প্রবাস বাংলা ভয়েস ডেস্ক :: মিয়ানমারে সামরিক অভ্যুত্থানের পাঁচ বছর পর এবার আনুষ্ঠানিকভাবে দেশটির প্রেসিডেন্টের চেয়ারে বসতে যাচ্ছেন জান্তা প্রধান সিনিয়র জেনারেল মিন অং হ্লাইং। সোমবার (৩০ মার্চ) দেশটির নবগঠিত পার্লামেন্ট অধিবেশনে তাকে প্রেসিডেন্ট পদের জন্য মনোনীত করা হয়েছে। প্রধান বিরোধী দলগুলোকে বর্জন করে আয়োজিত একটি বিতর্কিত নির্বাচনের পর এই পদক্ষেপ নেওয়া হলো।
সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মিন অং হ্লাইং-এর প্রেসিডেন্ট হওয়া এখন কেবল সময়ের ব্যাপার। তার সাথে নামমাত্র প্রার্থী হিসেবে আরও দুজন অনুগত ব্যক্তিকে রাখা হয়েছে, যারা বাস্তবে কোনো প্রতিদ্বন্দ্বিতাই গড়তে পারবেন না। এছাড়াও বর্তমান পার্লামেন্টের প্রায় ৯০ শতাংশ সদস্য জান্তা প্রধানের অনুগত। এদের মধ্যে এক-চতুর্থাংশ সরাসরি সামরিক বাহিনীর কর্মকর্তা এবং বাকিরা সেনাসমর্থিত দলের সদস্য।
মিয়ানমারের সংবিধান অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট পদে আসীন হতে হলে মিন অং হ্লাইংকে সশস্ত্র বাহিনীর প্রধানের পদ ছাড়তে হবে। এই রদবদল তার জন্য কিছুটা ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। কারণ সামরিক বাহিনীর শীর্ষ পর্যায়ে তার নেতৃত্বের প্রতি অসন্তোষ রয়েছে।
তবে এই ঝুঁকি সামলাতে তিনি তার স্থলাভিষিক্ত হিসেবে অত্যন্ত কট্টরপন্থী ও অনুগত জেনারেল ইয়ে উইন ও-কে সেনাপ্রধান হিসেবে বেছে নিয়েছেন। পাশাপাশি, একটি নতুন ‘পরামর্শক কাউন্সিল’ গঠন করেছেন, যার মাধ্যমে তিনি পর্দার আড়াল থেকে সামরিক ও বেসামরিক উভয় বিভাগ নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন।
২০২১ সালের অভ্যুত্থানের পর থেকে মিয়ানমারে চলা গৃহযুদ্ধে হাজার হাজার মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। ঘরবাড়ি ছেড়ে পালিয়েছেন লাখ লাখ মানুষ। যদিও জান্তা সরকারের দাবি করেছে, সাম্প্রতিক নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু হয়েছে। কিন্তু জাতিসংঘ এবং পশ্চিমা বিশ্ব ওই নির্বাচনকে ‘প্রহসন’ বলে আখ্যা দিয়েছে।
গত ডিসেম্বর ও জানুয়ারিতে অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনে অধিকাংশ রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ ছিল এবং দেশের বিশাল এলাকা যুদ্ধের কারণে ভোট প্রক্রিয়ার বাইরে ছিল।
মিন অং হ্লাইং দীর্ঘকাল ধরে প্রেসিডেন্ট হওয়ার ইচ্ছা পোষণ করেছিলেন বলে জানা যায়। ২০২০ সালের নির্বাচনে সামরিক দলের শোচনীয় পরাজয়ের পর এই পদ না পাওয়ার আশঙ্কাটিই ছিল অং সান সু চির নেতৃত্বাধীন নির্বাচিত সরকারকে উৎখাত করার পেছনে একটি বড় কারণ।
সংবিধান অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট হওয়ার জন্য সশস্ত্র বাহিনীর কমান্ড পদ ছেড়ে দেওয়ায় মিন অং হ্লাইংয়ের জন্য এক প্রকার ঝুঁকি রয়েছে। জানা গেছে, সিনিয়র কমান্ডারদের মধ্যে এমন অনেকে আছেন যারা তার নেতৃত্বে অসন্তুষ্ট।
ইতোমধ্যে সশস্ত্র বাহিনীর কমান্ড পদে মিন অং হ্লাইংয়ের স্থলাভিষিক্ত একজন কট্টর অনুগত জেনারেল ইয়ে উইন ও-কে বেছে নিয়েছেন, যার ভিন্নমতালম্বীদের প্রতি নৃশংস আচরণের কুখ্যাতি রয়েছে। তবে ঝুঁকি হলো, একবার মিন অং হ্লাইং সামরিক বাহিনীর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেললে তিনি তার ক্ষমতার কিছু অংশ হারাতে পারেন।
মিয়ানমারে পরবর্তী যে প্রশাসনই আসুক না কেন, তা হবে সামরিক জান্তার একটি বর্ধিত সংস্করণ। মিন অং হ্লাইং তার সহযোগীদের পক্ষ থেকে দমন-পীড়ন বন্ধ বা গণতন্ত্রে ফেরার কোনো লক্ষণ এখনও দেখা যায়নি। ফলে প্রেসিডেন্ট হিসেবে মিন অং হ্লাইং-এর অভিষেক মিয়ানমারের রাজনৈতিক সংকটে কোনো ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে কি না, তা নিয়ে জনমনে গভীর সংশয় রয়েছে।
প্রবাস বাংলা ভয়েস/কানাডা/৩০ মার্চ ২০২৬/এএ





