যস্ফীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বেতন সমন্বয়, শিক্ষার্থীদের বৃত্তি পুনর্বহাল এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের দৈনন্দিন কার্যক্রম পরিচালনার জন্য অতিরিক্ত অর্থ বরাদ্দের কথা বলা হয়েছে। কংগ্রেসে আইনটি পাস হওয়ার পর প্রেসিডেন্ট মাইলেই এতে ভেটো দেন। পরে পার্লামেন্ট সেই ভেটো প্রত্যাখ্যান করে। তবে আদালতের একাধিক নির্দেশ সত্ত্বেও সরকার আইনটি কার্যকর করেনি। গত জুনে সুপ্রিম কোর্টও আইনটি বাস্তবায়নের নির্দেশ দেন। শিক্ষক ইউনিয়ন কনাডু হিস্টোরিকার মহাসচিব ফ্রান্সিসকা স্তাইতি এএফপিকে বলেন, তারা তাদের ন্যায্য পাওনা পরিশোধের দাবি জানাচ্ছেন। অন্যদিকে, দেশটির নিরাপত্তামন্ত্রী আলেহান্দ্রা মনতেওলিভা বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অভিযোগ তুলেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, বিক্ষোভের অধিকার থাকার অর্থ সহিংসতা চালানোর অধিকার নয়। তার অভিযোগ, বিক্ষোভকারীরা দেশে অস্থিতিশীলতা তৈরি করতে চান।

ব্যয় সংকোচনের নীতিতে চাপে শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাত
উদারপন্থী অর্থনৈতিক নীতির সমর্থক প্রেসিডেন্ট মাইলেই আর্জেন্টিনার দুর্বল অর্থনীতি পুনরুদ্ধার এবং উচ্চ মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ক্ষমতায় আসেন। এরপর তিনি সরকারি ব্যয় ব্যাপকভাবে কমানোর পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক কল্যাণমূলক কর্মসূচিও সংকুচিত করেন। সরকারের দাবি, ব্যয় সংকোচনের ফলে মূল্যস্ফীতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। তবে এ নীতির প্রভাব পড়েছে সরকারি হাসপাতাল, বিশ্ববিদ্যালয় ও পেনশনভোগীদের ওপর। বাজেটের ভারসাম্য রক্ষাকে নিজের অর্থনৈতিক কর্মসূচির অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হিসেবে তুলে ধরেছেন মাইলেই। মূল্যস্ফীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সরকারি ব্যয় বাড়ানোর প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে তিনি যুক্তি দিয়েছেন, এ ধরনের অতিরিক্ত ব্যয় মেটানোর মতো অর্থ সরকারের হাতে নেই। বুয়েনস এইরেস বিশ্ববিদ্যালয়ের ন্যাশনাল সেন্টার ফর ইকোনমিক রিসার্চের তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের একই সময়ের তুলনায় চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে বিশ্ববিদ্যালয় খাতে প্রকৃত সরকারি ব্যয় ৪১ শতাংশ কমেছে। এদিকে, প্রেসিডেন্টের মুখপাত্র আদ্রিয়ান রাভিয়ের মঙ্গলবার জানান, আইনটির বিরুদ্ধে সরকারের আইনি পদক্ষেপ অব্যাহত থাকায় এর বাস্তবায়ন স্থগিত রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর অর্থায়ন নিয়ে সরকার ও শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের বিরোধ এবং আদালতের নির্দেশ বাস্তবায়ন না হওয়ায় দেশটিতে রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়ছে। আন্দোলনকারীদের আশঙ্কা, পর্যাপ্ত অর্থায়ন নিশ্চিত করা না হলে সরকারি উচ্চশিক্ষার মান কমে যাবে এবং সবার জন্য শিক্ষার সুযোগ সংকুচিত হবে।

প্রবাস বাংলা ভয়েস/কানাডা/১৬ অক্টোবর ২০২৬/এএ


Array