প্রবাস বাংলা ভয়েস ডেস্ক :: ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যে আজ (সোমবার) সকাল ৮টা থেকে ভোট গণনা শুরু হবে। নানা বিতর্ক, ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়া, অনুপ্রবেশ, দুর্নীতি ও বেকারত্ব ইস্যুর মধ্যেই সবচেয়ে বড় প্রশ্ন বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি ক্ষমতায় থাকবেন, নাকি এবার পরিবর্তন আসবে? গত এক দশকে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যে ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) বড় উত্থান ঘটেছে। ২০১৬ সালে মাত্র ৩টি আসন ও ১০ শতাংশ ভোট পাওয়া দলটি ২০২১ সালে ৭৭টি আসন ও ৩৮ শতাংশ ভোট পায়।
অন্যদিকে ক্ষমতাসীন অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস ২০২১ সালে ২১৫টি আসন ও ৪৮ শতাংশ ভোট পেয়ে নিজেদের অবস্থান আরও শক্ত করে। এবার বিজেপি সংখ্যাগরিষ্ঠতার আশা করছে। দলটির অন্যতম নীতিনির্ধারক অমিত শাহ দাবি করেছেন, প্রথম ধাপেই ১১০টি আসন জিতে তাদের দল সরকার গঠন করবে। ২৯৪ সদস্যের বিধানসভায় সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজন ১৪৮টি আসন। তবে ফলাফল আপাতত ২৯৩টি আসনেরই ঘোষণা হবে, কারণ ফলতা কেন্দ্রে পুনর্ভোটের কারণে সেখানে গণনা পরে হবে।
নির্বাচনের পর মুখ্যমন্ত্রী মমতা আত্মবিশ্বাসী কণ্ঠে বলেছেন, তার দল ২২৬টির বেশি আসন পাবে, এমনকি ২৩০টিও ছাড়াতে পারে। তিনি ভোট শেষে হওয়া জরিপকে ‘ষড়যন্ত্র’ বলে দাবি করেছেন। নির্বাচনের আগে ভোটার তালিকা সংশোধনে প্রায় ৯১ লাখ ভোটারের নাম বাদ পড়েছে—যা মোট ভোটারের প্রায় ১১.৬ শতাংশ। এর মধ্যে প্রায় ২৭ লাখ ভোটারের আপিল এখনো বিচারাধীন।
বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিবর্তন অনেক আসনে ফলাফল প্রভাবিত করতে পারে, বিশেষ করে যেখানে জয়-পরাজয়ের ব্যবধান কম। রাজ্যের দক্ষিণবঙ্গের ১৫২টি আসন ঐতিহ্যগতভাবে তৃণমূলের শক্ত ঘাঁটি। তবে উত্তরবঙ্গে বিজেপি নিজেদের অবস্থান শক্ত করেছে।
২০১১ সালে ৩৫ বছরের বাম শাসনের অবসান ঘটিয়ে ক্ষমতায় আসার পর টানা তিন মেয়াদে ক্ষমতায় রয়েছেন মমতা ব্যানার্জি। তবে, এবারের নির্বাচন তার জন্য সবচেয়ে কঠিন হতে পারে। যদিও ২০২১ সালেও একই ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েও জয় পেয়েছিলেন তিনি। বিজেপি এবার স্থানীয় প্রার্থীদের সামনে এনে উন্নয়ন, কর্মসংস্থান ও দুর্নীতিমুক্ত শাসনের প্রতিশ্রুতি জোরালোভাবে তুলে ধরেছে। অন্যদিকে তৃণমূল এই নির্বাচনকে ‘বহিরাগত বনাম বাঙালি পরিচয়’ ইস্যু হিসেবে তুলে ধরেছে। শেষ মুহূর্তে মমতা তার পুরোনো স্লোগান বদলে নতুন বার্তা দিয়েছেন, যা ভোটারদের মধ্যে সাড়া ফেলেছে।
৭১ বছর বয়সী মমতা ব্যানার্জির জন্য এই নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্লেষকদের মতে, এবার পরাজিত হলে তার জন্য রাজনীতিতে শক্তভাবে ফিরে আসা কঠিন হয়ে পড়তে পারে। এখন সব নজর ভোট গণনার দিকে— শেষ পর্যন্ত পশ্চিমবঙ্গ কি পরিবর্তনের পথে হাঁটবে, নাকি মমতার কাছেই থাকছে ক্ষমতার মসনদ।
প্রবাস বাংলা ভয়েস/কানাডা/০৪ মে ২০২৬/এএ





