প্রবাস বাংলা ভয়েস ডেস্ক :: ইসরাইল সুরক্ষায় ভূমধ্যসাগরে সাত হাজার মার্কিন সেনা পাঠাল যুক্তরাষ্ট্র। ৭ অক্টোবর ইসরাইলে হামাসের অভিযানের কয়েক ঘণ্টা পর থেকেই যুক্তরাষ্ট্র একের পর এক সহায়তা দিচ্ছে।ইসরাইলকে সহায়তা করতে পূর্ব ভূমধ্যসাগরে পাঁচ হাজার সেনাসহ বিশ্বের বৃহত্তম মার্কিন বিমানবাহী রণতরি ইউএস জেরাল্ড আর ফোর্ড ক্যারিয়ার স্ট্রাইক পাঠিয়েছে। নতুন করে পাঠানো হয়েছে আরও দুই হাজার সেনা।
মঙ্গলবার আলজাজিরার এক খবরে বলা হয়েছে, হামাস ধ্বংসে যুদ্ধের প্রথম সপ্তাহেই আট হাজার টন সামরিক সহায়তা (অস্ত্র-গোলা বারুদ) দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।এখানেই শেষ নয়, গোলাবারুদ ও আয়রন ডোম ইন্টারসেপ্টরসহ ইউএস স্পেশাল অপস সেল, গোয়েন্দা তথ্য, পরিকল্পনা এবং জিম্মি পুনরুদ্ধার বাহিনী সবই পাঠিয়েছে দেশটি। মার্কিন কর্মকর্তারা বলেছেন, সেনারা যুদ্ধের ভ‚মিকায় কাজ করবে না। তবে ইসরাইলিদের চিকিৎসা সহায়তা বা পরামর্শমূলক দায়িত্ব পালন করবে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন মার্কিন টেলিভিশন সিবিএসের সিক্সটি মিনিটস অনুষ্ঠানে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, আমাদের পাঠানো সেনারা যুদ্ধের জন্য কাজ করবে না। তাদের পাঠানো হয়েছে যাতে তৃতীয় পক্ষ যুদ্ধে ঢুকতে না পারে।মার্কিন বিশেষ অভিযান বাহিনী এখন ইসরাইলের সামরিক বাহিনীকে পরিকল্পনা ও গোয়েন্দা তথ্যে সহায়তা করছে। অতিরিক্ত অস্ত্রোশস্ত্রের প্রথম চালানও পৌঁছে গেছে।
এ সম্পর্কে সোমবার এএফপির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরাইলের সবচেয়ে বড় শক্তি হলো যুক্তরাষ্ট্র। ২০১৯ সালে ‘১০ সাল বন্দোবস্ত’ বা চুক্তির ভিত্তিতে যুক্তরাষ্ট্র প্রতি বছর ইসরাইলকে ৩৮০ কোটি ডলারের সামরিক সহায়তা দিয়ে থাকে। এই সহায়তা চলবে ২০২৮ সাল পর্যন্ত।
অস্ত্র এবং বিশেষ অপারেশন বাহিনী
যুক্তরাষ্ট্র ইসরাইলকে বেশ কিছু বাহিনী ও অত্যাবশ্যকীয় অস্ত্র সরবরাহ করেছে। প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন গত মঙ্গলবার বলেছেন, আমরা গোলাবারুদ এবং ইন্টারসেপ্টরসহ অতিরিক্ত সামরিক সহায়তা পাঠিয়েছি। তাদের পাঠানো অতিরিক্ত প্যাকেজগুলোতে ছোট-ব্যাসের বোমা এবং জেডিএএম কিটগুলোও অন্তর্ভুক্ত আছে।
দেশটির প্রতিরক্ষা সচিব লয়েড অস্টিন ঘোষণা করেছেন, একটি ছোট বিশেষ অপারেশন সেল এখন ইসরাইলকে গোয়েন্দা তথ্য ও পরিকল্পনায় সহায়তা করছে। জিম্মি পুনরুদ্ধার প্রচেষ্টার বিষয়ে প্রতিরক্ষা বাহিনীকে পরামর্শ প্রদান করছে।
