Menu

প্রবাস বাংলা ভয়েস ডেস্ক ::‌ আইসল্যান্ডের রাজধানী রিকজাভিকের দক্ষিণে অবস্থিত উপদ্বীপ রিকজেনেসে সোমবার রাতে কয়েক দফায় তীব্র ভূমিকম্পের পর একটি আগ্নেয়গিরির ব্যাপক অগ্ন্যুৎপাত শুরু হয়েছে। খবর বিবিসির।কয়েক সপ্তাহ ধরে নর্ডিক দেশটি দক্ষিণ-পশ্চিম উপদ্বীপে তীব্র ভূমিকম্পের ক্রিয়াকলাপের পর যে কোনও মুহূর্তে সম্ভাব্য অগ্ন্যুৎপাতের জন্য উচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়। পরে গত মাসে লোকদের সরিয়ে নেওয়ার আদেশ জারি করেছিল।

আইসল্যান্ডের আবহাওয়া অফিস (আইএমও) বলেছে, ‘সোমবার রাত ১০টা ১৭ মিনিটে রিকজেনেস উপদ্বীপের গ্রিন্ডাভিকের উত্তরে একটি আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত শুরু হয়েছে।’অগ্ন্যুৎপাতের লাইভ-স্ট্রিম করা ফুটেজে দেখা গেছে, উজ্জ্বল কমলা লাভার বড় জেটগুলো রাতের আকাশে ছড়িয়ে পড়ছে। চারপাশে লাল ধোঁয়ায় ঘেরা।

আইএমও বলেছে, অগ্ন্যুৎপাতের সঠিক অবস্থান এবং আকার নিশ্চিত করার জন্য একটি কোস্টগার্ড হেলিকপ্টার পাঠানো হয়েছিল। আরোহীরা পরিদর্শন শেষে জানিয়েছেন, ব্লু ল্যাগুন এলাকার কাছে ৩ দশমিক ৫ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের একটি ফাটল থেকে লাভার উদ্গীরণ ঘটছে এবং প্রতি সেকেন্টে ১০০ থেকে ২০০ কিউবিক মিটার লাভা উঠছে সেই ফাটল থেকে।

কোস্টগার্ডের হেলিকপ্টার আরোহীদের অন্যতম সদস্য এবং আইসল্যান্ডের বেসামরিক প্রতিরক্ষা বিভাগের জেষ্ঠ্য কর্মকর্তা ভিদির রেয়েনিসন দেশটির টেলিভিশন চ্যানেল আরইউভিকে বলেন, ‘সেখানে বিস্ফোরণ হচ্ছে এবং লাভা বেশ ওপরে উঠছে। এটা বেশ শক্তিশালী অগ্ন্যুৎপাত।’

এরআগে গত ১১ নভেম্বর রাজধানী থেকে প্রায় ৪০ কিলোমিটার দূরে একটি মৎস্য বন্দর গ্রিন্ডাভিকের প্রায় ৪ হাজার বাসিন্দাকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল যখন কর্মকর্তারা নির্ধারণ করেছিলেন যে, তাদের মাটির নীচে ম্যাগমার একটি টানেল স্থানান্তরিত হচ্ছে। এতে একটি অগ্ন্যুৎপাতের সূচনা হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

বাসিন্দারা এএফপি’কে জানিয়েছেন, ভূমিকম্পের কারণে রাস্তা ও ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তারপর থেকে তাদের শুধুমাত্র নির্দিষ্ট দিনের আলোতে তাদের বাড়িতে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছে।যাদের বাড়িঘর সবচেয়ে বিপজ্জনক অংশে রয়েছে তাদের পোষা প্রাণী থেকে শুরু করে ফটো অ্যালবাম, আসবাবপত্র এবং পোশাক সবকিছু উদ্ধার করার জন্য কর্তৃপক্ষ তাদের মাঝে মাঝে গ্রামে ভ্রমণের অনুমতি দিয়েছে।

প্রসঙ্গত, আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত আইসল্যান্ডে অস্বাভাবিক ঘটনা নয়। সেখানে ৩৩টি সক্রিয় আগ্নেয়েগিরি সিস্টেম রয়েছে, যা ইউরোপে সর্বোচ্চ সংখ্যা। কিন্তু রিকজেনেস উপদ্বীপে ২০২১ সাল পর্যন্ত আট শতাব্দী ধরে অগ্ন্যুৎপাত হয়নি। তারপর থেকে তিনটি অগ্ন্যুৎপাত ঘটেছে। সবই প্রত্যন্ত জনবসতিহীন এলাকায় এবং আগ্নেয়গিরি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি এই অঞ্চলে আগ্নেয়গিরি কার্যকলাপের একটি নতুন যুগের সূচনা হতে পারে।

প্রবাস বাংলা ভয়েস /ঢাকা/ ১৯ ডিসেম্বর ২০২৩ /এমএম


Array