প্রবাস বাংলা ভয়েস ডেস্ক :: ঘূর্ণিঝড় ইয়াসে প্রাণহানি এড়াতে উপকূলবর্তী এলাকা থেকে বাসিন্দাদের সরানোর কাজ শুরু করেছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার। রাজ্যের বিপর্যয় মোকাবিলা দপ্তরের তত্ত্বাবধানে এই কাজ শুরু হয়েছে। সবচেয়ে আগে সরানো হচ্ছে দক্ষিণ ২৪ পরগনা ও পূর্ব মেদিনীপুর জেলার উপকূলবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের।
পশ্চিমবঙ্গ বিপর্যয় মোকাবিলা মন্ত্রী জাভেদ খান বলেছেন, ‘মাইকিং ও এসএমএস মারফত উপকূলবর্তী এলাকা থেকে সাধারণ মানুষকে সরানোর কাজ শুরু হয়েছে। ঘূর্ণিঝড় ইয়াস স্থলভাগের কোথায় আছড়ে পড়বে তা এখনও জানা যায়নি। বিষয়টি আমাদের কাছে স্পষ্ট হলেই সমুদ্র উপকূলবর্তী এলাকা থেকে মানুষজনকে সরানোর কাজে গতি আসবে।’
ভারতের এই রাজ্যের বিপর্যয় মোকাবিলা দপ্তর মনে করছে, প্রায় ৪-৫ লক্ষ মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হতে পারে। এ ক্ষেত্রে আম্পানের সময়ের অভিজ্ঞতা কাজে লাগানো হচ্ছে।আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, ২৬ মে সকালে পশ্চিমবঙ্গ, ওড়িশা ও বাংলাদেশ উপকূলের খুব কাছে চলে আসবে ঘূর্ণিঝড় ইয়াস। ওইদিন সন্ধ্যায় উপকূলে আছড়ে পড়বে ঘূর্ণিঝড়।
ফ্লাড সেন্টার-সহ বিপর্যয় মোকাবিলার যাবতীয় পরিকাঠামো যুদ্ধকালীন তৎপরতায় প্রস্তুত করা হচ্ছে। সাধারণ মানুষকে সচেতন করতে মাইকের মাধ্যমে প্রচার চালানো হচ্ছে। মৎস্যজীবীদের সমুদ্রে যেতে নিষেধ করা হয়েছে।এরই মধ্যে পূর্ব মধ্য বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় সৃষ্ট গভীর নিম্নচাপটি ঘূর্ণিঝড় ইয়াসে পরিণত হয়েছে। বাড়ছে বাতাসের গতি। ঘূর্ণিঝড়ের কারণে কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, মোংলা, পায়রা সমুদ্রবন্দর ও উপকূলীয় এলাকায় দুই নম্বর দূরবর্তী হুঁশিয়ারি সংকেত দিয়েছে আবহাওয়া অফিস।
ঘূর্ণিঘড় কেন্দ্রের ৫৪ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা গতিবেগ ৬২ কিলোমিটার রয়েছে। এটা দমকা ও ঝড়ো হাওয়া আকারে ৮৮ কিলোমিটার পর্যন্ত বাড়ছে।ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের নিকটে সাগর বিক্ষুব্ধ রয়েছে। উত্তর বঙ্গোপসাগর ও গভীর সাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারগুলোকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত নিরাপদ আশ্রয়ে থেকে চলাচল করতে বলা হয়েছে। সেই সঙ্গে তাদের গভীর সাগরে না যেতে বলা হয়েছে।
প্রবাস বাংলা ভয়েস/ঢাকা/ ২৪ মে ২০২১ /এমএম





