প্রবাস বাংলা ভয়েস ডেস্ক :: ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি বাহিনীর সংঘটিত গণহত্যার মতো জঘন্য অপরাধের অবসান ঘটাতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন সৌদি আরবের বাদশাহ সালমান বিন আবদুল আজিজ আল সৌদ। রবিবার পবিত্র রমজান মাস উপলক্ষে দেয়া এক বার্তায় এ আহ্বান জানান বাদশাহ সালমান।
ইসলামের দুটি পবিত্র স্থানের রক্ষক হিসেবে কথা বলতে গিয়ে সালমান সৌদি আরবের ওপর অর্পিত আশির্বাদের জন্যে ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, সৌদি আরব ও বিশ্বের মুসলিম সম্প্রদায়ের জন্য রমজান মাস একটি আশীর্বাদ। আল্লাহর সন্তুষ্টিলাভের জন্য এই মাসে মুসলিমরা রোজা রাখেন, নামাজ পড়েন। তবে গাজায় চলমান যুদ্ধ এবারের রমজান মাসের উপবাস ও প্রার্থনার ওপর কালো ছায়া ফেলবে বলেও উল্লেখ করেন। তিনি আরও বলেন, চলতি বছর আমরা রজমান মাস আসার এ সময়ে প্রত্যক্ষ করছি গাজায় অব্যাহত আগ্রাসনের সম্মুখীন আমাদের ফিলিস্তিনী ভাইদের দুর্ভোগ, যা আমাদের হৃদয়কে দুঃখ ভারাক্রান্ত করে তুলছে। বাদশাহ সালমান গাজায় নৃশংস এই অপরাধ বন্ধে এবং মানবিক ও ত্রাণ সহায়তা নিরাপদ ও নিশ্চিত করতে দায়িত্ব পালনে এগিয়ে আসতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
প্রসঙ্গত মধ্যপ্রাচ্যে সোমবার থেকেই রমজান মাস শুরু হয়েছে। আর রোজা শুরুর আগেই গাজা উপত্যকায় সাময়িক যুদ্ধবিরতি হতে পারে বলে জানিয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনসহ একাধিক বিশ্ব নেতা। এ বিষয়ে মিসরের রাজধানী কায়রোতে যুক্তরাষ্ট্র, কাতার ও মিসরের মধ্যস্তত্বতায় যুদ্ধবিরতির আলোচনা শুরু হয়। তবে দুইদিন ধরে বৈঠক হলেও, কোনো চুক্তিতে পৌঁছাতে পারেনি ফিলিস্তিনি সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাস ও ইসরায়েল। এতে কোনো ফলাফল ছাড়াই এ দফার যুদ্ধবিরতির আলোচনা শেষ হয়েছে এবং গাজা উপত্যকায় প্রস্তাবিত ৪০ দিনে যুদ্ধবিরতি আর হয়নি।
উল্লেখ্য, গত ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে নজিরবিহীন হামলা চালায় ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাস। এদিন ইসরায়েলের উত্তরাঞ্চলীয় ইরেজ সীমান্ত দিয়ে ইসরায়েলে প্রবেশ করে অতর্কিত হামলা চালায় হামাস যোদ্ধারা। পাশাপাশি ইসরায়েল থেকে প্রায় ২৪০ জনকে জিম্মি হিসেবে গাজায় নিয়ে যায় হামাস।
তারপর ওই দিন থেকেই গাজায় অভিযান শুরু করে ইসরায়েলি বিমানবাহিনী। পরে ২৮ অক্টোবর থেকে অভিযানে যোগ দেয় স্থল বাহিনীও। চার মাসের বেশি সময় ধরে ইসরায়েলি হামলায় গাজায় ৩১ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে ৭০ শতাংশেরও বেশি নারীও শিশু। এছাড়া আহত হয়েছেন ৭২ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি।
গত বছরের নভেম্বরে কাতারের মধ্যস্থতায় প্রথমবারের মতো যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয় হামাস ও ইসরায়েল। এক সপ্তাহব্যাপী যুদ্ধবিরতিতে ইসরায়েলি কারাগার থেকে ২৪০ ফিলিস্তিনিকে মুক্তি দেওয়া হয়েছিল, যার মধ্যে ৭১ জন মহিলা এবং ১৬৯টি শিশু রয়েছে। বিনিময়ে ২৪ বিদেশিসহ মোট ১০৫ জনকে মুক্তি দিয়েছে হামাস। হামাসের কাছে এখনো প্রায় ১৩০ জন জিম্মি রয়েছে বলে দাবি ইসরায়েলের।
প্রবাস বাংলা ভয়েস /ঢাকা/ ১১ মার্চ ২০২৪ /এমএম