মার্কিন প্রতিরক্ষা কর্মকর্তারা বলেছেন, ইসরাইলকে সমর্থন করার জন্য মার্কিন সামরিক বাহিনী নতুন আরও দুই হাজার সেনা মোতায়েন করেছে।আরও বলেছেন, তাদের শুধু পরামর্শ এবং চিকিৎসা সহায়তার মতো মিশনের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। সৈন্যরা বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যের ভেতরে এবং বাইরে উভয় স্থানে অবস্থান করছে। কোন পরিস্থিতিতে বা কোথায় সেনা মোতায়েন করা হবে সে বিষয়ে এখনো স্পষ্ট কিছু বলা হয়নি।
মার্কিন বিমানবাহী রণতরি
ইসরাইলে হামাসের অভিযানের পর থেকে পেন্টাগন (মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগ) পূর্ব ভূমধ্যাসাগরে বিশ্বের বৃহত্তম ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ড ক্যারিয়ার স্ট্রাইক মোতায়েন করেছে। জেরাল্ড আর ফোর্ড ২০১৭ সালে বিনিয়োগ করা হয়েছিল। এটি বিশ্বের বৃহত্তম বিমানবাহী রণতরি। যার মধ্যে পাঁচ হাজার মেরিন সেনা রয়েছে। একটি পারমাণবিক চুল্লি রয়েছে। ৭৫টিরও বেশি সামরিক বিমান ধারণ করতে পারে।
ক্ষেপণাস্ত্রের একটি অস্ত্রাগারও রয়েছে। এটি ফাইটার জেট, হেলিকপ্টার, বুদ্ধিমত্তা, নজরদারি এবং রিকনেসান্স অপারেশন পরিচালনা করতে সক্ষম এমন বিমানের নয়টি স্কোয়াড্রন বহন করতে পারে।
গত সপ্তাহের প্রথম দিকে এটি পূর্ব ভূমধ্যসাগরে পৌঁছেছে। ইসরাইলের নিরাপত্তা জোরদার করতে আরও একটি বিমানবাহী রণতরি ইউএসএস ডোয়াইট আইজেনহাওয়ার ও এর স্ট্রাইক গ্রুপকে মোতায়েন করেছে। পরবর্তীতে এটি ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ড ক্যারিয়ার স্ট্রাইকের সঙ্গে যোগ হবে।
আইজেনহাওয়ার স্ট্রাইক গ্রুপে রয়েছে গাইডেড মিসাইল ক্রুজার ইউএসএস ফিলিপাইন সি (সিজি-৫৮), গাইডেড মিসাইল ডেস্ট্রয়ার ইউএসএস ল্যাবুন (ডিডিজি-৫৮), ইউএসএস মেসন (ডিডিজি-৮৭) এবং ইউএসএস গ্রেভলি (ডিডিজি-১০৭)।
মার্কিন বিমানবাহিনীর যুদ্ধবিমান
মধ্যপ্রচ্যজুড়ে বিমান ঘাঁটিগুলোতে এ-১০. এফ-১৫ ও এফ-১৬ স্কোয়াড্রোনগুলোকে শক্তিশালী করতে অতিরিক্ত যুদ্ধবিমানও পাঠানো হয়েছে। তবে যুদ্ধের প্রতিক্রিয়ায় বিমানবাহিনী কী মিশন নিতে পারে সে বিষয়ে বিমানবাহিনী বা কেন্দ্রীয় কমান্ড কেউ কোনো মন্তব্য করেনি। ইসরাইলকে সহায়তা করতে পূর্ব ভ‚মধ্যসাগরে টহল জাহাজও পাঠানো হবে।বৃহস্পতিবার ব্রিটেনের এক সংবাদমাধ্যম জানায়, পূর্ব ভূমধ্যসাগরে টহল ও নজরদারি বিমানের পাশাপাশি দুটি রয়্যাল নেভি জাহাজও মোতায়েন করা হবে।
প্রবাস বাংলা ভয়েস /ঢাকা/ ১৭ অক্টোবর ২০২৩ /এমএম





