Menu

প্রবাস বাংলা ভয়েস ডেস্ক :: ইন্দোনেশিয়ায় শক্তিশালী ভূমিকম্প হয়েছে। দেশটির উত্তরাঞ্চলীয় সুমাত্রা দ্বীপে রোববার (১৯ এপ্রিল) ভোরে এ ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। সংবাদমাধ্যম আনাদোলু এজেন্সির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

জিএফজেড জার্মান রিসার্চ সেন্টার ফর জিওসায়েন্স জানিয়েছে, রিখটার স্কেলে ভূমিকম্পের তীব্রতা ছিল ৫ দশমিক আট। ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থল ছিল ভূপৃষ্ঠের প্রায় ১০ কিলোমিটার গভীরে। স্থানীয় সময় ভোর ৩টা ৬ মিনিটে কম্পনটি অনুভূত হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভূমিকম্প অনুভূত হওয়া এলাকাটি অত্যন্ত বিপজ্জনক। কেননা এলাকাটিতে প্রায় টেকটোনিক প্লেটের নড়াচড়া ঘটে। ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থল ১ দশমিক ২৯ ডিগ্রি উত্তর অক্ষাংশ এবং ৯৭ দশমিক ২১ ডিগ্রি পূর্ব দ্রাঘিমাংশে নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে প্রাণহানি বা অবকাঠামোর কোনো ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।

উল্লেখ্য, বিশ্বের ইতিহাসের সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্পটি হয়েছে ১৯৬০ সালে চিলির বিওবিও প্রদেশে। এটি ‘ভালদিভিয়া ভূমিকম্প’ বা ‘গ্রেট চিলিয়ান আর্থকোয়াক’ হিসেবে পরিচিত ভূকম্পনের মাত্রা ছিল ৯ দশমিক ৫, যা প্রায় ১০ মিনিট স্থায়ী হয়েছিল। এতে নিহত হয়েছিলেন ১ হাজার ৬৫৫ জন মানুষ এবং বাস্তুচ্যুত হন কমপক্ষে ২০ লাখ মানুষ।

১৯৬৪ সালে ইতিহাসের দ্বিতীয় বিধ্বংসী ভূমিকম্পটি হয়েছিল আলাস্কায়। ৯ দশমিক ২ মাত্রার সেই ভূমিকম্প এবং তার জেরে সৃষ্ট সুনামিতে নিহত হয়েছিলেন ১৩০ জন এবং আর্থিক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছিল ২৩০ কোটি ডলারের সমপরিমাণ।

২৬ ডিসেম্বর সুমাত্রা দ্বীপে আঘাত হেনেছিল তৃতীয় শক্তিশালী ভূমিকম্পটি। ৯ দশমিক ১ মাত্রার ওই ভূমিকম্পটি ১০ মিনিটেরও বেশি স্থায়ী ছিল, যা সবচেয়ে দীর্ঘতম সময়ের ভূমিকম্প। ভূমিকম্প থেকে সৃষ্ট সুনামি বিশ্বের ১৪টি দেশে প্রায় ২ লাখ ৮০ হাজারেরও বেশি মানুষের মৃত্যু ঘটায়। এটি বক্সিং ডে সুনামি নামেও পরিচিত। কোথাও কোথাও ৩০ মিটার পর্যন্ত উঁচু হয়ে ঢেউ আছড়ে পড়ে, বাড়িঘর ধ্বংস করে মানুষজনকে ভাসিয়ে নিয়ে যায়। এতে বাস্তুচ্যুত হয়েছিলেন ১১ লাখের বেশি মানুষ।

১১ মার্চ চতুর্থ শক্তিশালী ভূমিকম্পটি হয়েছিল হোক্কাইডো দ্বীপে। ৯ দশমিক ১ মাত্রার এ ভূমিকম্পের পর বিশাল সুনামিতে ১৮ হাজারের বেশি মানুষ মারা যায়। বাস্তুচ্যুত হন ১ লাখ ৩০ হাজারেরও বেশি মানুষ।

৫ নভেম্বর রাশিয়ার কামচাটকা ক্রাই উপদ্বীপে আঘাত হেনেছিল ইতিহাসের পঞ্চম শক্তিশালী ভূমিকম্পটি। ৯ মাত্রার সেই ভূমিকম্পে হাওয়াই এবং প্রশান্ত মহাসাগরের অন্যান্য অংশে মারাত্মক ক্ষতি করে। এরপর সুনামি আসে যা কামচাটকা এবং কুরিল দ্বীপপুঞ্জের উপকূলে ২৩ ফুট পর্যন্ত উঁচু ঢেউ বয়ে আনে। এ ভূমিকম্পে প্রাণহানির কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি তবে তখনকার সময়ে ১০ লাখ ডলারেরও বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছিল রাশিয়ায়।

প্রবাস বাংলা ভয়েস/কানাডা/১৯ এপ্রিল ২০২৬/এএ


Array