Menu

প্রবাস বাংলা ভয়েস ডেস্ক :: বর্তমান দ্রুতগতির ও প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবসায়িক পরিবেশে টিম ম্যানেজমেন্ট ও কর্মীদের কার্যকরভাবে মনিটর করা একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে রিমোট ও হাইব্রিড ওয়ার্ক কালচারের বিস্তারের ফলে এই চ্যালেঞ্জ আরও বেড়েছে। এমন বাস্তবতায় অটোমেটেড টাইম ট্র্যাকিং ও প্রোডাকটিভিটি ম্যানেজমেন্ট সফটওয়্যার ‘টিমোডেস্ক’ (TimoDesk) ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য একটি কার্যকর সমাধান হিসেবে উঠে এসেছে।

শুরু থেকেই গ্লোবাল টিমের প্রয়োজন মাথায় রেখে ডিজাইন করা ‘টিমোডেস্ক’ ম্যানুয়াল টাইম ইনপুটের ঝামেলা কমিয়ে প্রোডাকটিভিটি প্রায় ২০ থেকে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়াতে সহায়তা করে বলে দাবি করছে প্রতিষ্ঠানটি। সহজ ব্যবহারযোগ্য ইন্টারফেস ও সিম্পল প্রাইসিং মডেলের কারণে অল্প সময়ের মধ্যেই সফটওয়্যারটি ব্যবহারকারীদের মধ্যে জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে।

‘টিমোডেস্ক’-এর অন্যতম প্রধান আকর্ষণ হলো এর স্মার্ট টাইম ট্র্যাকিং সিস্টেম। এটি কম্পিউটারের ব্যাকগ্রাউন্ডে চলমান অবস্থায় স্বয়ংক্রিয়ভাবে কর্মঘণ্টা ট্র্যাক করে। নির্দিষ্ট সময় পরপর স্ক্রিনশট ক্যাপচার, ব্যবহৃত অ্যাপ্লিকেশন মনিটরিং এবং প্রতিটি টাস্কের বিস্তারিত লগ সংরক্ষণের মাধ্যমে এটি কর্মীদের কার্যক্রমের একটি পরিষ্কার চিত্র তুলে ধরে। ট্র্যাডিশনাল টাইমারের তুলনায় এর অ্যাকটিভিটি-ভিত্তিক ট্র্যাকিং পদ্ধতি ম্যানুয়াল ভুল কমিয়ে সময় ব্যবস্থাপনাকে আরও নির্ভুল করে তোলে।

প্রোডাকটিভিটি রিপোর্টিং ফিচারটিও সফটওয়্যারটির একটি বড় শক্তি। ‘টিমোডেস্ক’ ভিজ্যুয়াল ও ডেটা-ড্রিভেন রিপোর্ট তৈরি করে, যেখানে অ্যাকটিভিটি লেভেল, অ্যাপ ব্যবহারের তথ্য, টাইমলাইন ভিউ, প্রজেক্ট ব্রেকডাউন এবং ডেইলি, উইকলি ও মান্থলি সামারি অন্তর্ভুক্ত থাকে। এসব রিপোর্টের মাধ্যমে ম্যানেজাররা সহজেই টিমের দুর্বলতা ও সময় অপচয়ের জায়গাগুলো শনাক্ত করতে পারেন। ক্যাপটেরার এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, প্রায় ৫১ শতাংশ এইচআর লিডার টাইম ট্র্যাকিংকে টিম ম্যানেজমেন্টের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মনে করেন।

এছাড়া, ‘টিমোডেস্ক’-এর অ্যাক্টিভিটি অ্যানালাইসিস ফিচার কর্মীদের কাজের ধরণ বিশ্লেষণ করে অপটিমাইজেশনের সুযোগ তৈরি করে। কোনো টিম মেম্বার যদি নির্দিষ্ট কাজে অতিরিক্ত সময় ব্যয় করেন, তাহলে ম্যানেজাররা সেই অনুযায়ী প্রশিক্ষণ বা অটোমেশন পরিকল্পনা নিতে পারেন। এই ডেটা-ভিত্তিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া টিমের সামগ্রিক দক্ষতা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

সফটওয়্যারটির স্ক্রিনশট মনিটরিং ফিচার নিরাপদ ও প্রাইভেসি-ফ্রেন্ডলি। শুধুমাত্র ওয়ার্কিং আওয়ারে স্ক্রিনশট নেওয়া হয় এবং সেগুলো এনক্রিপটেডভাবে সংরক্ষণ করা হয়। ‘টিমোডেস্ক’ এর তথ্যমতে, ইতিমধ্যে ৪০ মিলিয়নের বেশি স্ক্রিনশট ক্যাপচার করা হয়েছে, যা এর ব্যাপক ব্যবহারের প্রমাণ দেয়।

প্রজেক্ট ও টাস্ক ম্যানেজমেন্ট সুবিধার মাধ্যমে কাজগুলোকে সহজে ভাগ করে নেওয়া যায়। অফলাইনে কাজের সময়ও সফটওয়্যারটি ডেটা সংগ্রহ করে এবং ইন্টারনেট সংযোগ পেলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে সিঙ্ক করে। এ পর্যন্ত পাঁচ হাজারের বেশি প্রজেক্ট মনিটর করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ‘টিমোডেস্ক’।

প্রাইসিংয়ের দিক থেকেও সফটওয়্যারটি বেশ সাশ্রয়ী। প্রতি ব্যবহারকারীর জন্য মাসিক মাত্র ১ ডলারে সব ফিচার ব্যবহারের সুযোগ পাওয়া যায়। পাশাপাশি লিনাক্স সাপোর্ট যুক্ত হওয়ায় ওপেন-সোর্স ব্যবহারকারীদের কাছেও এটি সহজলভ্য হয়েছে।

ডেটা প্রাইভেসি ও সিকিউরিটির বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে ‘টিমোডেস্ক’ ইউরোপীয় জিডিপিআর নীতিমালার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এনক্রিপশন ও সিকিউর স্টোরেজ ব্যবহার করছে। এর ফলে রিমোট ওয়ার্কিং পরিবেশে ব্যবহারকারীদের আস্থা বাড়ছে।

সব মিলিয়ে, কম খরচে কার্যকর ও অটোমেটেড সমাধান হিসেবে ‘টিমোডেস্ক’ রিমোট টিম ও আধুনিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের জন্য একটি শক্তিশালী প্রোডাকটিভিটি টুল হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। আরও বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যাবে সফটওয়্যারটির অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে: https://timodesk.com/

 

প্রবাস বাংলা ভয়েস/কানাডা/১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬/এএ


Array