Menu

প্রবাস বাংলা ভয়েস ডেস্ক ::‌ মিশরের শার্ম আল শেখ নগরীতে রবিবার ২৭ তম জলবায়ু সম্মেলন (কপ–২৭ বা কনফারেন্স অব পার্টিজ-২৭)। যুদ্ধ এবং অর্থনৈতিক অস্থিরতায় বিপর্যস্ত বিশ্বে ক্রমবর্ধমান ভয়াবহ জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবেলায় বিশ্বের প্রায় ২০০টি দেশ এই সম্মেলনে যোগ দিয়েছে।জলবায়ু পরিবর্তন রোধে বিশ্বের ব্যবস্থা নেওয়ার ‘ঐতিহাসিক মুহূর্ত’ ঘোষণার মধ্য দিয়ে এই সম্মেলনের পর্দা উঠছে। আগামী ১৮ নভেম্বর পর্যন্ত সম্মেলনটি চলবে।

চলতি বছর বিশ্বব্যাপী জলবায়ু পরিবর্তনের ভয়াবহ চিত্র আমরা দেখেছি। পাকিস্তানে নজিরবিহূন বন্যা, নেপালে ভূমিধস, ইউরোপজুড়ে দাবানল, আফ্রিকায় দুর্ভিক্ষ এবং উত্তর আমেরিকায় খড়াসহ নানা ধরণের প্রাকৃতিক দুর্যোগ আমরা দেখেছি যার জন্য বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই জলবায়ু পরিবর্তনই দায়ি। এর কারণে মারা গিয়েছে হাজার মানুষ, ক্ষতি হয়েছে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলারের যা বিশ্বকে বিপর্যস্ত করে তুলেছে।

সম্মেলনে যোগ দিতে শার্ম শারম আল-শেখের লোহিত সাগর রিসোর্টে ১৩ দিনের এই সম্মেলনে সমবেত হচ্ছেন ১২০ টি’রও বেশি দেশের নেতা। সম্মেলনে যোগ দিয়ে জাতিসংঘের প্রধান আন্তোনিও গুতেরেস বলেছেন, ‘রিপোর্টের পর রিপোর্টে জলবায়ু পরিবর্তনের একটি পরিষ্কার এবং অন্ধকার চিত্র পাওয়া যাচ্ছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘কপ-২৭ সম্মেলনে অবশ্যই এখন এই গুরুত্বপূর্ণ দশকে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় অনেক দ্রুত এবং সাহসী পদক্ষেপ নিতে হবে, বিশ্বব্যাপী জলবায়ু পবির্তনের এই যুদ্ধে হয় আমরা জয়ী হবো, নয়তো আমরা হেরে যাবো।’

সুনির্দিষ্টভাবে এই লড়াইয়ের অর্থ হল ১৯ শতকের শেষের দিকের স্তরের (১.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস) উপরে ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে বৈশ্বিক উষ্ণতা সীমাবদ্ধ করতে হবে এবং এ জন্য ২০৩০ সালের মধ্যে গ্রিনহাউস নির্গমন ৪৫ শতাংশ কমাতে হবে।বিজ্ঞানীরা সতর্ক করেছেন, এই প্রান্তিকের বাইরে উষ্ণায়ন হলে তা পৃথিবীকে বসবাসের অযোগ্য একটি হটহাউসের দিকে ঠেলে দিতে পারে।

গত সপ্তাহে প্রকাশিত এক গবেষণা রিপোর্টে বলা হয়েছে, বর্তমান প্রবণতাগুলি অব্যাহত থাকলে দশকের শেষ নাগাদ কার্বন দূষণ ১০ শতাংশ বৃদ্ধি পাবে এবং পৃথিবী পৃষ্ঠের উষ্ণতা ২.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসে বৃদ্ধি পাবে।প্যারিস চুক্তির অধীনে প্রদত্ত প্রতিশ্রুতিগুলি যদি বাস্তবায়ন করা হয় তাহলে শুধুমাত্র এক ডিগ্রির কয়েক দশমাংশ তাপমাত্রা বৃদ্ধি হ্রাস পাবে।

