প্রবাস বাংলা ভয়েস ডেস্ক :: শেখ হাসিনার দীর্ঘ শাসনের অবসানের পর অন্তর্বর্তী সরকারের ১৮ মাস পার করে ভোট দিচ্ছে বাংলাদেশ। আওয়ামী লীগকে বাইরে রেখে অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনের দিকে শুধু দেশের মানুষই নয়, বিশ্ব গণমাধ্যমেরও গভীর নজর রয়েছে। ভোটের দিন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো লাইভ আপডেট ও বিশ্লেষণ প্রকাশ করছে।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি জানিয়েছে, সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে সরিয়ে দেওয়া জেন-জি নেতৃত্বাধীন আন্দোলনের পর এটি বাংলাদেশের প্রথম নির্বাচন। তাদের প্রতিবেদনে গণভোট নিয়ে ভোটারদের বিভ্রান্তি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এআই-নির্মিত ভিডিওর ছড়াছড়ি এবং তরুণ ভোটারদের বড় অংশগ্রহণের বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, দীর্ঘ সময় পর ভোটাধিকার ফিরে পাওয়ায় মানুষের মধ্যে যেমন উচ্ছ্বাস আছে, তেমনি সতর্কতাও রয়েছে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স ভোটকেন্দ্রের বাইরে ভোটারদের দীর্ঘ লাইনের কথা উল্লেখ করে জানিয়েছে, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের প্রত্যাশা ভোটারদের বড় আশা হিসেবে সামনে এসেছে। আন্দোলনের পর পোশাক শিল্পসহ বিভিন্ন খাতের চ্যালেঞ্জও প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
গার্ডিয়ান তাদের প্রতিবেদনে বিএনপি নেতা তারেক রহমানকে সম্ভাব্য প্রধানমন্ত্রী হিসেবে এগিয়ে থাকার ইঙ্গিত দিয়েছে। ক্ষমতায় এলে দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান ও পরিচ্ছন্ন রাজনীতির প্রতিশ্রুতির বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে। পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও অর্থনৈতিক স্থবিরতা নিয়ে উদ্বেগের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
জার্মান সংবাদমাধ্যম ডয়েচে ভেলে জানিয়েছে, কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে ভোট অনুষ্ঠিত হচ্ছে। আওয়ামী লীগের অংশগ্রহণ না থাকা, তরুণদের আগ্রহ এবং গণভোটের বিষয়টি তাদের প্রতিবেদনে গুরুত্ব পেয়েছে। নিউ ইয়র্ক টাইমস তরুণদের নেতৃত্ব ও গণআন্দোলনের পর নতুন প্রত্যাশার বিষয়টি তুলে ধরেছে।
ভারতীয় গণমাধ্যমগুলো নির্বাচনী সহিংসতার খবর প্রকাশ করেছে। পাকিস্তানি গণমাধ্যম ডন এবং কাতারভিত্তিক আল জাজিরা ভোটকে ঘিরে গুজব, অপপ্রচার ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।
সব মিলিয়ে, বাংলাদেশের এই নির্বাচনকে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক মুহূর্ত হিসেবে দেখছে, যেখানে ভোটারদের বড় প্রত্যাশা—রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও অর্থনৈতিক অগ্রগতি।
প্রবাস বাংলা ভয়েস /কানাডা/১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬/এএ





