প্রবাস বাংলা ভয়েস ডেস্ক :: ইউক্রেনে সামরিক অভিযানের বিকল্প ছিল না বলে মন্তব্য করেছেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। তার যুক্তি, পূর্ব ইউক্রেনের রুশভাষী মানুষকে ইউক্রেনের সেনাদের হামলা থেকে রক্ষার জন্যই সামরিক অভিযান শুরু হয়। আর সামরিক অভিযানের চূড়ান্ত লক্ষ্যও অর্জিত হবে বলে মন্তব্য পুতিনের।গতকাল মঙ্গলবার প্রথম মানব হিসেবে রুশ নভোচারী ইউরি গ্যাগারিনের মহাকাশ ভ্রমণের ৬১ বছর পূর্তি উপলক্ষে ভস্তোচনি কসমোদ্রোম রকেট উৎক্ষেপণকেন্দ্রে জনসম্মুখে বক্তব্য দেন পুতিন। এ সময় পুতিনের সঙ্গে বেলারুশের প্রেসিডেন্ট আলেকজান্ডার লুকাশেনকোও উপস্থিত ছিলেন। গত ২৪ ফেব্রুয়ারি ইউক্রেনে সামরিক অভিযান শুরুর পর এটি মস্কোর বাইরে পুতিনের প্রথম সফর।
ইউক্রেনে নব্য-নাৎসিবাদ ও রাশিয়ার বিরুদ্ধে উগ্র-জাতীয়তাবাদ লালনের অভিযোগ করেন পুতিন। তবে ইউক্রেন ও তার পশ্চিমা মিত্ররা সামরিক অভিযানের জন্য এ অভিযোগের বৈধতা দিতে নারাজ। কারণ যুদ্ধের আগে কোনো ডানপন্থী ইউক্রেনের পার্লামেন্টে সদস্য নির্বাচিত হয়নি।পুতিন বলেন,‘আমাদের কাজ হলো, নির্ধারিত সব লক্ষ্য অর্জন, ক্ষয়ক্ষতি কমিয়ে রাখা। আমরা ধারাবাহিকতা মেনে, ধীরস্থিরভাবে মূলত (সামরিক বাহিনীর) জেনারেল স্টাফের দেওয়া পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ করছি।’
ইউক্রেনের অভিযানে লক্ষ্য অর্জিত হচ্ছে কি না, রুশ মহাকাশ সংস্থার কর্মীদের এমন প্রশ্নের উত্তরে পুতিন বলেন,‘অবশ্যই। এ নিয়ে আমার কোনো ধরনের সংশয় নেই। এই অভিযানের লক্ষ্যগুলো একেবারেই স্পষ্ট এবং মহৎ। সব লক্ষ্যই যে অর্জিত হবে, এ নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই।’
সম্প্রতি ইউক্রেনের বড় শহরগুলো থেকে সেনা সরিয়ে নেয় রাশিয়া। ইউক্রেন দাবি করেছিল, তাদের সেনাদের প্রতিরোধের কারণে রুশ সেনারা পিছু হটে। তবে এমন দাবি উড়িয়ে দিয়েছেন পুতিন। তিনি বলেন,‘ইউক্রেনের কিছু অঞ্চলে আমাদের সামরিক অভিযান ছিল কেবলই শত্রুদের অবরুদ্ধ করে রাখা, সামরিক স্থাপনা ধ্বংস এবং দনবাসে আরও সক্রিয় অভিযান চালানোর পরিবেশ তৈরির জন্য।’
রাজধানী কিয়েভের উপকণ্ঠে বুচা শহরে বেসামরিক নাগরিকদের শত শত লাশ পাওয়ার দাবি করেছিল ইউক্রেনের সরকার। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোও একই দাবি করে। তবে এ ঘটনাকে ‘ভুয়া’ বলে দাবি করেছে পুতিন।এ সময় পশ্চিমা অবরোধের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন,‘আমাদের বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ার ইচ্ছা নেই। আধুনিক এই যুগে কাউকে একঘরে করে ফেলা সম্ভব নয়, বিশেষ করে রাশিয়ার মতো বিশাল দেশকে।’
প্রবাস বাংলা ভয়েস/ঢাকা/ ১৩ এপ্রিল ২০২২ /এমএম