দু’সপ্তাহের এই সম্মেলনে প্রায় ৩০ হাজার মানুষ অংশ নেবে। যদিও মিশরের মানবাধিকার রেকর্ড নিয়ে উদ্বেগের কারণে কিছু অধিকারকর্মী এবার সম্মেলনে যাচ্ছেন না বলে জানিয়েছে বিবিসি। জাতিসংঘের জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক নতুন প্রধান সায়মন ‍স্টিল এবং মিশরের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও কপ-২৭ প্রেসিডেন্ট সামেহ শুকরি সম্মেলনে উদ্বোধনী বক্তব্য রেখেছেন।

সোমবার ও মঙ্গলবার, এই দুইদিন বক্তব্য রাখবেন বিশ্ব নেতারা। তারা চলে যাওয়ার পর সম্মেলনে উপস্থিত প্রতিনিধিরা আলোচনা চালাবেন। বিশ্ব এ মুহুর্তে তাপমাত্রা ১ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে বজায় রাখার মতো অবস্থায় নেই বলে গত মাসেই সতর্ক করা হয়েছে জাতিসংঘের জলবায়ু বিষয়ক একটি গবেষণা প্রতিবেদনে।

জলবায়ু পরিবর্তনের কুপ্রভাবে গত বছর নানা প্রাকৃতিক দুর্যোগও ঘন ঘনই ঘটতে দেখা গেছে। গতবছরের কপ-২৬ জলবায়ু সম্মেলনের পর বিশ্বব্যাপী কার্বন নিঃসরন কমানোর পরিকল্পনায় আশানুরুপ অগ্রগতি দেখাতে পারেনি কোনো দেশের সরকার। এ পরিস্থিতিতে জরুরি ভিত্তিতে সমাজে রূপান্তর ঘটানো গেলেই কেবল বিপর্যয় এড়ানো সম্ভব।

এর প্রেক্ষাপটে জাতিসংঘের জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক নতুন প্রধান সায়মন ‍স্টিল এবারের সম্মেলনে গতবছরের নেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলোই কাজে বাস্তবায়ন করার আহ্বান জানিয়েছেন। পাশাপাশি ব্যাপক রূপান্তর, যা অবশ্যই ঘটতে হবে- সেপথে এগিয়ে যাওয়ারও তাগাদা দিয়েছেন তিনি।

গত বছর গ্লাসগোর কপ-২৬ সম্মেলনে বেশকিছু প্রতিশ্রুতি নেওয়া হয়েছিল। সেগুলো হলো- বন উজাড় ২০৩০ সালের মধ্যে বন্ধ করা; ধাপে ধাপে কয়লার ব্যবহার কমানো; মিথেন গ্যাস নিঃসরণ ২০৩০ সালের মধ্যে ৩০ শতাংশ কমানো এবং জাতিসংঘে নতুন জলবায়ু কর্মসূচি পরিকল্পনা জমা দেওয়া।

এইসব প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন করতে গেলে অর্থ প্রয়োজন। এজন্য উন্নয়নশীল দেশগুলোর চাওয়া, উন্নত দেশগুলো গতবার তাদেরকে আর্থিক সহায়তা এবং সমর্থন দেওয়ার যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল তা যেন বহাল রাখে। এছাড়াও জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে তাদের যে আর্থিক ক্ষতির মধ্যে পড়তে হয়েছে তা কাটিয়ে উঠতে যেন আর্থিক সহায়তা প্রদান এবং এ সংক্রান্ত ক্ষয়ক্ষতির বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়।এবারের কপ-২৭ সম্মেলনে এই প্রথম এ বিষয়টি আনুষ্ঠানিক আলোচ্যসূচিতে থাকছে। সম্মেলনে বিাভন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা ছাড়াও দু’সপ্তাহ ধরে ওয়ার্কশপ, প্রদর্শনী, সাংস্কৃতিক পরিবেশনার মতো আরও নানা অনুষ্ঠান চলবে।

প্রবাস বাংলা ভয়েস/ঢাকা/ ০৬ নভেম্বর ২০২২ /এমএম

 


Array